পুলিসের সামনেই প্রার্থীদের মারধর করলো তৃণমূলীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা

বনগাঁ, ২০শে আগস্ট — তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ মদতে রবিবার ট্যাংরা এস কে ইউ এস কো-অপারেটিভের পরিচালন সমিতির নির্বাচনে হামলা চালালো দুষ্কৃতীরা। পুলিসকে জানানোর দেড় ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে আসে এবং নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বনগাঁ মহকুমা শাসকের কাছে ফ্যাক্স মারফত লিখিত অভিযোগ করেন প্রগতিশীল প্রার্থীরা।

রবিবার বনগাঁ মহকুমার ট্যাংরা গ্রাম পঞ্চায়েতের এস কে ইউ এস লিমিটেডের পরিচালন সমিতির নির্বাচন ছিলো রবিবার সকাল ৯টা থেকে। এদিন সকাল থেকে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা কার্যত বুথ দখল করে রাখে। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদিন ওই অঞ্চলটিতে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়। এস কে ইউ এস কো-অপারেটিভদের ভোটার সংখ্যা চার শতাধিক। ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন বাম প্রগতিশীল প্রার্থীরা। ট্যাংরা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য লক্ষ্মণ মণ্ডল সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ প্রগতিশীল প্রার্থীদের পক্ষের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করতে যান। তাঁকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয় অস্ত্রধারী তৃণমূলের ভৈরববাহিনী। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারতে মারতে বুথের বাইরে বের করে দেয়। প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসেন প্রগতিশীল প্রার্থীরা। তাঁদেরকেও মারধর করা হয় এবং খুনের হুমকি দেওয়া হয়। ৭৪ বছর বয়স্ক প্রার্থী সুধীর ঘোষকেও রেহাই দেয়নি তৃণমূলী ভৈরববাহিনী। তাঁকেও প্রচণ্ড মারধর করা হয়। এরপর পোলিং এজেন্ট ডাক্তার সুকুমার ঘোষ ও শিক্ষক অখিল ঘোষকেও মারধর করে গেটের বাইরে বের করে দেয়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সামনে যখন একতরফাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তখন তাঁরা বাধা দিতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের কয়েকজনকেও মারধর করে তৃণমূলী ভৈরববাহিনী। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিসকে টেলিফোন করে জানানো হয়। ঘটনাস্থলে পুলিস আসে কিন্তু নীরব দাঁড়িয়ে থাকে।

নিরুপায় হয়ে প্রগতিশীল প্রার্থীরা প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করেন।

এবিষয়ে প্রিসাইডিং অফিসার পি ডি ও কাজরী চৌধুরীকে লিখিত জানাতে গেলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। এরপর বনগাঁ মহকুমা শাসকের কাছে লিখিত অভি‍‌যোগ জানানো হয়। এই ঘটনায় ওই এলাকার গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ পুলিস প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন এবং তৃণমূলীদের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Featured Posts

Advertisement