আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

ত্রাণ শিবিরে অসুস্থ ৬০০০শিশু
ফের হিংসায় আসামে হত আরো ৫জন

সংবাদ সংস্থা

গুয়াহাটি, ৫ই আগস্ট— টানা দশ দিন থমথমে শান্তির পরে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়লো আসামের স্বশাসিত বোড়ো এলাকার জেলাগুলিতে। নতুন করে হিংসাত্মক ঘটনার শিকার আরো ৫জনের দেহ রবিবার মিললো চিরাঙ এবং কোকরাঝাড় জেলায়। এই নিয়ে রাজ্যে জনজাতির সঙ্ঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৬১। এদিন চিরাঙ জেলায় ৩টি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি কোকরাঝাড় জেলায় মিলেছে আরো ২টি দেহ। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছেনা আরো একজনের।

রবিবার চিরাঙের এস পি কুমার সঞ্জীব কৃষ্ণ জানান, জেলার বোরলাংশু গ্রাম থেকে ৩টি গুলিবিদ্ধ দেহ মিলেছে। কাওয়াটিকা গ্রামে ঘরছাড়া মানুষের আশ্রয়ের জন্য তৈরি শিবিরের বাসিন্দা এক ব্যক্তি এবং তাঁর দুই ছেলে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎই বেরিয়ে যান। তারপর থেকেই তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। রবিবার তাঁদের মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায় বোরলাংশু গ্রামে। শনিবার দুপুরেই এই তিনজনকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিসের প্রাথমিক ধারণা।

এদিকে, তিনজনের নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই চিরাঙে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার জেলার কিছু জায়গায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে, পুলিসের আই জি এস এন সিং কোকরাঝাড়ে ২জনের নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। আরো একজনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ফের হিংসা ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিস এবং আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে কোকরাঝাড় এবং চিরাঙ জেলায় রাতে কারফিউ জারি রয়েছে। একইসঙ্গে বি এল টি এ ডি-র অন্তর্গত জেলাগুলির বাইরে হিংসাকবলিত ধুবড়িতেও রয়েছে নৈশ কারফিউ। রবিবার গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ জনজাতি সঙ্ঘর্ষে ঘরছাড়া মানুষের আশ্রয়ের জন্য তৈরি শিবিরে সমস্ত রকমের সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজ্যের আধিকারিকদের। বিশেষত মা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে। ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজ তদারকি করার জন্য গঠন করা হয়েছে বিশেষ মন্ত্রিগোষ্ঠী (জি ও এম)। মুখ্যমন্ত্রী এই মন্ত্রিগোষ্ঠীকে ত্রাণ এবং উদ্ধারের কাজে আরো গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন। রবিবার গুয়াহাটিতে সংবাদসংস্থার পক্ষ থেকে এই খবর জানানো হয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ পরিচালনার জন্য রাজ্যের অর্থমন্ত্রী পৃথিবী মাঝিকে সভাপতি করে নবগঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা হলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়নমন্ত্রী তানকা বাহাদুর রাই, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি মন্ত্রী গৌতম রায়, খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী নজরুল ইসলাম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী রকিবুল হুসেইন এবং পরিবহনমন্ত্রী চন্দন ব্রহ্ম। কৃষিমন্ত্রী নীলামণি সেন ডেকাকে এই মন্ত্রিগোষ্ঠীর সদস্য সচিব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্যকে দ্রুত সন্ত্রস্ত অঞ্চলে সরেজমিনে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিয়েছেন।

গত ১৯শে জুলাই থেকেই আসামের কোকরাঝাড় এবং চিরাঙ জেলায় জনজাতি সঙ্ঘর্ষ ভয়াবহ আকার নেয়। ঘরবাড়ি ফেলে পালাতে বাধ্য হন চার লক্ষের ওপর মানুষ। হিংসা বন্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার। সম্প্রতি আসাম সফরে কোকরাঝাড়ে এসে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য ৩০০কোটি টাকার ত্রাণপ্রকল্প ঘোষণা করেন।

ইতোমধ্যেই রাজ্যের ত্রাণ শিবিরগুলির করুণ অবস্থার খবর খোদ সরকারের পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হয়েছে। রবিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিবিরগুলিতে আশ্রয়গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছে ৮হাজার শিশু। তার মধ্যে ৬হাজার শিশুই অসুস্থ। স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য, বি এল টি এ ডি অঞ্চলে তৈরি এই শিবিরগুলিতে ঘিঞ্জি পরিবেশে একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষের বসবাসের জন্যই এমন পরিস্থিতি। অধিকাংশ শিবিরেই খাবার, জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব রয়েছে। দিনকতক আগেই একটি শিবিরে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিবিরে আশ্রয়গ্রহণকারী প্রায় ৩লক্ষ ৫০হাজার মানুষের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১০০জন ডাক্তার।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below