আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সোচ্চার
যুবরা সম্মেলন থেকে রাজপথে

পীযূষ ব্যানার্জি

বাঙ্গালোর :১৪ই সেপ্টেম্বর— ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল গত রাত থেকেই। শুক্রবার সকালেই সেই আগুন বিস্ফোরণের চেহারা নিয়ে নেমে এলো রাজপথে।

বেলা তখন ১১টার আশপাশে। ডি ওয়াই এফ আই-র নবম সম্মেলনের হল ছেড়ে প্রতিনিধিরা নেমে এসেছেন রাস্তায়। শুধু প্রতিনিধিরাই নন, সঙ্গী হয়েছেন এস এফ আই-র স্বেচ্ছাসেবকরাও। রিসেপশন কমিটির ব্যাজ আঁটা সদস্য। এমনকি সম্মেলন স্থলে অস্থায়ী ছাউনি থেকে রাস্তায় নেমে পড়েন মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসকরাও।

শহীদ মঞ্চ থেকে বাঙ্গালোর শহরের প্রাণকেন্দ্র জে সি রোড তখন প্রতিবাদী যুবদের দখলে। অবরুদ্ধ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার মোড়। থমকে গেছে যান চলাচল। হতবাক বাঙ্গালোর শহরের পুলিস কর্মীরাও। এমন প্রতিবাদ দেখার অভিজ্ঞতা তো নেই এই শহরের।

হল থেকে বের হওয়ার সময়ই ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতেই রাস্তায় নেমে আসেন সম্মেলনের প্রতিনিধিরা। গোটা দেশ যেন তখন প্রতিবাদের এক প্রতিচ্ছবি নিয়ে হাজির। মোড়ের এক রাস্তা দখল করে কেরালার প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মাতৃভাষায়। বাংলার প্রতিনিধিরা তখন বসে পড়েছেন চার রাস্তার একদিক দখল করে। পাঞ্জাব থেকে স্লোগান উঠছে, ‘মনমোহন সিং কা রাজ মে/ জনতা যায় ঘাট মে।’

যুবদের দখলে চলে যাওয়া এই তল্লাট অনেকটা আমাদের কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকার মতোই। ফলে, বিক্ষোভের বহর দেখে সেখানকার উপস্থিত পুলিস কর্মীরা নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে ওয়াকিটকি-তে যোগাযোগ করেন ওপরতলার কর্তাদের সঙ্গে। খানিক পরেই ঘটনাস্থলে আসেন বাঙ্গালোর সিটি পুলিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যদার এক কর্তা এইচ কে ভেঙ্কটস্বামী। গাড়ি থেকেই তিনি প্রতিবাদী যুবকদের কাছে জানতে চান, ‘তোমরা আগাম না জানিয়ে কেন রাস্তা অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছো?’ জবাব মেলে সঙ্গে সঙ্গেই। ‘কেন্দ্রীয় সরকার কী দেশের জনগণকে আগাম জানিয়ে ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। সরকার যদি না জানিয়ে মানুষের ওপর বোঝা চাপাতে পারে। তাহলে আমরাও আপনাদের না জানিয়ে পথে নামতে পারি।’ পুলিস কর্তাকে জানিয়ে দেন যুব নেতৃত্ব। তুমুল স্লোগানে ঢাকা পড়ে যায় পুলিস কর্তার বাকি কথা।

গত রাতে প্রতিনিধি অধিবেশন চলাকালীন সম্মেলনে খবর পৌঁছে যায়— ফের পেট্রোপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তখন রাত। তাই ক্ষুব্ধ মন নিয়েই সম্মেলন স্থল ছেড়ে ফিরে আসেন প্রতিনিধিরা। রাতেই ঠিক হয়ে যায় যে, সকালেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। বলছিলেন ডি ওয়াই এফ আই-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তাপস সিনহা। তাই এদিন সকালে প্রতিনিধি অধিবেশনের শুরুতেই পেট্রোপণ্যের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তাপস সিনহা। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন যুবনেতা পুষ্পিন্দার সিং ত্যাগী। সম্মেলন থেকে প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেই বেরিয়ে পড়েন হল ছেড়ে। তারপর দখল নিয়ে নেন রাস্তার। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ। কিন্তু সেই প্রতিবাদের গভীরতা এতই বেশি ছিল যে গত রাতেই অভ্যর্থনা কমিটির ব্যবস্থাপনায় সব রাজ্যের প্রতিনিধি দলের কাছে পৌঁছে যায় পোস্টার পেপার আর মার্কার পেন। রাত থেকে এদিন সকাল, যে যেমন সময় পেয়েছেন তারমধ্যেই নিজ নিজ ভাষায় লিখে নেন প্রতিবাদী পোস্টার। তাই এদিন মালয়ালম, কন্নড়, গুরমুখী ভাষার সঙ্গেই জে সি রোডে চোখে পড়েছে, ‘অবিলম্বে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে’— বাংলায় লেখা পোস্টারও।

