পাত্রসায়রে খেতমজুরকে তিন ঘণ্টা ধরে
অত্যাচার করে খুন করলো তৃণমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা

বাঁকুড়া, ১৮ই আগস্ট— শনিবার সকালে তৃণমূলের নৃশংস আক্রমণে খুন হলেন পাত্রসায়র থানার কাঁটাদিঘি গ্রামের গরিব খেতমজুর কমরেড লিয়াকত মিদ্যা।

তৃণমূলের সন্ত্রাসে নিজে ঘরছাড়া হলেও লিয়াকত চাইছিলেন ঈদের দিনে তিন মেয়ে, স্ত্রী সবাই একসাথে নিজেদের ভিটেতে থাকুক। ঈদের আগে ছোট মেয়েকে দেখার আকাঙ্ক্ষাতেও ছটফট করছিলো তাঁর মন। তাই মাসির বাড়িতে থাকা মেয়েকে শনিবার নিজের ভিটেয় পাঠানোর আগে তাঁকে একবার নিজে চোখে দেখার জন্য পাত্রসায়রে এসেছিলেন সি পি আই (এম)-র সদস্য লিয়াকত মিদ্যা। আর সেটাই কাল হলো। তৃণমূলের কর্মীরা গরিব খেতমজুর লিয়াকতকে ঘিরে ফেলে লোহার রড, লাঠি এবং পাথর দিয়ে তাঁর শরীরটাকে থ্যাঁতলালো। প্রথমে পাত্রসায়র বাসস্ট্যান্ডে, পরে সেখান থেকে হাটকৃষ্ণনগর স্টেশনের কাছে একটি আমবাগানে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে লিয়াকতের উপর পৈশাচিক হামলা চালালো তৃণমূলের ঠ্যাঙারে বাহিনী। পুলিস পরে রক্তে মাখামাখি অবস্থায় তাঁর থ্যাঁতলানো অচেতন দেহ উদ্ধার করলেও তৃণমূলের তাণ্ডবের জন্য সময় মতো বাঁকুড়া হাসপাতালে নিয়ে যেতেও পারেনি। যে গাড়ি করে লিয়াকতকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবে তাঁর অবস্থাও লিয়াকতের মতো হবে বলে হুমকি দেয় তৃণমূল। অনেক বাদে বিকেলের দিকে পুলিস যখন গুরুতর জখম লিয়াকতকে বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লিয়াকত। তৃণমূলের এই বর্বর তাণ্ডবে ঈদের আগে রমজান মাসেই স্বামীহারা হলেন লিয়াকতের স্ত্রী একতারা বেগম। লিয়াকতের বড় মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী জয়নব খাতুন, মেজো মেয়ে আজিজা খাতুন এবং ছোট মেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী শাহনাজ খাতুনও তাঁদের প্রিয় ‘আব্বাজানকে’ চিরদিনের মতো হারালো।

এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন সি পি আই (এম) বাঁকুড়া জেলা কমিটির সম্পাদক অমিয় পাত্র। তিনি বলেন, এভাবেই তাণ্ডব চালিয়ে, খুন করে মানুষকে সন্ত্রস্ত করতে চাইছে তৃণমূল। মানুষকে সাথে নিয়েই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। তৃণমূলের হামলায় নিহত শহীদ কমরেড লিয়াকত মিদ্যার স্ত্রী, তিন মেয়ে এবং পরিবার পরিজনদের সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।

কমরেড লিয়াকত মিদ্যা গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের সন্ত্রাস ও হুমকির জন্য ঘরছাড়া। তাঁর খেতমজুরির পয়সায় সংসার চলতো বলে তিনি ঘরছাড়া থাকায় স্বাভাবিকভাবেই বেরোজগেরে হয়ে পড়ে তাঁর পরিবার। ঘরছাড়া অবস্থায় তৃণমূলের দুর্বৃত্ত বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে নানা জায়গায় আশ্রয়ের জন্য ঘুরে বেড়াতেন লিয়াকত। বাড়িতে স্ত্রী একতারা বেগম অত্যন্ত কষ্ট ও দারিদ্র্যের মধ্যে তিন মেয়েকে নিয়ে দিন কাটাতেন। অন্যের সাহায্যের উপর কোনদিন তাঁদের খাওয়া জুটতো, কোনদিন বা উপোস করে থাকতে হতো তাঁদের।

Featured Posts

Advertisement