আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

এক্তিয়ারের বাইরে

কয়লা, বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করার পরিপ্রেক্ষিতে সি এ জি’র এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললো কেন্দ্রীয় সরকার এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব। দুর্নীতির অভিযোগে কোণঠাসা শাসকজোট সি এ জি রিপোর্টকে গুরত্ব দিতে চাইছে না। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামী বলেছেন, সরকারের নীতি কী হবে তা নিয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার সি এ জি’র নে‍‌ই। কংগ্রেস দলের অন্যতম মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি বলেছেন, হিসেবে অতিরিক্ত শূন্য বসিয়ে দেওয়া সি এ জি’র অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেস সি এ জি’র উদ্দেশে হুমকির সুরে বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সি এ জি ভারসাম্য না রাখলে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সি এ জি’র মতো একটি প্রতিষ্ঠানের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কি কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর রয়েছে? দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সি এ জি সংসদে স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছিলো। কেন্দ্রীয় সরকার গোড়ায় ঐ রিপোর্ট মানতে চায়নি। সি এ জি হিসেব করে দেখিয়েছিলো স্পেকট্রাম বিলির বেনিয়মের ফলে দেশে রাজস্বের ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই হিসেবকে কোনো গুরুত্ব দিতে চায়নি মনমোহন সিং সরকার। টেলিকমের মতো কয়লা, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ নিয়ে সি এ জি’র পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট উড়িয়ে দিতে চাইছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলি। সি এ জি রিপোর্টকে গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তী সময়ে সি বি আই তদন্তে টেলিকমের কেলেঙ্কারি ধরা পড়ে। আর্থিক দুর্নীতির উদ্দেশ্যে তৈরি টেলিকম নীতির পিছনে শাসকদল, আমলা, মন্ত্রী ও কর্পোরেট আঁতাত ফাঁস হয়ে যায়।

শুধুমাত্র ইউ পি এ’র মন্ত্রীদের নয়, কর্পোরেট সংস্থার দুর্নীতি আড়াল করার কৌশল নিয়ে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিলো কমনওয়েলথ গেমস কেলেঙ্কারি। এবারের কয়লা কেলেঙ্কারিতে প্রতিযোগিতামূলক নিলামের নীতি না নেওয়ার ফলে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হিসাব করে দেখিয়েছে সি এ জি। এই নীতি না নেওয়ায় ফায়দা লুটেছে দেশের বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থাগুলি। একইভাবে দিল্লি বিমানবন্দর সাজাতে জলের দরে বেসরকারী সংস্থাকে জমি তুলে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। মাত্র আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে দেড় লক্ষ কোটি টাকা আয়ের সুযোগ করে দেওয়া হয় জি এম আর সংস্থাকে। আর্থিক পরামর্শদাতা সংস্থা মেরিল লিঞ্চের বক্তব্য উল্লেখ করে সি এ জি বলেছে, বাজারদর অনুসারে যে জমির দর হতে পারে ২৪ হাজার কোটি টাকা তা মাত্র ২৪ হাজার টাকায় বছরে লিজ দেওয়া হয়েছে। এই সহজবোধ্য বেনিয়মকেও অস্বীকার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনিল আম্বানির রিলায়েন্স পাওয়ারকে ২৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত মুনাফা পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি খনির উদ্বৃত্ত কয়লা অন্য খাতে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চোখে আঙুল দিয়ে এই বেনিয়ম যারা দেখিয়েছে তাদের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। বেসরকারী সংস্থাগুলিরও নিজস্ব হিসাব পরীক্ষক থাকে। তাদের বক্তব্য বা সুপারিশ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচিত হয়। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার তাদের হিসাব পরীক্ষকের বক্তব্য মানতে নারাজ। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই আদালত বা স্বশাসিত স্বাধীন সংস্থাগুলির না-পসন্দ রায় বা মন্তব্য মানতে চাইছে না। এমনকি অপছন্দের রায় বা রিপোর্ট যাতে ভবিষ্যতে না দেওয়া হয় সেজন্য হুমকি দি‍‌চ্ছে বর্তমান শাসকজোট। সি এ জি’র ক্ষেত্রে কেন্দ্রে এবং মানবাধিকার কমিশন ও হাইকোর্টের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে সেই নমুনাই আমরা দেখতে পাচ্ছি।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below