১৪৪ধারা ভেঙে তৃণমূলের বেপরোয়া
হামলা বারুইপুরে, জখম ৪পার্টিকর্মী

নিজস্ব সংবাদদাতা

বারুইপুর, ২০শে আগস্ট— শুধুমাত্র সি পি আই (এম) কর্মী হওয়ার ‘অপরাধে’ ১৪৪ধারা ভেঙে পালান নস্কর নামে এক ব্যক্তির বাড়ির রাস্তা কেটে দিলো তৃণমূলের সমর্থকরা। তাঁর স্ত্রী-কেও বেধড়ক মারধর করলো। এখানেই শেষ নয়। এই হামলার পর পালান নস্কর থানায় অভিযোগ জানানোয় সোমবার সন্ধ্যায় এলাকার তৃণমূলীরা তাঁকে ধরেও বেধড়ক পেটায়। এই হামলায় জখম হয়েছেন আরো ৩জন পার্টি কর্মী সমর্থক। গুরুতর জখম পালান নস্কর-সহ আহত চার জনকেই এদিন রাতে বারুইপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘পরিবর্তনের জমানায় তাদের কথাই হবে শেষ কথা। তাদের কথাতেই উঠতে হবে, বসতে হবে’— বারুইপুর থানার হারদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে তৃণমূলের পাণ্ডারা এই ফতোয়াই জারি করেছিলো। সি পি আই (এম) কর্মী পালান নস্কর এই ফতোয়া মানতে অস্বীকার করায় এলাকার তৃণমূল নেতারা বেশকিছুদিন ধরেই তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলো। এমনকি তাঁর বাড়িতে হামলা করার হুমকিও দিচ্ছিলো তৃণমূলের ঐ পাণ্ডারা। এই হুমকির মুখে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন পালান নস্কর। সব শুনে তার বাড়ি ঘিরে ১৪৪ধারা জারি করেছিলো আদালত।

এই অবস্থায় রবিবার এলাকার তৃণমূলী নেতা ও কর্মীরা ১৪৪ধারা ভেঙেই পালান নস্করের বাড়ির রাস্তা কেটে দেয়। তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুকুমার বণিক নিজেই এই হামলার নেতৃত্ব দেন বলে জানিয়েছেন জয়কৃষ্ণনগর গ্রামের মানুষ। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তৃণমূলী হামলাকারীরা রবিবারই পালান নস্করের স্ত্রী মেনকা নস্করকে মারধর করে।

এই হামলার ঘটনা জানাতেই পালান নস্কর-সহ এলাকার সি পি আই (এম) কর্মীরা সোমবার বারুইপুর থানায় গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা নামার পর থানায় অভিযোগ জানিয়ে তাঁরা যখন বাড়ি ফিরছেন সেই সময়ই তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা তাঁদের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। জয়কৃষ্ণনগর গ্রামের মধ্যেই এই হামলা হয়। পালান নস্কর ছাড়াও এই হামলায় সি পি আই (এম)-র যে কর্মীরা জখম হয়েছেন তাঁরা হলেন, মঞ্জু দাস, সমীর দাস এবং নিরঞ্জন দাস।

এই হামলার ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুলিসের একটি বাহিনীও ঘটনাস্থলে গেছে। তবে এদিন অনেক রাত পর্যন্ত পুলিস যথারীতি কাউকে গ্রেপ্তার করেনি বলে খবর।

Featured Posts

Advertisement