টানা প্রায় আধ ঘন্টা অবরোধের পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে ফের সম্মেলন হলে ফিরে আসেন প্রতিনিধিরা। তখনও থামেনি স্লোগান।

নির্ধারিত নিয়মে বেশ চলছিল সম্মেলন। কিন্তু তারই মধ্যে সভাপতিমণ্ডলী থেকে ঘোষণা করা হলো নাগাল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের নেতা সম্মেলনে কিছু বলবেন। কিন্তু সেটা কী করে সম্ভব?

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে প্রথম কোনো বামপন্থী সংগঠনের আত্মপ্রকাশকারী হিসাবে ডি ওয়াই এফ আই-র নবম সর্বভারতীয় সম্মেলনে ১০জন প্রতিনিধি আসার কথা ছিল বাঙ্গালোরে। কিন্তু গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে নাগাল্যান্ডে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বন্‌ধ ডাকার ফলে সেই প্রতিনিধিদের না আসার কথা সম্মেলনের শুরুর দিনই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন ডিমাপুর থেকে সম্মেলন মঞ্চে তাপস সিনহার মোবাইলে ফোন করেন ডি ওয়াই এফ আই-র নাগাল্যান্ড রাজ্য কমিটির প্রথম সম্পাদক ই ফিলিপ। সেই ফোন পেয়েই মোবাইলের স্পিকার চালু করে মাইক্রোফোনের সামনে ধরেন তাপস সিনহা। গোটা সম্মেলন তখন শুনছে ফিলিপের কথা। ‘সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ডিমাপুর থেকে ডিব্রুগড়। আবার ডিব্রুগড় থেকে বাঙ্গালোরগামী যশবন্তপুর এক্সেপ্রেসের টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু বন্‌ধের জন্য আমরা যেতে পারলাম না। যেতে পারলে এটাই আমাদের প্রথম সম্মেলনে যাওয়া হতো। আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতির জন্যই আমাদের রাজ্যে উগ্রপন্থী শক্তির এত বাড়বাড়ন্ত। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নবম সর্বভারতীয় সম্মেলন আগামীদিনে যে নির্দেশ দেবে আমরা পালন করবো।’ থেমে যায় মোবাইলের স্পিকারে ই ফিলিপের গলা। থামেনি অধিবেশন কক্ষ। উত্তাল হয়ে ওঠে স্লোগানে। অভূতপূর্ব উন্মাদনায় বাঙ্গালোরে উপস্থিত বাকি ভারত অভিনন্দন জানায় নাগাল্যান্ডকে।

রাস্তা থেকে অধিবেশনে ফিরে রাস্তায় নামা যে বন্ধ হচ্ছে না, তা এদিন জানিয়ে গেলেন ত্রিপুরার প্রতিনিধি সমীর দেব। রাজনৈতিক সাংগঠনিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সমীর দেব বলছিলেন, ‘আগামী ২০১৩ সালে আমাদের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছর ধরে গোটা দেশে বামপন্থীদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চলছে। কেরালা ও পশ্চিমবাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর সন্ত্রাসের কথা খবরের কাগজেও পড়ছি। এখানে এসেও শুনলাম। এই সব কিছুর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ত্রিপুরা। শত ষড়যন্ত্র হলেও ফের ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার গড়ার শপথ করছি এই সম্মেলনে।’ এদিন সম্মেলন থেকেও ত্রিপুরায় পুনরায় বামফ্রন্ট সরকারকে জয়ী করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তখন আরো একবার উদ্বেল হয়েছেন প্রতিনিধিরা।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সোচ্চার

যুবরা সম্মেলন থেকে রাজপথে

পীযূষ ব্যানার্জি : বাঙ্গালোর

১৪ই সেপ্টেম্বর— ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল গত রাত থেকেই। শুক্রবার সকালেই সেই আগুন বিস্ফোরণের চেহারা নিয়ে নেমে এলো রাজপথে।

