বর্ষায় চরম সমস‌্যায় মাটিগাড়ার মানুষ
দেড় বছরে চতুর্থ মহানন্দা সেতুর
বাকি কাজটুকুও শেষ হলো না

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি, ১৪ই সেপ্টেম্বর — প্রায় দু’বছর হতে চললো। কিন্তু এখনও চতুর্থ মহানন্দা সেতুর সামান্য বাকি কাজটুকু করে উঠতে পারলো না শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। বিগত এস জে ডি এ বোর্ডের আমলে চতুর্থ মহানন্দা সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়ে আসে। কিন্তু নির্বাচন এসে পড়াতে সামান্য কিছু কাজ বাকি থাকে। এস জে ডি এ-র নতুন বোর্ড সেই সামান্য কাজটুকুও শেষ করে উঠতে পারেনি। ফলে মাটিগাড়ার একটা বিরাট অংশের মানুষকে এখনও মহানন্দা নদী পার হবার জন্য নৌকার উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। না হলে অনেক ঘুরপথে শিলিগুড়ি আসতে হয়।

কয়েকদিন ধরেই শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিঙ পার্বত্য অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হবার দরুন বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে মহানন্দা নদীর জল বাড়তে থাকে। শুক্রবার সকাল থেকে প্রবল স্রোত বইতে থাকে। ঘাট পারাপারের জন্য একটি নৌকা জলের তোড়ে ভেসে যায়। স্রোতের টান দেখে মাঝি যাত্রী নিয়ে এপার ওপার করার সাহস দেখাননি। কিছুদিন আগেই এরকম স্রোতের মুখে পড়ে যাত্রী বোঝাই একটি নৌকা পারাপারের সময় উল্টে যায়। যদিও কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

মহানন্দা নদীর ওপারে মাটিগাড়া খোলাইবকতারি, শিশুডাঙ্গি, পতিরাম, তুম্বা সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের স্বার্থে চতুর্থ ও পঞ্চম মহানন্দা সেতু নির্মাণের উদোগ নেয়। ওই অঞ্চলের বহু মানুষ জীবন জীবিকার প্রয়োজনে এপারে আসেন। একইভাবে বহু পড়ুয়াকেও আসতে হয়। এপাড় থেকেও অনেক মানুষকে নানা কাজে ওপাড়ে যেতে হয়। বর্ষায় মহানন্দা খরস্রোতা হয়ে ওঠার দরুন অনেক ঘুরপথে তাদেরকে শিলিগুড়ি আসতে হয়। কিন্তু চতুর্থ মহানন্দা সেতু দিয়ে খুব সামান্য সময়েই বর্ধমান রোড বা জলপাইমোড়ে পৌঁছে যাওয়া যাবে। শুক্রবার নদী পারাপারের জন্য সাত সকালেই নিত্যযাত্রী ও পড়ুয়ারা হাজির হয় ঘাটে। কিন্তু মাঝি নৌকা চালাতে রাজি না হওয়ায় সবাইকেই ফিরে যেতে হয়। পরে সেই পুরানো ঘুর পথেই শিলিগুড়ি আসতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই মহানন্দা নদীর দুই তীরের বাসিন্দারাই ক্ষুব্ধ। তাদের অনেককেই বলতে শোনা যায় নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। দুপাড়ের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের স্বার্থে চতুর্থ মহানন্দা নদীর কাজ দ্রুত শেষ করার ফের দাবি জানালেন মানুষ।