অস্থিরমতি নেত্রীর অধীনে সরকার চলছে রাজ্যে
মন্তব্য রবীন দেবের

নিজস্ব সংবাদদাতা

রানাঘাট, ১১ই আগস্ট — রাজ্যে এক অস্থিরমতি নেত্রীর পরিচালনায় সরকার চলছে। নেত্রী কখন যে কী বলেন তার কোনো অর্থ হয়ত নিজেই জানেন না। একবার বলে দিচ্ছেন অন্তত ১০বছর বিরোধীরা চুপ করে থাকবেন। আবার কখনও তিনি বলছেন ১বছরেই সব কাজ হয়ে গিয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে বাকি ৪বছর তার কাজ কি ? না, এ প্রশ্নও করা যাবে না। কারণ, তিনি চুপ করে থাকতে বলেছেন। শনিবার বিকেলে রানাঘাট শহর পার্শ্ববর্তী আইসতলার (রামনগর) মোড়ে এক জনাকীর্ণ সমাবেশে কথাগুলি বলেন সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব। তিনি এদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, কৃষকের কৃষিজ পণ্য সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচের জলের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদান, খাদ্য নিরাপত্তা, মহিলাদের শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে, রাজ্যে খুন, সন্ত্রাস, নারী, শিক্ষকদের উপর নির্যাতন বন্ধসহ ১১দফা দাবির সপক্ষে পার্টির রানাঘাট জোনাল কমিটির উদ্যোগে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। এদিন সকাল থেকেই প্রবল বর্ষণসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ছিল। তবুও ওই প্রতিকূল পরিবেশকে উপেক্ষা করে প্রায় ২হাজার মানুষ সমাবেশে হাজির ছিলেন।

রবীন দেব বলেন, ১৫মাস আগের কয়েক বছর ধরে তিনি বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন যা বলেছেন বা যা করেছেন সেটা নিশ্চয়ই তাঁর নিজের ও রাজ্যবাসীর মনে আছে। দিনের পর দিন অজস্র অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তিনি ক্ষমতায় এলে এক বছরেই ১০লক্ষ বেকারের চাকরি দেবেন বলেছিলেন। সিঙ্গুরে মানুষকে বিভ্রান্ত করে প্রথমে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বিধানসভা ভাঙচুর করালেন। পরে এমন বিধ্বংসী আন্দোলন শুরু করলেন, যার পরিণামে একটা প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া কারখানাকে রাজ্যছাড়া করে গুজরাটে পাঠিয়ে দিলেন। নেত্রী ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর থেকেই শুরু হয়েছে সি পি আই (এম) নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে পালা করে গ্রেপ্তার করে জেলে পোরার কাজ। কোনো প্রতিবাদ করা যাবে না। শিশু মৃত্যু ঘটছে, তিনি বলছেন— মোটেই না, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে গর্ভবতী মায়েদের অপুষ্টির কারণে মৃত্যু হয়েছে। কৃষক দেনার দায়ে আত্মহত্যা করছেন। তিনি বলছেন, মোটেই না, একজন কৃষকও আত্মহত্যা করেনি। পার্কস্ট্রীটে মহিলা ধর্ষিতা হলেন, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, না কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এমনকি রাজ্য পুলিশের ডি জি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে পাশে দাঁড় করিয়ে তদন্তের ফলাফল জানার আগেই তাঁদের দিয়ে তাঁর মন্তব্যের সপক্ষে বলালেন। এই ধরনের অসংলগ্ন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ঘটনা যদি চলতে থাকে তবে এই রাজ্যের সর্বনাশ হতে আর অবশিষ্ট কিছু থাকবে না। এখনই এর বিরুদ্ধে পাড়ায়, মহল্লায় প্রতিটি এলাকায় সোচ্চার প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হতে হবে। নইলে এই অন্যায়, অনাচার ও অগণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করার দায়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এদিনের সমাবেশে রবীন দেব ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পার্টির জেলা সম্পাদক সুমিত দে, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুকুমার চক্রবর্তী, পার্টিনেত্রী ঝরণা চ্যাটার্জী, পার্টিনেতা দেবাশিস চক্রবর্তী, প্রদীপ শর্মাচৌধুরী প্রমুখ। সভাপতি ছিলেন সনৎ সেনগুপ্ত।