শ্রমিক-কর্মী সমাবেশে দীপক দাশগুপ্ত
নাগরিকদের কাছে দুর্নীতির জবাব
দিতে হবে তৃণমূলী পৌরবোর্ডকে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২২শে আগস্ট— প্রমাণিত হয়ে গেছে একটা দুর্নীতির পৌরবোর্ড চলছে কলকাতায়। এই ঢালাও দুর্নীতির জবাব দিতে হবে কলকাতার নাগরিকদের কাছে। কলকাতার শ্রমজীবী গরিব মানুষকে সঙ্গে নিয়েই নাগরিকদের পরিষেবার দাবিতে পৌর শ্রমিক-কর্মচারীরা এবার আরও বড় লড়াইতে নামবেন। বুধবার কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ৩৪তম সম্মেলনে প্রকাশ্য সমাবেশে একথা বললেন, সি আই টি ইউ রাজ্য নেতা দীপক দাশগুপ্ত। কেন্দ্রীয় পৌরভবনের নাকের ডগাতেই এদিন উপচে পড়া পৌর শ্রমিক-কর্মচারীদের সমাবেশে তিনি বললেন, দীর্ঘ ৩৪বছরের বামফ্রন্ট সরকারের মেয়াদে কোনদিন ধর্মঘট, আন্দোলনের ওপর এক চিলতে সরকারী আক্রমণ লক্ষ্য করেনি এরাজ্যের শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু আজ এই কলকাতা কর্পোরেশনের শ্রমিক- কর্মচারীরাও সাক্ষী এই চড়া আক্রমণের। ধর্মঘটের পথেই এই আক্রমণের মোকাবিলা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯শে আগস্ট কাঁকুড়গাছি শ্রমিক মঙ্গল কেন্দ্রে কে এম সি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ৩৪তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ এদিন অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় পৌরভবনের পাশে এলিট সিনেমা হলের বিপরীতে। এদিন এই পৌর শ্রমিক-কর্মচারীদের সমাবেশে দীপক দাশগুপ্ত ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সি আই টি ইউ নেতা রাজদেও গোয়ালা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাদল কর, রতন ভট্টাচার্য, পৌর কর্মচারী আন্দোলনের নেতা এফ কে এম মুর্শেদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বিষ্ণুজীবন চক্রবর্তী ও পৌর শিক্ষক আন্দোলনের নেতা অশোক চ্যাটার্জি প্রমুখ। ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের এই প্রকাশ্য সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সর্বান সাউ। সমাবেশে রাজদেও গোয়ালা বলেন, আজই ট্যাংরায় বস্তিবাসী শ্রমজীবী মানুষদের ঘরের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য নির্ধারিত স্কুল দখল করেছে তৃণমূলীরা। কিন্তু এই আক্রমণ মেনে নেবেন না পৌর শ্রমিক কর্মচারীরা।

এদিন এই সমাবেশেই দীপক দাশগুপ্ত বলেন, ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের পথেই এগোচ্ছে সি আই টি ইউ। ২৮শে ফেব্রুয়ারি গোটা দেশজুড়ে বেনজির ধর্মঘট আন্দোলন সংগঠিত করার পর আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর দিল্লিতে আলোচনায় বসছে সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলি। ঐ বৈঠক থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও আন্দোলন, আরও ধর্মঘটের পথেই এগোবে দেশের সমস্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার এই পৌর শ্রমিকদের সমাবেশেই নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে উঠে এসেছে কলকাতা কর্পোরেশনের শ্রমিক ও কর্মচারীদের দুটি কো-অপারেটিভকে জবরদখলের প্রসঙ্গ। তৃণমূলী ষড়যন্ত্রেই এই দুটি নির্বাচিত কো-অপারেটিভ ভেঙে ফেলা হয়েছে দখলের মতলবে। কিন্তু পৌর শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে এই দুটি সমবায়ের অস্তিত্বের সঙ্গে। তাই সমাবেশ থেকেই আহ্বান উঠেছে এই দুটি পৌর সমবায়কে রক্ষা করতেই হবে শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থে। এদিন এই সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত দুটি বছর কর্পোরেশনের শ্রমিক কর্মচারীদের ওপর যাবতীয় আক্রমণ নামিয়ে আনা ছাড়াও গোটা শহর থেকেই তুলে দেওয়া হয়েছে যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা। দুর্নীতির জাল ছড়ানো হয়েছে লন্ডন বানানোর গল্প শুনিয়ে। অন্যদিকে, ধাপে ধাপে ঠিকাপ্রথার দাঁড়িপাল্লায় চাপানো হয়েছে গোটা পৌর পরিষেবাটাই। তাই নাগরিক স্বার্থ রক্ষা করার তাগিদ নিয়েই এবার কর্পোরেশনের সমস্ত পৌর শ্রমিক-কর্মচারীদের একজোট করে আরও ঐক্যের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেবে সি আই টি ইউ অনুমোদিত কে এম সি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।