আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

২৪শে বামপন্থী কৃষক সংগঠনগুলি যাবে মহাকরণে,
আট লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষই হলো না
আমনে, ধান কম হবে প্রায় ২০লক্ষ টন

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৮ই আগস্ট — আমন রোপণের সময়সীমা রাজ্যে শেষ। লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে আট লক্ষ হেক্টর জমি রইলো অনাবাদী। তবে কী আগামী দিনগুলিতে রাজ্যে চালের অভাব হবে? চালের দাম কতটা বাড়তে পারে? এইসব প্রশ্নের উত্তর দিতে মমতা ব্যানার্জির সরকারের কৃষি দপ্তর এখন পুরোপুরি নির্ভরশীল আগামী বোরোর ফলনের উপর।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৪শে আগস্ট প্রাদেশিক কৃষকসভা (হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবন)-সহ চারটি বামপন্থী কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা দেখা করবেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর সঙ্গে। এই বিষয়ে কৃষক নেতা নৃপেন চৌধুরী শনিবার জানিয়েছেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে খেতমজুরসহ গ্রামীণ গরিবের কাজের কী ব্যবস্থা হবে, কী হবে আগামী বোরো চাষের? এইসব বিষয়ে আমাদের কিছু পরামর্শ, বক্তব্য রয়েছে। তাই আমরা কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি।’’ উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে ২০১০-র খরার সময় ২২শে আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কথা বলতেও চাইলেও বৈঠকে যাননি দক্ষিণ ২৪পরগনার সভাধিপতি, তৃণমূল নেতা শামিমা খাতুন।

প্রাদেশিক কৃষকসভা (হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবন)-র সম্পাদক নৃপেন চৌধুরীর বক্তব্যের সূত্রে বলা যায় আমনের চাষ মার খাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বোরো চাষ। গত বোরোর মরসুমে ধান চাষ মুখ থুবড়ে পড়েছিল রাজ্যে। প্রায় বিশ শতাংশ কম বোরো চাষ হয়েছিল ২০১১-’১২-তে। খোলাবাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, রাসায়নিক-জ্বলানির দাম ক্রমাগত বেড়ে চলা বোরো চাষে কৃষকদের অনাগ্রহী করেছে, তা স্বীকার করেছিলেন খোদ কৃষিমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যই। তার উপর বিষফোঁড়ার মতো হয়ে উঠেছে রাজ্যে মমতা ব্যানার্জির সরকারের পদক্ষেপ। ফসলের দাম পাননি কৃষক। কৃষকদের থেকে সরাসরি ধান কেনার বদলে মিল মালিকদের উপর সরকারের অতি নির্ভরতা এই রাজ্যের গ্রামে এক পরিচিত ছবি হয়ে উঠেছে।

অথচ খাদ্যে সুরক্ষা আর ধানে স্বয়ম্ভর— দীর্ঘদিন ছিল এই রাজ্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এবার কী তা ভাঙতে চলেছে? মহাকরণে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‘আশঙ্কা পুরোপুরি যায়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি সমস্যা কাটানোর। ইতোমধ্যেই বিকল্প চাষের পরিকল্পনা হয়েছে।’’ রাজ্যে কৃষি বিভাগের অধিকর্তা পরিতোষ ভট্টাচার্য খানিক আশাবাদী, ‘‘১৫ই আগস্ট বপনের সময়সীমা পেরিয়েছে। তবে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কৃষকদের আমনের চারা রোপণে আমরা উৎসাহিত করছি।’’ তবে কৃষি দপ্তরেরই বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘‘আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর যা চাষ হয়, তাতে উৎপাদন ভালো হয় না।’’

