আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

রুখতে হবে এই মূল্যবৃদ্ধি

সংবাদ সংস্থা

বৃহস্পতিবার মাঝরাত থেকেই ডিজেলের দাম বেড়ে গেল লিটার প্রতি ৫ টাকা। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের উপরেও কোপ পড়লো। ডিজেলের দাম চড়া হারে বাড়ায় পরিবহনের ব্যয় বাড়বে। তার প্রভাব পড়বে মূল্যস্তরে। সাধারণ মানুষের ঘাড়ে আ‍‌রো বোঝা চাপালো।দ্বিতীয় ইউ পি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার পর মনমোহন সিং ঘোষণা করেছিলেন আমজনতাই হবে তাঁর সরকারের অভিমুখ। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আমজনতার মু‍‌খোশটি খসে গিয়ে পুঁজিপতি মুখটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। যে আমজনতার স্বার্থে সরকারের ভরতুকি দেবার দায়বদ্ধতা সেই আমজনতা ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে ওঠে। সরকার মনোযোগ দেয় কর্পোরেট তোষণে। আমজনতাকে প্রয়োজন ভোটের আগে। কারণ আমজনতার ভোট না হলে গদি থাকবে না। তাই ভোটের আগে আমজনতার জন্য কথার ফুলঝুরির অন্ত ছিল না। ক্ষমতা দখলের পরই আমজনতার খোলস ছাড়া শুরু হয়ে যায়। বেরিয়ে পড়ে আসল পুঁজিপতি সেবকের নিখাদ অবয়বটি। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সেটাই হয়েছে। আপাদমস্তক যে সরকারটি নয়া উদারনীতির সমর্থক ও অনুসারী তারা আর যাই হোক আমজনতার স্বার্থ দেখতে পারে না। কর্পোরেট সেবায় আত্মোৎসর্গিত সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার আর ভণ্ডামি করে। বিগত তিন বছর ধরে সাধারণ মানুষের ব্যবহারিক জিনিসপত্রের দাম অত্যন্ত বেশি। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতির হার উচ্চগ্রামে। তার জেরে মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। শিল্পপতি-ব্যবসায়ীদের মুনাফায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় সরকার পণ্যমূল্য হ্রাসে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, অর্থনৈতিক মন্দার জেরে কর্পোরেট সংস্থার আয়ে টান পড়ায় মনমোহন সরকার প্রতিবছর কর ছাড়াও অন্যান্য উপায়ে তাদের ঘাটতি মিটিয়ে দেয়। অর্থাৎ কর্পোরেট দুনিয়া ও বিত্তবানদের আয়ের গ্যারান্টি দেয় সরকার। তার জেরে কমে সরকারের আয়। ফলে কোষাগারীয় ঘাটতি বাড়তে থাকে।

কোষাগারীয় ঘাটতি বৃদ্ধি উদারনীতিতে চলে না। তাই উদারনীতির দাওয়াই হলো কোষাগারীয় ঘাটতি কমাতে হবে। সম্প্রতি রেটিং সংস্থাগুলিও অনুরূপ দাওয়াই দিয়ে সতর্ক করেছিল। ঘাটতি না কমলে রেটিং আরও কমানো হবে। কোষাগারীয় ঘাটতি কমে প্রধানত দু’ভাবে, ১) কর বৃদ্ধি, ২) ভরতুকি হ্রাস। কর বাড়াতে হলে কোপ পড়তে পারে কর্পোরেট সংস্থা ও বিত্তবানদের ওপর, সেটা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। একমাত্র রাস্তা ভরতুকি হ্রাস। ভরতুকি কমিয়ে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে যন্ত্রণার বোঝা চাপানো সবচেয়ে সহজ কাজ। এই পথেই বাড়ে সারের দাম। এ‍‌ই পথেই বাড়ে পেট্রোপণ্যের দাম। এই পথেই রেশন ব্যবস্থা দুর্বল হয়, রেশনের খাদ্যের দাম বাড়ে। ভরতুকি কমিয়ে যদি ঘাটতি কমানো যায় তাহলে কর্পোরেট-বিত্তবানদের আরও ছাড় দিয়ে আরও মুনাফার ব্যবস্থা করা যায়। মনমোহন সিংরা মনেপ্রাণে সেটাই চান। তাই এক ধাক্কায় ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১২ শতাংশ বাড়িয়ে দিলেন। ডিজেলের দাম এক লাফে এতটা বৃদ্ধি অতীতে কোনোদিন হয়নি। পাশাপাশি রান্নার গ্যাসে ভরতুকি ছাঁটাই করতে পরিবার পিছু সিলিন্ডার সংখ্যা এতটাই কমিয়ে দেওয়া হলো যে এবার তাদের গ্যাসের জন্য অনেকটাই বাড়তি খরচা হবে। এইভাবে দাম বাড়িয়ে আসলে সরকার বাড়তি আয়ের ব্যবস্থাও করেছে। জনগণের ঘাড়ে কোপ দিয়ে সরকার কর্পোরেটকে আরও ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে। এটা কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করা যাবে না। বামপন্থীরা ইতোমধ্যেই এর বিরুদ্ধে আন্দোলন দুর্বার করার ডাক দিয়েছে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below