দুর্নীতির শরিক

সীমাহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি। দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল। সি এ জি রিপোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযুক্ত হলো, কয়লাখনি বিলি-বেনিয়মের জন্য। সেই সঙ্গে দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ এবং রিলায়েন্স বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও বেনিয়মের জন্য অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক। সি এ‍‌ জি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্টে বলেছে, এই তিনটি বেনিয়মের ফলে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এই তিনটি আর্থিক কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রেই সরকার-রাজনৈতিক নেতা-আমলা এবং কর্পোরেট মহলের আঁতাত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়লাখনি বিলির বেনিয়ম সুবিধা পেয়েছে এসার গ্রুপ, জিন্দাল, আদানি, মিত্তাল এবং টাটা স্টিলের মতো ৫৭টি সংস্থা। দিল্লি, বিমানবন্দরের বরাতের ক্ষেত্রে ফায়দা তুলেছে জি এ‌ম আর সংস্থা। বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে আর্থিক ফায়দা তু‍‌লেছে রিলায়েন্স সংস্থা। সি এ জি খুবই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২০০৪ সালের জুলাই মাস থেকে যে কয়লাখনি বিলি হয়েছে সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতে দর স্থির করা হলে সরকার অন্তত ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকা বেশি আয় করতে পারতো বলে সি এ জি মনে করছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এই পদ্ধতি চালু করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। কয়লার মতো দে‍শের প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করার ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতি থাকা উচিত। দেশের প্রয়োজনে যে সব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা ব্যবহার করে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এই সঙ্গে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছনীতি থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী নিজে বেশ কিছুদিন এই কয়লামন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উচিত এই বেনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে সংসদে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।

কেন্দ্রীয় সরকার এবং বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলির মধ্যে মধুর সম্পর্কের ভিত্তিতেই বেনিয়মের নীতিগুলি তৈরি হচ্ছে। আমলাদের ব্যবহার করে শাসকজোট যে সরকারী নীতিগুলি তৈরি করছে তার মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারী কোষাগারের ক্ষতি করে বেসরকারী সংস্থার মুনাফা বৃদ্ধি করা। একইভাবে টু জি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারিতে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সরকারের। সি এ জি রিপোর্টকে অস্বীকার করতে অভ্যস্ত কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদে পেশ করা কয়লা সংক্রান্ত রিপোর্টকে অস্বীকার করেছে কয়লামন্ত্রক এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রকও মানতে চাইছে না দিল্লি বিমান বন্দরের বেনিয়ম। টু জি স্পেকট্রাম নিয়ে রিপোর্ট পেশের পরও একইভাবে সি এ জি-কে গুরুত্ব দিতে চায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। পরবর্তী সময়ে সি বি আই তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে টেলিকম দুর্নীতি। দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আই পি এল, কমনওয়েলথ, কে জি বেসিন প্রভৃতি আর্থিক কেলেঙ্কারি। এন ডি এ সরকারের আমলে যে ধরনের দুর্নীতি হয়েছে তারই ট্র্যাডিশন বহন করে চলেছে দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার। এ রাজ্যের শাসক তৃণমূল কেন্দ্রের এই জোটের বড় শরিক। তৃণমূল নেত্রী মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেও কেন্দ্রে চূড়ান্ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ ‍‌ করেননি। মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও কংগ্রেস, তৃণমূলসহ সব জোট সঙ্গীই এই দুর্নীতির শরিক। সততার প্রতীক বলে মমতা ব্যানার্জিকে যেভাবে পরিচিত করানো হচ্ছে তার আসল চেহারাই মানুষের কাছে ফাঁস করা দরকার।

Featured Posts

Advertisement