আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

পরমাণু কেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণ
নিয়ে প্রশ্ন তুললো সি এ জি

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ২২শে আগস্ট— জাপানের ফুকুশিমায় গত বছর ভয়াবহ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্ঘটনার পরও কোনো শিক্ষা নেয়নি ভারত। দেশের পরমাণু কেন্দ্রে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চরম গাফিলতি। ঐ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের অবস্থা অনেকটা ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দারের মতোই। বোর্ডের গত চার বছরের কাজকর্ম পর্যালোচনার পর এভাবে রায় দিয়েছে সি এ জি। বুধবার সংসদে এই রিপোর্ট পেশ হয়েছে। সি এ জি জানিয়েছে, ১৯৬২ সালে পরমাণু শক্তি আইন অনুযায়ী পরমাণু কেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১৯৮৩ সালে তৈরি হয় বোর্ড। কিন্তু ঐ বোর্ড না শক্তিশালী না স্বাধীন। দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোন নিয়ম-কানুন জারির ক্ষমতাটুকুও বোর্ডের নেই। দূষণ হলে তাতে দায়ী যারা তাদের বড় সাজা দেওয়ার ক্ষমতা বোর্ডের নেই। মাত্র ৫০০ টাকা জরিমানার যে ব্যবস্থা আছে তাতে পরমাণু দূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা সম্ভব নয়। সি এ জি অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, পাকিস্তান, আমেরিকায় পরমাণু দূষণ নিয়ন্ত্রণে যে কড়া আইনী ব্যবস্থা রয়েছে তার উদাহরণ উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভারতের এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরো কঠোর করা প্রয়োজন।

পরমাণু দূষণ বা তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঘটনা দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য ঘটে চলেছে তার উদাহরণ দিয়েছে সি এ জি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের ৪৩৬টি শিল্প ইউনিট যেখানে খুব বেশি পরিমাণে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়ে থাকে সেগুলি সমীক্ষা করে দেখা এর মধ্যে ৩২৬টি ইউনিটের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। ৫২ হাজার ১৭৩টি মেডিক্যাল এক্স-রে ইউনিটে দেখা গেছে কোন বৈধ নথিভুক্তিকরণ নেই। ১৩৫টি গামা চেম্বার ইউনিটের ৭০টি চলছে বৈধ অনুমতি না নিয়েই। এভাবে কোন নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে তেজ‍‌স্ক্রিয় বিকিরণ ঘটছে তা বিপুলভাবে পরিবেশ দূষিত করছে। প্রাণী জগতের ক্ষতি হচ্ছে।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে চলছে এই বিষয়ে নজরদারিতে চরম গাফিলতি। রিপোর্টে উল্লেখ, পরমাণু কেন্দ্রের নিরাপত্তার বিষয়টি ২০০২ সালে একটি নির্দেশিকা তৈরি হয়। এতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারে নিয়মিত নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিদির্শন না হওয়ায় পরমাণু কেন্দ্রের দূষণে সংস্থার কর্মী ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে বলে মন্তব্য সি এ জি-র।

যথেষ্ট নজরদারির অভাবে দিল্লির মায়াপুরীতে বাতিল পুরানো জিনিসপত্রের দোকানে কিভাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের পদার্থ চলে এসেছিল তা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৯ সালে কেনা গামা সেল বিক্রি করা হয় পুরানো জিনিসপত্রের দোকানে। সেখানে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দোকানি। এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে নির্দিষ্ট নজরদারির অভাবে।

দেশের পরমাণু, তেজস্ক্রিয় বিকিরণে দূষণ রুখতে নির্দিষ্ট সুপারিশ জানিয়েছে সি এ জি। বলা হয়েছে, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবস্থা কঠোর করা দরকার। পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাড়াতে হবে নজরদারি। পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয়। তা বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানায় সি এ জি। সুপারিশে বলা হয়েছে, রেডিয়েশন নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন করা সবার আগে প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ নিয়ে নীতি গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে মত পরমাণু চুক্তি করতে যেভাবে হুড়োহুড়ি করেছে কেন্দ্র তার এক শতাংশ উদ্যোগ এক্ষেত্রে দেখালে দূষণের বেহাল ছবি দেখা যেতো না। সি এ জি রিপোর্টের পর তা কতটা রূপায়ণ হয় তা দেখার।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below