বেলা তখন ১১টার আশপাশে। ডি ওয়াই এফ আই-র নবম সম্মেলনের হল ছেড়ে প্রতিনিধিরা নেমে এসেছেন রাস্তায়। শুধু প্রতিনিধিরাই নন, সঙ্গী হয়েছেন এস এফ আই-র স্বেচ্ছাসেবকরাও। রিসেপশন কমিটির ব্যাজ আঁটা সদস্য। এমনকি সম্মেলন স্থলে অস্থায়ী ছাউনি থেকে রাস্তায় নেমে পড়েন মেডিক্যাল টিমের চিকিৎসকরাও।

শহীদ মঞ্চ থেকে বাঙ্গালোর শহরের প্রাণকেন্দ্র জে সি রোড তখন প্রতিবাদী যুবদের দখলে। অবরুদ্ধ শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চার রাস্তার মোড়। থমকে গেছে যান চলাচল। হতবাক বাঙ্গালোর শহরের পুলিস কর্মীরাও। এমন প্রতিবাদ দেখার অভিজ্ঞতা তো নেই এই শহরের।

হল থেকে বের হওয়ার সময়ই ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতেই রাস্তায় নেমে আসেন সম্মেলনের প্রতিনিধিরা। গোটা দেশ যেন তখন প্রতিবাদের এক প্রতিচ্ছবি নিয়ে হাজির। মোড়ের এক রাস্তা দখল করে কেরালার প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মাতৃভাষায়। বাংলার প্রতিনিধিরা তখন বসে পড়েছেন চার রাস্তার একদিক দখল করে। পাঞ্জাব থেকে স্লোগান উঠছে, ‘মনমোহন সিং কা রাজ মে/ জনতা যায় ঘাট মে।’

যুবদের দখলে চলে যাওয়া এই তল্লাট অনেকটা আমাদের কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিং এলাকার মতোই। ফলে, বিক্ষোভের বহর দেখে সেখানকার উপস্থিত পুলিস কর্মীরা নিজেরা ঝুঁকি না নিয়ে ওয়াকিটকি-তে যোগাযোগ করেন ওপরতলার কর্তাদের সঙ্গে। খানিক পরেই ঘটনাস্থলে আসেন বাঙ্গালোর সিটি পুলিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যদার এক কর্তা এইচ কে ভেঙ্কটস্বামী। গাড়ি থেকেই তিনি প্রতিবাদী যুবকদের কাছে জানতে চান, ‘তোমরা আগাম না জানিয়ে কেন রাস্তা অবরোধ করে রেখে বিক্ষোভ দেখাচ্ছো?’ জবাব মেলে সঙ্গে সঙ্গেই। ‘কেন্দ্রীয় সরকার কী দেশের জনগণকে আগাম জানিয়ে ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। সরকার যদি না জানিয়ে মানুষের ওপর বোঝা চাপাতে পারে। তাহলে আমরাও আপনাদের না জানিয়ে পথে নামতে পারি।’ পুলিস কর্তাকে জানিয়ে দেন যুব নেতৃত্ব। তুমুল স্লোগানে ঢাকা পড়ে যায় পুলিস কর্তার বাকি কথা।

গত রাতে প্রতিনিধি অধিবেশন চলাকালীন সম্মেলনে খবর পৌঁছে যায়— ফের পেট্রোপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তখন রাত। তাই ক্ষুব্ধ মন নিয়েই সম্মেলন স্থল ছেড়ে ফিরে আসেন প্রতিনিধিরা। রাতেই ঠিক হয়ে যায় যে, সকালেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। বলছিলেন ডি ওয়াই এফ আই-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তাপস সিনহা। তাই এদিন সকালে প্রতিনিধি অধিবেশনের শুরুতেই পেট্রোপণ্যের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রস্তাব উত্থাপন করেন তাপস সিনহা। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন যুবনেতা পুষ্পিন্দার সিং ত্যাগী। সম্মেলন থেকে প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেই বেরিয়ে পড়েন হল ছেড়ে। তারপর দখল নিয়ে নেন রাস্তার। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ। কিন্তু সেই প্রতিবাদের গভীরতা এতই বেশি ছিল যে গত রাতেই অভ্যর্থনা কমিটির ব্যবস্থাপনায় সব রাজ্যের প্রতিনিধি দলের কাছে পৌঁছে যায় পোস্টার পেপার আর মার্কার পেন। রাত থেকে এদিন সকাল, যে যেমন সময় পেয়েছেন তারমধ্যেই নিজ নিজ ভাষায় লিখে নেন প্রতিবাদী পোস্টার। তাই এদিন মালয়ালম, কন্নড়, গুরমুখী ভাষার সঙ্গেই জে সি রোডে চোখে পড়েছে, ‘অবিলম্বে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে’— বাংলায় লেখা পোস্টারও।

