বাঁকুড়ায় গ্রেপ্তার মাওবাদী

নিজস্ব সংবাদদাতা

বাঁকুড়া, ২০শে আগস্ট— সি পি আই (এম) সারেঙ্গা জোনাল কমিটির সদস্য কমরেড রঞ্জিত হেমব্রমের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিস রবিবার রাতে মাওবাদী স্কোয়াডের সদস্য অভিরাম টুডুকে গ্রেপ্তার করলো। সোমবার খাতড়া আদালতে তাকে তোলা হলে বিচারক ৬দিন পুলিস হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, গত ২০১০ সালের ২৮শে এপ্রিল সারেঙ্গার জঙ্গলঘেরা কয়মা গ্রামে মাওবাদী খুনেবাহিনী কমরেড রঞ্জিৎ হেমব্রমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এসে সামনের ফাঁকা মাঠে গুলি করে খুন করে।

সারেঙ্গার বুকে মাওবাদী হামলার সময় থেকেই কমরেড রঞ্জিৎ হেমব্রম মাওবাদীদের খুনের টার্গেটের মধ্যে ছিলেন। সারেঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি থাকার সময়েও তাঁকে আক্রমণ করা হয় কয়েকবার। শেষের দিকে তিনি বাড়িতে থাকতে পারতেন না। কেননা, সেই সময় সি পি আই (এম) কর্মী-নেতাদের উপর এলাকার তৃণমূলীদের একটা নজর ছিল। তারাই পার্টিকর্মী-নেতাদের গতিবিধি মাওবাদীদের জানিয়ে দিতো। জঙ্গলের মাঝে তাদের খাবারও পৌঁছাতো তৃণমূলীরা। সারেঙ্গার বুকে সেই সময় যে পাঁচজন সি পি আই (এম) কর্মী খুন হয়েছেন, সবক্ষেত্রেই তৃণমূলবাহিনীর জানানো খবরের উপরেই ভিত্তি করে মাওবাদীবাহিনী হামলা চালিয়েছিল সি পি আই (এম) কর্মী-নেতাদের উপর। ধৃত অভিরাম টুডুর বাড়ি কয়মার পার্শ্ববর্তী শালুকা গ্রামে। এই শালুকা গ্রামেই ২০০৯ সালের ১৫ই আগস্ট সি পি আই (এম) কর্মী কমরেড রামকৃষ্ণ দুলে মাওবাদীদের হাতে খুন হন। অভিরাম টুডু এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিল। ২০০৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস-মাওবাদী মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এই অভিরাম টুডু এবং আরও ১০/১২ জনের খুনেবাহিনী সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিট নাগাদ কয়মা গ্রামে রঞ্জিৎ হেমব্রমের বাড়িতে হানা দেয়। সেই সময় এটা জলের মতো পরিষ্কার ছিল যে, তৃণমূলের পাঠানো খবরের ভিত্তিতেই খুনেবাহিনী তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। কেননা, তিনি ঘরেই থাকতেন না। বহুদিন পর সেদিনই একবারের জন্য ঘরে এসেছিলেন। আর মাওবাদীবাহিনীও তাদের দীর্ঘ দিনের টার্গেট পূরণ করেছিল কমরেড রঞ্জিৎ হেমব্রমকে খুন করে।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement