বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট নিয়ে
সংশোধিত হবে ‘গার’ বিধি

সংবাদ সংস্থা

নয়াদিল্লি, ৮ই আগস্ট- কর ফাঁকি রোধ বিধি বা ‘গার’ চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন উঠেছে সংসদেও। বুধবার অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বলেছেন, গার খতিয়ে দেখতে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি হয়েছে তারা ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেবে। তখনই সংশোধিত বিধি ও নির্দেশিকা জারি করা হবে। অর্থমন্ত্রীর দাবি এর ফলে কর ফাঁকি রোধের প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না।

উল্লেখ্য, বকেয়া কর ফেরত নেবার জন্য ২০১২-১৩’র কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রস্তাব করেছিলেন তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি। এই সঙ্গেই কর ফাঁকি রোধ বিধি বা ‘গার’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দ্বৈত কর ছাড় চুক্তি কাজে লাগিয়ে ভারতেরই কালো টাকা হাত ঘুরে খাটছে শেয়ার বাজারে। গত বাজেটে এই কর ফাঁকি ঠেকানোর ব্যবস্থা বিধির প্রস্তাব করেন প্রণব মুখার্জি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই দেশী বিদেশী আর্থিক লগ্নিকারী বিভিন্ন সংস্থা সরবে আপত্তি জানাতে শুরু করে। কর্পোরেট মহল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মহলের প্রকাশ্য চাপের মুখে পিছিয়ে যায় সরকার। এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয় তার প্রয়োগ। প্রণব মুখার্জি অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পরেই ‘গার’ নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। কর্পোরেট ও বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বস্তির বার্তা দিতে চেয়ে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বিধি কেবল পর্যালোচনার স্তরে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তা দেখেননি। সব মহলের বক্তব্য না নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে না। তখনই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর পদে বসেই চিদাম্বরম জানিয়ে দিয়েছেন, প্রণব মুখার্জির ঘোষিত পদক্ষেপ ‘পর্যালোচনা’ করা হবে। প্রশ্ন উঠছে সরকারের মনোভাব নিয়েই।

গতকালই সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো বলেছিল, বহুজাতিক সংস্থাগুলি ভারতে যে সম্পত্তি বানাচ্ছে তার জন্য দেয় কর ছাড় দেবার রাস্তা করে দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ভারতীয় ও বিদেশী কর্পোরেটদের কর এড়ানোর কাজে মদত দেওয়া হচ্ছে। কর আইনে বকেয়া উদ্ধারের বিধি সংসদে অনুমোদিত অর্থ বিলের অংশ। সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা চলবে না।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement