আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

‘শচীন কেন, এবার আমার
পিছনেও মানুষ ছুটবে’

শুভ্র মুখোপাধ্যায়

পাঁচদিনেই পাঁচ কোটি টাকার মালিক! ভাবতে আশ্চর্য লাগছে? মনে হচ্ছে কল্পনার জগতে ভাসছেন? কিন্তু এটাই বাস্তব। গত দু’বছর আগে কমনওয়েলথ গেমসের সময় অস্ট্রেলিয়ার এক দৈনিক তাঁর নামে লিখেছিল, বোপ্রালা গ্রামের একটি ঘরে ২০জন মানুষ! দুটি বিছানা। সেই ঘর থেকে উঠে আসা কুস্তিগীর আজ স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ভারতকে।

অভিনব বিন্দ্রার নামে সমালোচকরা বলেন, বেজিঙয়ে সোনা পাওয়ার পরে মাটিতে পা ছিল না তাঁর। আকাশের দিকে মুখ করে হাঁটতেন। সুশীল কুমারের ক্ষেত্রেও কী তাই হবে? এখনই কিছু বলার সময় আসেনি। কিন্তু দিল্লি বাস ড্রাইভারের ছেলের মানসিকতা গত চারবছরেও একচুল পরিবর্তন হয়নি। পরপর দুটি ওলিম্পিক্সে পদক। ব্রোঞ্জের পরে রুপো।

গত ১২ই আগস্ট দেশে ফেরার পরে সুশীলের একফোঁটা নিস্তার নেই। একবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, একবার রাইসিলা হিলে রাষ্ট্রপতির কাছে সংবর্ধিত হতে যাওয়া। তারপর প্রচারমাধ্যমের একটা অংশ তো পিছনে ছুটছেই। বারবার তাঁকে সেলফোনে ধরে ব্যর্থ হওয়া। একের পর নানা বার্তা পাঠানো। শেষমেশ ধৈর্যের কাছে পরাস্ত হয়ে নিজেই ফোন করলেন ‘গণশক্তি’কে। এমনভাবে ‘হা পাজি বলিয়ে’ সম্ভাষণে শুরু করলেন, মনেই হবে না দিনসাতেক আগেই তাঁর মারে কুপোকাৎ হয়ে গিয়েছিলেন বিপক্ষ কুস্তিগীর।

প্রশ্ন : আপনি এমন একটা খেলায় দেশকে গর্বিত করলেন, যার কোনো গ্ল্যামার নেই। ক্রিকেট, টেনিস, ফুটবল, নিদেনপক্ষে ব্যাডমিন্টন নিয়ে যে আগ্রহ রয়েছে জনমানসে, কুস্তি সেখানে দূরের গ্রহ। মনে হয় এরপর থেকে ছেলেমেয়েরা কুস্তি শিখতে আখড়ায় যাবে?

সুশীল : হ্যাঁ, যাবে। আবার বলছি যাবে। শেষ চারবছরে কুস্তি নিয়ে বেশ খানিকটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু সকলের আগে ক্রীড়ামন্ত্রককে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার যদি টাকা না ঢালে, কিছুই হবে না। সাফল্য পেলে অর্থ এমনিই আসবে, কিন্তু তার আগে খেলাকে চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ প্রয়োজন। ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনে যাও বা সাফল্য রয়েছে, ফুটবল, টেনিসে নেই। হঠাৎ করে সাফল্য এলে কিছুই হবে না, দরকার ধারাবাহিকতা।

প্রশ্ন : গতবার যাঁরা দেশকে পদক এনে দেন, সেই বিন্দ্রা, বিজেন্দ্র এবার ব্যর্থ হওয়ার পরে আপনার ওপর কী মানসিক চাপ ছিল ?

