আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

মহিলাদের লঙ্কার গুঁড়ো রাখতে বলছে পুলিস!

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৮ই আগস্ট— আপনি কর্মরত কিংবা গৃহবধু ? আপনি মহিলা নিগ্রহের ঘটনায় আতঙ্কে ভুগছেন? তাহলে আপনার ব্যাগে অবশ্যই কাঁচি, কাঁটা চামচ রাখুন। হাতের কাছে সব সময় লঙ্কার গুঁড়োর স্প্রে অথবা নিদেনপক্ষে একটি কোলন বা ডিওডোরেন্ট রাখুন। অতর্কিতে কোন দুষ্কৃতীর হামলা বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার বিরুদ্ধে এই সব ‘অস্ত্র’ নিয়ে সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ করতে হবে আপনাকেই।

আপনাকেই। আত্মরক্ষার দায়িত্ব আপনারই।

এমনটাই মনে করছে কলকাতা পুলিস। শহরে মহিলাদের ওপর ক্রমশ বাড়তে থাকা আক্রমণের ঘটনায় কলকাতা পুলিস এমনই পরামর্শ দিচ্ছে মহিলাদের। মৌখিক পরামর্শ নয়, রীতিমতো ছাপিয়ে তা বিলি করছে কলকাতা পুলিস। কলকাতা পুলিসের এমন পরামর্শে দুটি জিনিস অন্তত দিনের আলোর মত স্পষ্ট। এক, মমতা ব্যানার্জি অস্বীকার করলেও তাঁরই হাতে থাকা পুলিস দপ্তর মেনে নিচ্ছে যে খাস কলকাতা মহানগরীতেও অপরাধ, মহিলাদের ওপর আক্রমণ, শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে এবং বাড়ছে বলেই ‘সচেতনতা’ বাড়ানোর লক্ষ্যেই নাকি এমনই প্রচার। দুই, নিজেই নিজেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তায় বেরোতে হবে। পুলিস অপারধ ঠেকাতে অপারগ। পুলিস এখানে শুধুই পরামর্শদাতা।

নাগরিক সচেতনতার জন্য কলকাতা পুলিসের প্রচার নতুন নয়। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল জোট সরকারের সময়কালে ক্রমাগত মহিলাদের ওপর হিংসা, শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা বাড়তে থাকায় পুলিসের তরফে বাধ্য হয়ে মহিলাদের ‘ব্যক্তিগত সুরক্ষার কয়েকটি সহজ পরামর্শ’ দেওয়া হচ্ছে। যাতে স্পষ্ট, আপনার নিরাপত্তা, আপনার হাতেই। কলকাতা পুলিসের তরফে ১৬পাতার এই প্রচার বুলেটিন ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয় পরামর্শ’ বিলি করা হয়েছে।

এই বুলেটিনে মহিলাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য পুলিস যেরকম পরামর্শ দিয়েছে তা হলো— সজাগ থাকুন যদি আপনার দিকে অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখেন, চিৎকার করুন, প্রতিরোধ করুন। হাতের কাছে লঙ্কার গুঁড়ো স্প্রে, ডিওডোরেন্ট রাখুন, বাড়িতে ছোট অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখুন। সম্ভব হলে বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে চলুন। আত্মবিশ্বাসী থাকুন, নিরাপদ নয় বুঝতে পারলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটুন। যদি কাউকে বা কিছু দেখলে অস্বস্তি বোধ হয় তাহলে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে যান। আবার একা বাইরে বেরোলে মহিলাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে কলম,কাঁচি,চামচ নিয়ে বেরোনোর জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে পুলিস। প্রয়োজন হলে যাতে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে তা যেন ব্যবহার করা যায়। কলকাতা পুলিসের তরফে এই প্রচারপত্রেই বলা হয়েছে, একা থাকা মহিলারা সম্ভাব্য আক্রমণকারীর কাছে সহজ লক্ষ্য। অতএব তাঁদের উদ্দেশ্যে গুচ্ছ পরামর্শ পুলিসের। যেন মহিলাদের ওপর আক্রমণ বা শ্লীলতাহানির ঘটনা ঠেকানোর দায় সেই মহিলারই, পুলিস কেবল আগাম সতর্কতার জন্য পরামর্শ দিতে পারে! অর্থাৎ চোরকে ঠেকানো নয়, গৃহস্থকে শক্ত করে দরজার খিল দেওয়ার পরামর্শ।

প্রশ্ন উঠছে পুলিস পরামর্শ দিতেই পারে কিন্তু শুধুই পরামর্শ দিতে থাকলে শহরবাসীর নিরাপত্তাহীনতা আরো বাড়বে না তো? সর্বত্রই দাবি উঠছে, নিজেদের দায়িত্ব পালন করুক পুলিস। শহরের বুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে রাজ্য পুলিসের ডিজি যদি অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আগে নিজেই আগ বাড়িয়ে ঘটনার সাফাই দেন এবং তাতে সরকারকে হেয় করার চক্রান্ত খুঁজে পান তাতে আখেরে অপরাধীরাই উৎসাহিত হচ্ছে। এখন ঘটনাক্রমে তা প্রমাণিত। প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা যেভাবে মহিলাদের ওপর আক্রমণের একাধিক ঘটনাকে সাজানো ঘটনা বলে মন্তব্য করছেন, কখনও বা মিডিয়ার ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে দিচ্ছেন তাতে অপরাধীদেরই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below