আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

ভাঙড়ে যুবককে পিটিয়ে মেরে
থানা ঘেরাও আরাবুল বাহিনীর

নিজস্ব সংবাদদাতা

ভাঙড়, ১৮ই আগস্ট— ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের নেতৃত্বে যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে তাতে আরো একজনের প্রাণ গেলো। সালিশি সভায় ডেকে এনে সবার সামনে আজিজুল বৈদ্য (৩৫) নামে ঐ ব্যাক্তিকে খুন করলো আরাবুল ইসলামের ভাই সিরাজুল ইসলাম ওরফে খুদের দলবল। এই ঘটনার পর ভাইয়ের বিরুদ্ধে যাতে কেউ থানায় অভিযোগ জানাতে না পারে তার জন্য রাত দশটা পর্যন্ত তৃণমূল কর্মীদের সাথে নিয়ে ভাঙড়ের কাশীপুর থানা ঘিরে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন আরাবুল ইসলাম। তাদের ভয়ে পুলিস কর্মীরাও থানায় ঢুকতে পারছিলেন না। থানা অবরোধ মুক্ত করা তো দূরের কথা, পুলিসের অবস্থা হয়েছিলো ঠুঁটো জগন্নাথের মতো। এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় রাত দশটার পর থানা ঘিরে রাখা অবরোধ তুলে নেন আরাবুল। তবে তাঁর ভাইয়ের নামে কেউ থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করলে তার পরিণতি মারাত্মক হবে বলে আরাবুল হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের এই তাণ্ডবে এলাকায় এতটাই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে আরাবুলের ভাইয়ের বিরুদ্ধে গভীর রাত পর্যন্ত কেউ খুনের অভিযোগ দায়ের করতে সাহস পাননি। পুলিসও শুরু করতে পারেনি খুনের তদন্ত।

ভাঙড়ে আরাবুলের পরিবার ও তৃণমূল বাহিনী তাণ্ডবে এদিন যিনি প্রাণ হারালেন সেই আজিজুল বৈদ্য কিন্তু তৃণমূলেরই কর্মী। পরিবর্তনের জমানায় তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে তাতে সি পি আই (এম)-সহ বামপন্থী কর্মীরা যেমন প্রাণ হারাচ্ছেন, আক্রান্ত হচ্ছেন তেমনই সাধারণ মানুষও রেহাই পাচ্ছেন না। শাসক জোটের শরিক কংগ্রেস এমনকি তৃণমূলে কর্মী সমর্থরাও যে এই ‘সন্ত্রাস-রাজের’ শিকার হচ্ছেন তা এদিন ভাঙড়ের ঘটনাতেও স্পষ্ট হলো। প্রসঙ্গত, আরাবুলের মদতে ও প্রশ্রয়ে ভাঙর এবং তার আশেপাশের এলাকায় খুদের দাপট অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও ‘ভেদিক ভিলেজ কাণ্ডে’ এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুনের ঘটনায় জড়িয়েছিলো খুদে। সেই সময়েও ভাইকে বাঁচাতে ‘জান লড়িয়ে দিয়েছিলেন’ আরাবুল।

ভাঙড়ের ইটভাটায় মাটি সাপ্লাই দিতেন আজিজুল এবং তাঁর ভাই এশাবত বৈদ্য। কাশীপুর থানার পোলের হাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাজিপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। ইটভাটায় মাটি সাপ্লাই করার জন্য আজিজুল ও তাঁর ভাইয়ের ৪লক্ষের বেশি টাকা পাওনা হলেও সেই টাকা আরাবুলের ভাই খুদে গায়েব করে দেয় বলে অভিযোগ। জানা গেছে, খুদে নিজেই ঐ টাকার গ্যারান্টার ছিলো। আজিজুল এদিন সেই টাকা খুদের কাছে ফেরত চাইতেই বিপত্তি বাধে। আরাবুল, খুদে ও তাদেরর দলবল এদিন আজিজুলকে সালিশি সভায় ডেকে পাঠায়। সেখানেই সবার সামনে খুদের দলবল আজিজুলকে মারধর করে বলে অভিযোগ। জানা গেছে, আরাবুলের নিজস্ব ঠ্যাঙারে বাহিনীর কয়েকজনও এই হামলায় যুক্ত ছিলো। সেই সময় বাঁশ দিয়ে মেরে আজিজুলের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর জখম আজিজুলকে কলকাতার এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই এদিন সন্ধ্যায় মারা যান আজিজুল।

এরপর আজিজুলের বাড়ির লোকজন যাতে থানায় অভিযোগ দায়ের না করতে পারে তার জন্য তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে কাশীপুর থানা ঘিরে তাণ্ডব চালান আরাবুল। একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই অবস্থায় থানা থেকে অবরোধ তুলে নিতে বাধ্য হলেও এলাকা জুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করেছে আরাবুল ও তাঁর দলবল। আজিজুলের ভাই ও তাঁর পরিবারের লোকজন যাতে খুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করতে পারেন তার জন্য তাঁদের উপর আরাবুল ইসলাম প্রবল চাপ তৈরি করেছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below