সুশীল : না, না, কিসের চাপ ? আমি জানতাম পদক পাবোই। কিন্তু পদকের রঙ নিয়ে সংশয় ছিল। সোনাই পেতাম যদি পেটের গণ্ডগোল না হতো। বিন্দ্রার সঙ্গে আমার একদিনও গেমস ভিলেজে দেখা হয়নি। বিজেন্দ্র বরং একদিন ঘরে এসে গল্প করে গিয়েছিল।

প্রশ্ন : ধরুন, এতোকিছুর পরেও কোনো মঞ্চে শচীন, মেরি, সাইনা ও আপনিও বসে রয়েছেন। কিন্তু সবাই শচীনের দিকে ছুটছে, কষ্ট পাবেন না ?

সুশীল : এরকম কোনো অনুষ্ঠান হতে দিন না! দেখবেন আমার পিছনেও মানুষ ছুটছে। শচীন তো গ্রেট, ওঁর কত রেকর্ড, কিন্তু আমিও দুটি ওলিম্পিক্সে পরপর পদক এনেছি। রিওতে পরের ওলিম্পিক্সে যাবো হ্যাটট্রিকের জন্য। আমার তো মনে হয় শচীনের মতো এবার আমিও ‘ভারতরত্ন’র দাবিদার।

প্রশ্ন : আপনি এমনিতেই খুব শান্ত, কিন্তু রিংঙে নামার পরে এতো নিষ্ঠুর হয়ে যান কিভাবে?

সুশীল : যতোটা শান্ত ভাবছেন ততোটা নই। স্কুলে পড়তে এক সহপাঠির নাক ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। ওর অপরাধ ছিল, আমার টিফিন কেড়ে নেয়। তবে মোটের ওপর শান্তই। মানসিকভাবে স্থির না থাকলে এ ধরনের খেলায় মনোসংযোগ বজায় রাখতে পারবেন না। সেই কারণেই কোর্টে নামার আগে গান শুনি।

প্রশ্ন : শিক্ষার্থী কুস্তিগীরদের জন্য কী পরামর্শ ?

সুশীল : প্র্যাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। তার আগে প্রয়োজন ভালো একটা কোচের। ভালো কোচ না পেলে কিছুই হবে না। আমি যেমন আমার প্রথম কোচ কদম সিংয়ের কথা বলবো। তারপর পেয়েছি সতপাল সিংকে। তবে কুস্তিতে আমার প্রেরণা কিন্তু দাদাজি। বাবা নয়, আখড়ায় দাদাজি (ঠাকুর্দা) আমাকে হাত ধরে প্রথম নিয়ে যান।

প্রশ্ন : খেলা ছাড়ার পরে কী হিসেবে পরিচিত হতে চান?

সুশীল : কোচিং করাবো কিনা ঠিক নেই। এখন পরবর্তী নিয়ে ভাবছি না। অবসর নিয়ে ভাববো পরের ওলিম্পিক্সের পরে। এখন অনেক কাজ বাকি! এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ, তারপর উজবেকিস্তানে যাবো একটি টুর্নামেন্ট খেলতে।







সুশীলের খাদ্যতালিকা

সকালে খালি পেটে চার গ্লাস ছাতুর শরবত। একঘণ্টা বাদে চা-বিস্কুট। ভারী খাবার বলতে সাদা রুটি, আর ছানা। দুপুরে ভাত, সবজি, স্যালাড, দই ও গোটা ফল। দু’ঘণ্টা পরেই ফলের রস। বিকেলে ঘি, মাখন সহযোগে ফুড সাপ্লিমেন্ট। সন্ধ্যের দিকে দুধ। রাত ন’টায় রাতের খাবার। চাপাটি, পনির, মিস্টি ও ঠাণ্ডা দুধ। মাছ, মাংস খান না একেবারেই খান না।



একনজরে সুপার সুশীল

জন্ম : ২৬শে মে, ১৯৮৩।

গ্রাম : বাপ্রোলা গ্রাম, নজফগড়, দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লি।

বাবা : দিওয়ান সিং। মা : কমলা সিং। স্ত্রী : শাভি সিং।

উচ্চতা : পাঁচ ফুট পাঁচ।

ওজন : ৮২কেজি।

কর্মরত : রেলের অ্যাসিসটেন্ট কমার্শিয়াল ম্যানেজার।

পছন্দের প্যাঁচ : ইরানি দাউ।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below