কোর্ট মালদহ থেকে সিঙ্গাবাদ
এখনো এক কামরার ট্রেন চলে দিনে একবার

নিজস্ব সংবাদদাতা

মালদহ, ১১ই আগস্ট—মাত্র এক কামরার ট্রেন। দিনে মাত্র একবার যাতায়াত করে পুরাতন মালদহের কোর্ট মালদহ স্টেশন থেকে হবিবপুরের সিঙ্গাবাদ স্টেশন পর্যন্ত। যাত্রীর সংখ্যা হাতে গুনে বড়জোর দুই কিংবা তিন। শতাধিক বর্ষ প্রাচীন এই রেলগাড়ি। যায় সিঙ্গাবাদ স্টেশন থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। আর ৮ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার গোমেস্তাপুর থানার অর্ন্তগত রোহনপুর রেল স্টেশন। এই রেলপথটি ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগকারী প্রথম রেলপথ। স্বাধীনতার আগে এপথ ধরেই যাতায়াত করতেন দুই বাংলার মানুষ। এখনও দু’দেশের মধ্যে পণ্যবাহী মালগাড়ি যাতায়াত করে। তবে স্বাধীনতার পর থেকে যাত্রীবাহী ট্রেনের যাতায়াত বন্ধ। ফের ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনের যোগাযোগ চাইছেন পুরাতন মালদহের সীমান্তবর্তী সিঙ্গাবাদ গ্রামের মানুষ।

সিঙ্গাবাদ গ্রামের বৃদ্ধ গোকুলচন্দ্র বর্মণ জানালেন, তখন বাংলাদেশের বেশ‍‌ কিছু এলাকা ছিল মালদহ জেলার অংশ। চাঁপাই নবাবগঞ্জও ছিল মালদহের মধ্যে। দিনে দু’বার এই পথ ধরে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলত। মানুষের ভিড়ে গমগম করত সিঙ্গাবাদ স্টেশন। ট্রেন ছাড়ত কোর্ট মালদহ স্টেশন থেকে। এখান দিয়েই একসময় যাতায়াত করেছেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুরা। তবে সেসব দিন আর নেই। এখন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে গেলে দু’দেশের মানুষকে হয় মহদিপুর কিংবা হি‍‌লি সীমান্ত পেরোতে হয়। গোকুলচন্দ্র বর্মণের দাবি, দুই দেশের সরকার যদি এই রেলপথ দিয়ে ফের প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালাতো তবে সাধারণ মানুষের অনেক সুবিধা হতো। দুই দেশের মধ্যে বাড়তো মৈত্রীর সম্পর্ক। সিঙ্গাবাদের অপর এক বাসিন্দা কাজল চক্রবর্তী জানালেন, বিগত দিনে কোর্ট মালদা স্টেশন থেকে সিঙ্গাবাদ পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দিনে তিনবার যাতায়াত করতো। এখন এক কামরার একটি ট্রেন দিনে মাত্র একবার যাতায়াত করে। তারও নির্দিষ্ট কোনও টাইম টেবিল নেই। বিষয়টি রেল দফতরের দেখা উচিত।

তবে সাধারণ মানুষ যাই চান না কেন, বাস্তব পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। বর্তমানে এক কামরার ওই ট্রেনটি কোর্ট মালদহ স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করলেও সেখানে নেই কোনও টিকিট কাউন্টার। তবে সিঙ্গাবাদ স্টেশনে টিকিট কাউন্টার রয়েছে। স্টেশনের ম্যানেজার অশোককুমার দাস জানালেন, এক কামরার ওই ট্রেনটিতে দিনে পনেরো জনের বেশি যাত্রী হয় না। রেল দফতরের কাছে এটি একটি ‘লস প্রজেক্ট’। এই ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি নন এন এফ রেলের কাটিহার ডিভিসনের ম্যানেজার অনুজ শর্মাও। তিনি বলেন, এটি দু’দেশের সরকারের বিষয়। তবে এব্যাপারে সিঙ্গাবাদবাসীদের তরফে রেল দফতরকে এখনও পর্যন্ত লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।

Featured Posts

Advertisement