আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

প্রশ্ন ভট্টাচার্যের : এরাজ্যে
সরকার চলছে, না ক্লাব?

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ৫ই আগস্ট – ‘পশ্চিমবঙ্গে সরকার চলছে, না ক্লাব চলছে?’ রবিবার সরাসরি এই প্রশ্ন তুললেন সি পি আই (এম) নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

এদিন মহাজাতি সদনে কমরেড মুজফ্‌ফর আহ্‌মদের ১২৪তম জন্মদিবস উপলক্ষে জনসভায় তিনি বলেন, এই সরকার সম্পর্কে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। মাত্র এক বছরেই পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-কৃষিতে পশ্চাদ্‌গতি শুরু হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলায় একটা চরম অরাজকতা শুরু হয়েছে। মহিলাদের ওপর অত্যাচার সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। একে বন্ধ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সততার অভাব স্পষ্ট। নীতিহীনতা, কর্মসূচীহীনতা, দিশাহীনতা এরাজ্যকে অন্ধকারে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ভট্টাচার্য বলেন, এই অন্ধকারে সরকারের একমাত্র মুখ হচ্ছে আলো, তাও শুনছি নিভে যাচ্ছে। নীল-সাদা রং হচ্ছে, আর উৎসব হচ্ছে। এ কি সরকার চলছে, না ক্লাব চলছে? তিনি বলেন, এভাবে সরকার চলে না, চালানো যায় না। সরকারের সঙ্গে জড়িত রাজ্যের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। তাই মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এই ভয়াবহ সরকারের মুখোমুখি আমাদের হতে হবে।

তৃণমূল জোট সরকারের মাত্র এক বছরেই এরাজ্যের শিল্প-কৃষিসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে এদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, বামফ্রন্ট সরকার ঘাটতি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে ধীরে ধীরে ধানে স্বয়ম্ভর রাজ্যে পরিণত করেছিল। কিন্তু মাত্র এক বছরেই এরাজ্যে কৃষিতে যে পশ্চাদ্‌গতি শুরু হয়েছে, তা এখন সবাই বলছেন। কৃষি উৎপাদন যে পড়ে যাবে এই আশঙ্কা করছেন সকলেই। মাত্র এক বছরেই কেন এই ধাক্কা? গ্রামের অবস্থা ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছে গেছে। কৃষক একটার পর একটা ফসল ফলাচ্ছেন, কেনার লোক নেই। ধানের দাম পেলেন না, পাটের দামও পেলেন না। সরকারও কিনলো না। বাধ্য হয়ে উৎপাদন করতে যা খরচ হয়েছে, তার থেকে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়েছেন। এবছর অনেকেই চাষ করতে পারেননি। চাষ নেই, তাই গ্রামে গরিবের কাজও নেই। গরিব মানুষ কোথায় যাবেন? যেখানে বৃষ্টি হয়েছে, সেখানে একটু কাজ মিললেও, অন্য জায়গায় হাহাকার। গরিব মানুষ গ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন। ভট্টাচার্য বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে গরিব মানুষের গ্রাম ছাড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার তা শুরু হয়েছে।

রাজ্যের শিল্পে যে অনিশ্চিত অবস্থা তৈরি হয়েছে, তার উল্লেখ করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, বামফ্রন্ট সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে এরাজ্যে শিল্প গড়ার একটা পরিবেশ তৈরি করেছিল। এরাজ্যেও যে শিল্প গড়া সম্ভব সেই বার্তা দেওয়া গিয়েছিল এবং বিনিয়োগ আসছিল। শিল্পে একটা গতিও সঞ্চার হয়েছিল। গত এক বছরে সেটা শূন্যে গিয়ে ঠেকেছে। একটাও নতুন প্রস্তাব আসেনি। যেগুলো এসেছে, তার একটাও নতুন না, আমাদের সরকারের সময়েই প্রস্তাব এসেছিল। ইনফোসিস চলে যাচ্ছে কেন? কত চেষ্টা করে আমরা ইনফোসিসকে এরাজ্যে নিয়ে এসেছিলাম। গত এক বছরে আই টি-তে নতুন একজনের চাকরি হয়নি। অথচ আগে আই টি-তে প্রতি বছর চার-পাঁচ হাজার করে নতুন ছেলে-মেয়ে কাজ পাচ্ছিলো। শালবনিতে আমরা ইস্পাত কারখানার কাজ শুরু করেছিলাম। এখন সেটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইস্পাত শিল্পে আরো যে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল, তার একটাও আর নেই। এরাজ্যে শিল্প করতে কেউ আর আসছে না। কারণ এই সরকারের কোনো নীতি নেই, কর্মসূচী নেই, দিশা নেই। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো থেকে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ে পাস করে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে, আমরা রাজ্যে তাদের ধরে রাখতে পারছি না।

