আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

রাজ্য

জাতীয়

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

জেলা

খেলা

সম্পাদকীয়

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

দেশের শাকসবজি বেচার জন্য আমেরিকার
ব্যবসায়ীদের দরকার পড়ে না : ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিনিধি

হাওড়া, ২২শে আগস্ট— মুনাফার লোভে আমেরিকার নোংরা হাত ভারতবাসীর জীবনযাপনকে যাতে দুর্বিষহ করে দিতে না পারে তারজন্য সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানালেন সি পি আই (এম)-র পলিটব্যুরো সদস্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। মধ্যবিত্তদের উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে যেভাবে ভারতের বাজারকে বিদেশী পুঁজির সামনে উন্মুক্ত করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে তার বিরোধিতা করে এদিন তিনি বলেছেন, দেশবাসীকে শিক্ষিত করার জন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন হয় না, শাকসবজি বেচার জন্য আমেরিকার ব্যবসায়ীদের দরকার পড়ে না। ভারতের মানবসম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের নিজেদেরকেই আমাদের দেশকে দাঁড় করাতে হবে।

বুধবার সি পি আই (এম)-র হাওড়া জেলা কমিটি ‘সমসাময়িক বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ ও ভারত’ বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত করে পার্টির জেলা দপ্তর অনিল বিশ্বাস ভবনের চিত্তব্রত মজুমদার কক্ষে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সি পি আই (এম) নেতা স্বদেশ চক্রবর্তী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দীপক দাশগুপ্ত ও শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, পার্টির জেলা সম্পাদক বিপ্লব মজুমদারসহ জেলা নেতৃবৃন্দ। এই সভাতেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবিচল লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে এতদিন বাদে কমিউনিস্টদের সরকার থেকে সরিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব এত উৎসাহিত হয়েছেন যে নিজেই মহাকরণে চলে এসেছেন। সব কিছু দেখে যাওয়া দরকার বলে মনে করেছেন। আমরাও সবকিছুর ওপরে নজর রেখেছি। বামপন্থীরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ছাড়বে না, লড়াইয়ের পতাকা তুলে ধরে রাখবে।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কীভাবে ভারতের অর্থনীতি, রাজনীতি ও বিদেশনীতিতে প্রভাব ফেলতে চাইছে তার উল্লেখ করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেন, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলিতে হস্তক্ষেপ করার পরে এবার ভারতকে সঙ্গী করতে চাইছে আমেরিকা। আমেরিকার লগ্নিপুঁজি চাইছে ভারতের ব্যাঙ্ক বীমা, পেনশন এবং খুচরো বাজারের ক্ষেত্রকে দখল করতে। ভারতের যে তিরিশ চল্লিশ কোটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আছে তাঁদের দিকে তাকিয়ে ওয়ালমার্টের জিভ দিয়ে জল ঝরছে। ভারত সরকারও তাদের চাপে খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দিতে চাইছে।

ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দেশের মান্ধাতা আমলের বিপণন প্রক্রিয়াকে পালটানো দরকার। ভ্যানরিকশা বা ঠ্যালাগাড়িতে চাপিয়ে সবজি আনতে গিয়ে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যায়, ফোড়েরা জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু যদি একটা বা দুটো বিদেশী কোম্পানি এসে কৃষকের কাছ থেকে সব জিনিস কিনে নেয় তাহলে কৃষক দাম পাবে কিনা তার নিশ্চয়তা কোথায়? আর বাজারে এত লোক যাঁরা সবজি বিক্রি করেন তাঁদের কী হবে? পরিকাঠামো উন্নত করা দরকার, কিন্তু সেটা আমাদেরকেই করতে হবে। আমাদের দেশের সবজি বেচার জন্য আমেরিকার ব্যবসায়ীদের কোনো দরকার নেই।

একইভাবে ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী উচ্চশিক্ষিত মানুষ, তিনি উচ্চশিক্ষায় বিদেশী বিনিয়োগ আনতে চাইছেন। কিন্তু বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় মানে কী? এর মানে যাদের পয়সা আছে তাঁরা শিখবেন, আর যাঁদের নেই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সুযোগই পাবেন না। বিদেশী বিনিয়োগে বড়লোক হওয়া যায় না, আর বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত হওয়া যায় না। এরজন্য রাষ্ট্রের বিনিয়োগ দরকার।

এদিন সমসাময়িক বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভট্টাচার্য শুরুতেই বলেছেন, লেনিন সাম্রাজ্যবাদকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন এখন সাম্রাজ্যবাদ তার থেকেও শক্তিশালী হয়েছে। লগ্নিপুঁজি এখন আর শুধু শিল্পোৎপাদনে নয়, ফাটকাবাজিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে, যতরকমভাবে মুনাফা করা যায় তা করার জন্য দেশে দেশে হস্তক্ষেপ করছে।

এই লগ্নিপুঁজির বাজারের বন্দোবস্ত করার জন্য মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কীভাবে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দেশগুলিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে, মধ্য এশিয়াতে ইরাক, আফগানিস্তানে যুদ্ধ করেছে এবং সিরিয়ার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তার উল্লেখ করে ভট্টাচার্য বলেছেন, এই সব আমেরিকা ঘটিয়েছে আন্তর্জাতিক আইনকানুন লঙ্ঘন করে। এখন তারা এশিয়াতে ইরানকে আক্রমণের জন্য এবং চীনকে ঘেরার জন্য সামরিক পরিকল্পনা করছে, ভারতকেও তাতে সঙ্গী করার চেষ্টা করছে। ভারতের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুণ্ডায় যখন ভারত মার্কিন যৌথ মহড়া হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে টেলিফোন করে বলেছিলেন যাতে রাজ্য সরকার মার্কিনীদের যৌথ মহড়ায় সহযোগিতা করে সব ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু আমি তাঁকে বলে দিয়েছিলাম রাজ্য সরকার কোনো ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না।

ভট্টাচার্য বলেন, মার্কিন লগ্নিপুঁজির চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করা চলবে না। ভারতকে আমেরিকার দূরপাল্লার রণনীতিগত সম্পর্কে অন্তর্ভুক্ত করা চলবে না। আমরা ভারত সরকারের কাছে বারে বারে এই দাবিই করছি। কিন্তু ভারত সরকার দুর্বলতা দেখাচ্ছে। এমনকি ইরানে যে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলন হতে চলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাতে অংশ নেবেন কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। আমরা এই মার্কিন তোয়াজের বিরুদ্ধে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below