স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা , ৮ই আগস্ট —সাজাপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুকুমার মুখার্জিকে বর্তমান রাজ্য সরকার স্বাস্থ্য দপ্তরের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ করায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার প্রথম দিনের শুনানি হলো বুধবার। বিচারপতি কল্যাণজ্যোতি সেনগুপ্ত এবং অসীমকুমার মণ্ডলের ডিভিসন বেঞ্চের এজলাসে এই শুনানি হয়। মামলা দায়ের হয়েছিল গত সপ্তাহে। প্রবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহার স্ত্রী অনুরাধা সাহার চিকিৎসা বিভ্রাটের কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে দায়িত্বে অবহেলা, ভুল চিকিৎসা ইত্যাদির অভিযোগে সাজা হয়েছিল ওই চিকিৎসকের।

বুধবার সকালে মামলার শুনানি পর্বে আবেদনকারী প্রবাসী চিকিৎসক কুণাল সাহা নিজেই তাঁর বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, গত ২০০৯ সালে ৭ই আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট ডাঃ সুকুমার মুখার্জির ‘রেজিস্ট্রেশন’ বাতিল করার নির্দেশ দেয় তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগের ভিত্তিতে। কলকাতায় বেসরকারী হাসপাতাল আমরিতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর স্ত্রী অনুরাধা সাহার মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্বামী ডাঃ কুণাল সাহা দীর্ঘ আইনী লড়াইয়ে মামলা জেতেন সুপ্রিম কোর্টে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে। মেডিক্যাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ২০১১ সালের ২৩ শে মে ঐ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল ঘোষণা করেছিল। শুধু তাই নয় কাউন্সিল গত ২১শে অক্টোবর কুণাল সাহার হাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে নিয়ে মৃতার চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে ৪০লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মিটিয়ে দেবার নির্দেশ দেয় ডাঃ সুকুমার মুখার্জিকে। এদিকে, ১২ই জুলাই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষে একটি সরকারী প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সেই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, ডাঃ সুকুমার মুখার্জিকে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর তথা চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালন সংক্রান্ত প্রশাসনের মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। কুণাল সাহা তারই প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রধান সচিব এবং মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই যেহেতু রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, সেহেতু আদালতের মাধ্যমে ডাঃ কুণাল সাহার অভিযোগ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

বিচারপতিদ্বয় এদিন এই মামলায় আবেদনকারীর মূল অভিযোগের বক্তব্য বিস্তারিত শুনে জানিয়েছেন পরবর্তী শুনানি ১৬ ই আগস্ট। এর মধ্যে হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ মামলার আবেদনকারীকে পরামর্শ দিয়েছে মামলায় রাজ্য সরকারকেও প্রত্যক্ষভাবে একটি পক্ষ করার জন্য।