আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

রেলে মৃত্যুফাঁদ

একই দিনে দেশে তিনটি রেল দুর্ঘটনা ঘটল। সোমবার ভোরে অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোরের কাছে ট্রেনের কামরায় জীবন্ত অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেলেন ৩২জন যাত্রী। আগুনে মারাত্মকরকম জখম হয়েছেন ২৫জনেরও বেশি যাত্রী। নয়াদিল্লি-চেন্নাই-তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের এস-১১ কামরায় আগুন লেগে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সোমবার দুপুরে রেলের দিল্লি ডিভিসনে সাম্পলা এবং আসাউদা স্টেশনের মাঝে প্রহরীবিহীন ‍‌লেভেল ক্রশিং-এ ভাতিন্দা-দিল্লি কিষাণ এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ২জনের মৃত্যু হয়। এদিনই অমৃতসরের কাছে মেহতাব সিং গ্রামে সেই প্রহরীবিহীন লেভেল ক্রশিংয়েই আর একটি দুর্ঘটনায় ৪জন স্কুলছাত্রী প্রাণ হারিয়েছে। একটি দ্রুতগামী লোকাল ট্রেন একটি স্কুলবাসকে ধাক্কা মারায় ঐ দুর্ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক কয়েক বছর হলো গোটা দেশে একের পর এক রেল দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। গত তিন বছরে রেল দুর্ঘটনার ১৭৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা ব্যানার্জি রেল দুর্ঘটনা রুখতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত ১৪ মাসে তৃণমূল ২বার রেলমন্ত্রী বদল করেছে। প্রথমে দীনেশ ত্রিবেদী। পরে গত মার্চ মাস থেকে মন্ত্রী হয়েছেন মুকুল রায়। গত তিন বছর ধরেই তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে রেলমন্ত্রক চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। রেলের আর্থিক ও প্রশাসনিক দেউলিয়া অবস্থা থেকে প্রমাণিত হয়েছে তৃণমূল ঐ মন্ত্রকটি হাতে রেখেছে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি তৃণমূলের রেলমন্ত্রীরা। মমতা ব্যানার্জির মত বর্তমান রেলমন্ত্রীও ব্যস্ত থাকেন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্ম নিয়ে। তৃণমূল নেত্রীর ফাই-ফরমাশ খাটতেই সদা তৎপর বর্তমান রেলমন্ত্রী। সেই একই ট্র্যাডিশনকে বহন করে বর্তমান রেলমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে কিছু লোক দেখানো রেলপ্রকল্পে শিলান্যাস করে চলেছেন। নাম বদলে, রঙ বদলে কিছু ট্রেনের উদ্বোধন করছেন। মুকুল রায় পশ্চিমবঙ্গের রেলমন্ত্রী না দেশের রেলমন্ত্রী তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রেলের যাত্রী সুরক্ষা তথা দুর্ঘটনা এড়ানো নিয়ে গত তিন বছরে ‍‌কোন্‌ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? রেলে নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। যেসব পদ শূন্য রয়েছে তাদের মধ্যে অসংখ্য পদ যাত্রী নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। দিনের পর দিন কয়েক হাজার লেভেল ক্রশিং প্রহরীবিহীন অবস্থায় থাকছে। নিয়োগ না থাকায় অনেক অনভিজ্ঞ কর্মীকে দিয়ে দ্রুতগামী ট্রেন চালানো হচ্ছে। সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে না। দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে রেলকর্মীদের ওপর। গতকালের নেল্লোরের ঘটনায় স্টেশনের কাছে এক রেলকর্মী কামরায় ধোঁয়া দেখতে পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। কিন্তু আজকের এক‍‌টি ট্রেনের সর্বত্র আগুন বা ধোঁয়া দেখা দিলে কেন তা সতর্ক করার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকবে না? প্রত্যেকটি কামরায় আগুন নেভানোর জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কি রাখা হয়? আগুন নেভানোর জন্য দক্ষ কর্মী কি প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকে? এরকম অসংখ্য প্রশ্ন রয়েছে রেলে যাত্রী সুরক্ষাকে ঘিরে। রেল লাইনের অবস্থাও অনেক জায়গায় শোচনীয়। কয়েক দিন আগে কলকাতার মধ্যে একটি লোকাল ট্রেন বড়রকম দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগামী ৫ বছরের জন্য রেলমন্ত্রক ৫লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকার আধুনিকীকরণ কর্মসূচীর কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই প্রকল্পে নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। রেলমন্ত্রী থেকে শীর্ষ কর্তাদের পরিকল্পনার অভাব ও গাফিলতির ফলে রেলযাত্রা এখন আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। ‍লোকাল থেকে দূরপাল্লা সব ট্রেনই এখন যাত্রীর মৃত্যু- ফাঁদ।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below