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে এদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, যে চরম অরাজকতা শুরু হয়েছে, তার পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কেউ বলতে পারছেন না। যা ইচ্ছে তাই হচ্ছে, বিশেষ করে মহিলাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ শুরু হয়েছে, তা ভয়াবহ। তোলাবাজি, গুণ্ডামি, প্রোমোটারি বেপরোয়াভাবে চলছে। বাড়িতে ঢুকে গুলি করে খুন করে চলে যাচ্ছে, কেউ দেখার নেই। সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে মহিলাদের ওপর আক্রমণ। ভট্টাচার্য বলেন, অতীতে মহিলাদের ওপর অত্যাচার হয়নি, এ দাবি কেউই করবে না। কিন্তু এখন গ্রামে, শহরে, স্কুলে, কলেজে, হাসপাতালে, সর্বত্র যেভাবে মহিলারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাতে সারা দুনিয়ায় আমাদের রাজ্যের একটা খারাপ চিত্র তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আসলে নতুন সরকার আসার পর সমাজবিরোধীদের কাছে একটা বার্তা গেছে, তারা উৎসাহিত হয়েছে এই ভেবে যে এবার তাদের সরকার এসে গেছে। তাই ওরা যেখানে সেখানে হাত দিচ্ছে। কে ওদের রাশ টানবে? এই পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান কী, এই প্রশ্নে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান কী? রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এসব বন্ধ করা যায় না? রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সততার যে অভাব আছে, তা বোঝা যাচ্ছে, এই সব ঘটনা সরকারের আড়াল করার চেষ্টা দেখে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘ছোট ঘটনা’, ‘মিথ্যা প্রচার’, ‘ষড়যন্ত্র’। এসব কথার মানে কী, আড়াল করার চেষ্টা নয়? ভট্টাচার্য বলেন, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমন করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সততার অভাব থাকলে কোনোদিন এই সমস্যা মিটবে না।

এই প্রেক্ষাপটে এরাজ্যে বাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের ভূমিকা উল্লেখ করে ভট্টাচার্য বলেন, এই মুহূর্তে রাজ্যের গণআন্দোলনের চাহিদা হলো, গরিব শ্রমজীবী সমস্ত মানুষকে পাশে নিয়ে এই ভয়াবহ সরকারের মুখোমুখি হওয়া। তিনি বলেন, আমরা, গণআন্দোলনের কর্মীরা আন্দোলনের ময়দানেই আছি। পরিস্থিতি কঠিন হলেও আমরা মাঠ ছেড়ে যাইনি, জমি ছেড়ে আমরা যাবো না। মানুষকে নিয়েই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ভট্টাচার্য কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যে গরিব, শ্রমজীবী মানুষ, যাদের লালঝান্ডা ছাড়া আর কেউ নেই, আমাদের কাছ থেকে সরে যাওয়া সেই মানুষকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। তাঁদের কাছে আমাদের যেতে হবে বন্ধুর মতো, প্রভু হয়ে নয়। এটা খুবই কঠিন কাজ, অনেক পরিশ্রম এর জন্য করতে হবে। কিন্তু এটাই রাজ্যের গণআন্দোলনের চাহিদা। কাকাবাবুর জন্মদিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শুরুতে কাকাবাবুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে , তাঁর মতো মানুষেরা প্রাক-স্বাধীন ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র মতাদর্শের শক্তিতে ভর করে কিভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে এদেশে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার উল্লেখ করেন। বর্তমান পুঁজিবাদী সঙ্কটের প্রেক্ষিতে সেই মতাদর্শ, মার্কসবাদকে যে নতুন করে মানুষ আঁকড়ে ধরতে চাইছেন, তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এদেশের শাসকরা আমেরিকা-ইউরোপের দেশগুলি যে নীতির ফলে সঙ্কটে পড়েছে, তাকেই এখানে অনুসরণ করছে। এর ফলে বেকারী, দারিদ্র্য, ক্ষুধা আরো বাড়ছে। বড়লোক আরো বড়লোক হচ্ছে। এপথে দেশের আসল সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। সরকারকে গরিব মানুষের স্বার্থে নীতি নিতে হবে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below