অর্থাৎ আশার থেকে আশঙ্কার পাল্লা ভারী।

আপাতত কৃষি দপ্তরের নিরেট পরিসংখ্যানও সেই কথা বলছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল ৪২লক্ষ ৯০হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ। গত ১৭ই আগস্ট বিকালে জেলাগুলি থেকে চূড়ান্ত হিসাব এসে পৌঁছায় রাজ্যের কৃষি দপ্তরে। আর সেই হিসাব জানাচ্ছে — ৩৪লক্ষ ৪৪হাজার ৩৩৮হেক্টর জমিতে এবার আমন চাষ হয়েছে। আগামী দশদিনে তা বড়জোর আর দেড় লক্ষ হেক্টর বাড়তে পারে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল আমন থেকে ১১০ লক্ষ টন ধানের উৎপাদন। ১৭ই আগস্ট পর্যন্ত চাষ হওয়া এলাকার বিচারে উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৮৬লক্ষ ৮০হাজার টন ধান। অর্থাৎ ঘাটতি থাকবে প্রায় ২৩লক্ষ টন। আগামী দশদিনের রোপণে আর বড়জোর ৩লক্ষ টন উৎপাদন হতে পারে। অর্থাৎ আমনে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি হবে প্রায় ২০লক্ষ টন।

রাজ্য সরকার এই ঘাটতির দায় মূলত চাপিয়েছে বৃষ্টির উপর। কৃষি অধিকর্তার মতে, ‘‘গত জুন থেকে আগস্ট— এই সময়কালের বৃষ্টিপাতই আমন চাষের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে ৭৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি আকাঙ্খিত। হয়েছে ৬০০.৭মিলিমিটার। ঘাটতি প্রায় ২০শতাংশ। দক্ষিণবঙ্গে এই ঘাটতি প্রায় ২৯শতাংশ।’’ কিন্তু বৃষ্টির অভাব মেটাতে রাজ্য সরকারের কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। রাজ্যবাসীর বছরে প্রয়োজন প্রায় ১৪০লক্ষ টন ধান। অর্থাৎ আমনের ঘাটতি মিটিয়ে তা উসুল করতে হবে আগামী বোরোতে। গত বছরেই কৃষকরা বুঝিয়ে দিয়েছেন সেই চাষে তাঁরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে কী হবে? এখনই কোন সদুত্তর দিতে পারেননি কৃষিমন্ত্রীসহ রাজ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আধিকারিকরা।

আমন চাষে মূলত ঘাটতি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। মোট ৪৩লক্ষের মধ্যে শুধু দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেই ৩৩লক্ষ ৭৮হাজার ৪১০হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কৃষকরা চাষ করেছেন ২৫লক্ষ ৩৭হাজার ২৭২হেক্টর জমিতে। পাটিগণিতের সরল হিসাবে চাষ হয়নি প্রায় ২২শতাংশ এলাকায়। কৃষি অধিকর্তার বক্তব্য — বর্ধমান এবং হুগলীতে চাষ হয়েছে প্রায় লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি। বর্ধমানে ৯৫.২শতাংশ এবং হুগলীতে ৯১.৮শতাংশ জমিতে আমন হয়েছে। তবে এই দুটি জেলার সিংহভাগ জমি সেচসেবিত। ডি ভি সি-র জল দুই জেলাতেই আমনের ফলনকে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নিয়ে গেছে। তবে প্রভূত পরিমাণে সেচসেবিত নদীয়ায় ৭৯.৭ এবং হাওড়ায় ৮৪শতাংশের বেশি চাষ হয়নি। দুরবস্থা প্রকট দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলায়। কৃষি বিভাগের তথ্য জানাচ্ছে সবচেয়ে খারাপ হাল পূর্ব মেদিনীপুরে। সেখানে ৬০ শতাংশেরও কম জমিতে আমন হয়েছে — লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২লক্ষ ৫৬হাজার হেক্টর জমিতে চাষ। হয়েছে মাত্র ১লক্ষ ৪৭হাজার হেক্টর জমিতে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬২.৭ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৬৪.৯শতাংশ, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ৭০.৮শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৭৮.৮ শতাংশ জমিতে চাষ হয়েছে বলেও মহাকরণে জানা গেছে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below