টানা প্রায় আধ ঘন্টা অবরোধের পর প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে ফের সম্মেলন হলে ফিরে আসেন প্রতিনিধিরা। তখনও থামেনি স্লোগান।

নির্ধারিত নিয়মে বেশ চলছিল সম্মেলন। কিন্তু তারই মধ্যে সভাপতিমণ্ডলী থেকে ঘোষণা করা হলো নাগাল্যান্ডের প্রতিনিধি দলের নেতা সম্মেলনে কিছু বলবেন। কিন্তু সেটা কী করে সম্ভব?

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে প্রথম কোনো বামপন্থী সংগঠনের আত্মপ্রকাশকারী হিসাবে ডি ওয়াই এফ আই-র নবম সর্বভারতীয় সম্মেলনে ১০জন প্রতিনিধি আসার কথা ছিল বাঙ্গালোরে। কিন্তু গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে নাগাল্যান্ডে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বন্‌ধ ডাকার ফলে সেই প্রতিনিধিদের না আসার কথা সম্মেলনের শুরুর দিনই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু এদিন ডিমাপুর থেকে সম্মেলন মঞ্চে তাপস সিনহার মোবাইলে ফোন করেন ডি ওয়াই এফ আই-র নাগাল্যান্ড রাজ্য কমিটির প্রথম সম্পাদক ই ফিলিপ। সেই ফোন পেয়েই মোবাইলের স্পিকার চালু করে মাইক্রোফোনের সামনে ধরেন তাপস সিনহা। গোটা সম্মেলন তখন শুনছে ফিলিপের কথা। ‘সম্মেলনে যাওয়ার জন্য ডিমাপুর থেকে ডিব্রুগড়। আবার ডিব্রুগড় থেকে বাঙ্গালোরগামী যশবন্তপুর এক্সেপ্রেসের টিকিট কাটা ছিল। কিন্তু বন্‌ধের জন্য আমরা যেতে পারলাম না। যেতে পারলে এটাই আমাদের প্রথম সম্মেলনে যাওয়া হতো। আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতির জন্যই আমাদের রাজ্যে উগ্রপন্থী শক্তির এত বাড়বাড়ন্ত। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। নবম সর্বভারতীয় সম্মেলন আগামীদিনে যে নির্দেশ দেবে আমরা পালন করবো।’ থেমে যায় মোবাইলের স্পিকারে ই ফিলিপের গলা। থামেনি অধিবেশন কক্ষ। উত্তাল হয়ে ওঠে স্লোগানে। অভূতপূর্ব উন্মাদনায় বাঙ্গালোরে উপস্থিত বাকি ভারত অভিনন্দন জানায় নাগাল্যান্ডকে।

রাস্তা থেকে অধিবেশনে ফিরে রাস্তায় নামা যে বন্ধ হচ্ছে না, তা এদিন জানিয়ে গেলেন ত্রিপুরার প্রতিনিধি সমীর দেব। রাজনৈতিক সাংগঠনিক রিপোর্টের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সমীর দেব বলছিলেন, ‘আগামী ২০১৩ সালে আমাদের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। গত কয়েক বছর ধরে গোটা দেশে বামপন্থীদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চলছে। কেরালা ও পশ্চিমবাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর সন্ত্রাসের কথা খবরের কাগজেও পড়ছি। এখানে এসেও শুনলাম। এই সব কিছুর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ত্রিপুরা। শত ষড়যন্ত্র হলেও ফের ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার গড়ার শপথ করছি এই সম্মেলনে।’ এদিন সম্মেলন থেকেও ত্রিপুরায় পুনরায় বামফ্রন্ট সরকারকে জয়ী করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। তখন আরো একবার উদ্বেল হয়েছেন প্রতিনিধিরা।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below