আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

তৃণমূলের জুলুমে চালু্
কারখানাই বন্ধের মুখে

নিজস্ব সংবাদদাতা

দুর্গাপুর, ৫ই আগস্ট— তৃণমূলী অরাজকতায় জেরবার হয়ে জামুড়িয়া থেকে চালু কারখানা তুলে নিতে চাইছে শ্যামসেল অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সংস্থা। রবিবার নিংঘায় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিপ্রায়ের কথা জানালেন সংস্থার কর্তৃপক্ষ। জামুড়িয়ার বামফ্রন্ট সরকারের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে নতুন শিল্পতালুক। বিজয়নগরে ২০০৭ সালে শ্যামসেল কারখানা তৈরি শুরু করে। ৯০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে এখানে তৈরি হয়েছে ইস্পাত, টি এম টি বার, ফেরো অ্যালয় ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথমে ১৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হয়েছে। দ্বিবতীয় পর্যায়ে আরো ৪৩ মেগাওয়াটের কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। কারখানায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন চালু হয়েছে বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই।

রাজ্যে ‘পরিবর্তন’-এর সরকার আসীন হবার পর এই কারখানাকে ঘিরে চলছে তৃণমূলী নৈরাজ্য। গত ২রা আগস্ট থেকে কারখানার গেটে ‘অনশন’ আন্দোলনের নামে চরম নৈরাজ্য চালাচ্ছে তৃণমূলীরা। শনিবার রাতে কারখানার গেটে প্রহরারত নিরাপত্তারক্ষীকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। গেটে প্রহরী তুলে নেবার জন্য শাসানো হয়েছে। তৃণমূলের ব্লক যুব সভাপতি অভিজিৎ চক্রবর্তীর নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

সাংবাদিক সম্মেলনে কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৪ মাস ধরে লাগাতার নৈরাজ্য-হুমকির মুখে কারখানা চালাতে হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে পুরানো শ্রমিকদের বের করে দাও। তৃণমূল নেতাদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কারখানায় নিয়োগ করতে হবে। কারখানায় ঢুকে ব্যাপক লুঠপাট চুরি চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এবং শ্রমিকদের শিফ্‌ট বাস আটক করা হয়েছে রাস্তায়। কাঁচা মাল বোঝাই ট্রাক আটক করা হয়েছে। স্থানীয় থানায় ৮/৯বার অভিযোগ করা হয়েছে। হুমকি, হামলা, অরাজকতা বন্ধ হয়নি। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে কর্তৃপক্ষ ছুটে গেছে বহুবার। তথাপি অত্যাচার বন্ধ হয়নি। জেলাশাসকসহ প্রশাসনের সর্বস্তরে নিরাপত্তা চেয়ে দরবার করেছে কর্তৃপক্ষ। কারখানায় ৭০ শতাংশ শ্রমিক স্থানীয়। এরা মূলত অদক্ষ শ্রমিক। ২২ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক। এদের ইন্টারভিউয়ের মধ্যদিয়ে বহাল করা হয়েছে। জামুড়িয়ার বিভিন্ন গ্রামের ৩০০জন শ্রমিকও প্রথম থেকেই কাজ করছেন। এদের তাড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতাদের কথা মতো ‘লোক’ নিতে হবে এটাই ওদের দাবি।

আন্দোলনের নামে লাগাতার নৈরাজ্য চালানো হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, কারখানা চালানোর মতো পরিবেশ চাই। অন্যথায় কারখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। এমনই বলেছে কর্তৃপক্ষ।

শ্যামসেল বর্ধমানের দুর্গাপুর, রানীগঞ্জ, জামুড়িয়াতে ৬টি কারখানা চালাচ্ছে। মেঘালয়, দার্জিলঙসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে কারখানা। বাৎসরিক টার্নওভার ১৫ হাজার কোটি টাকা। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সহসভাপতি আর কে চৌধুরী, ম্যানেজার সুমিত চক্রবর্তী, রাজীব দাশগুপ্ত প্রমুখ।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below