বেলেঘাটায় মিছিলে, পার্টি অফিসে তৃণমূলের হামলা  | আক্রান্ত পার্টি নেতা, জখম গণশক্তি’র সাংবাদিক  | প্রথম দফায় খাতা খুলতে পারবে না তৃণমূল : মিশ্র  | মেদিনীপুরে মিছিল করে এসে মনোনয়ন দিলেন বামফ্রন্টের তিন প্রার্থী  | কালনায় গৌতম দেবের জনসভার প্রচার গাড়িতে তৃণমূলের হামলা  | জলপাইগুড়িতে ৮৪%, আলিপুরদুয়ার ৮২% তৃণমূলীদের বাধা, হুমকি উপেক্ষা করেই মানুষ ‍‌ভোট দিলেন  | গলসীতে বিশাল সমাবেশ মানুষের জয় রুখে দেবার সাধ্য কারোর নেই : মিশ্র  | চেন্নাইয়ের শ্রমজীবী মহল্লায় এখন ঢেউ তুলেছে লালঝাণ্ডা  | বি জে পি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে এই প্রথম আক্রমণ গুজরাট মডেল ‘কাল্পনিক’, বললেন জয়ললিতা  | পঞ্চম দফায় ১২রাজ্যে ভোট পড়লো ৬০শতাংশের বেশি

আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

ছত্রিশ মাসে বছর

সকলের ১২ মাসে বছর হলেও কারো কারো আঠারো মাসেও বছর হয়। অবশ্য মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল সরকারের ক্ষেত্রে ছত্রিশ মাসেও যে বছর হয় না তা পরিষ্কার হয়ে গেল ডেঙ্গু কাণ্ডে। কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে বাড়তে প্রায় মহামারীর চেহারা নিলেও কিছুতেই তা স্বীকার করতে রাজি নয় ‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকার। শেষপর্যন্ত ডেঙ্গুর আক্রমণে ৪২ জনের মৃত্যুর পর তৃণমূল সরকার প্রকারান্তরে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে রাজ্যে ডেঙ্গু সত্যি সত্যিই মারাত্মক চেহারা নিয়েছে। এতদিন কথায় কথায় ডেঙ্গুর অস্তিত্ব অস্বীকার করলেও, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাকে আড়াল করার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। এমনকি রাজ্যপালকেও বলতে হয়েছে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢিলেমির কথা। তাই প্রশ্ন উঠছে সেই স্বীকার যদি করতেই হলো তাহলে এত দেরিতে কেন? গোড়াতেই যদি সরকারের বোধোদয় হতো তাহলে ৪২টি অমূল্য জীবন নষ্ট হতো না। পরিবর্তনের সরকারের কাছে যদি ৪২টি জীবনের ন্যূনতম মূল্যও থাকতো তাহলে তাদের বারো মাসেই বছর হতো, ছত্রিশ মাসে হতো না।

গত কয়েকমাস ধরে সরকার এবং পৌরসভার ভূমিকা থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেছে, সরকার সমস্যা মোকাবিলায় বিন্দুমাত্র আগ্রহী নয়। তারা ব্যস্ত সমস্যাকে অস্বীকার এবং আড়াল করায়। সরকারের কৌশল হলো সমস্যাকে অস্বীকার ও আড়াল করে নিজেদের দায়মুক্ত করা। ডেঙ্গু হয়নি বা ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে না অথবা ডেঙ্গুতে কেউ মরছে না ইত্যাদি প্রচার করতে পারলে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কোনো দায় থাকে না। তাই মুখ্যমন্ত্রী গোড়া থেকেই বলতে শুরু করেন ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার হচ্ছে। আসলে তেমন কিছুই ঘটছে না। তিনি ডাক্তারদের ওপর ডাক্তারি করার মতো জানিয়ে দেন ডাক্তাররা ইচ্ছে করে ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গু লিখছেন। অন্য কারণে মৃত্যু হলেও ডেঙ্গু লিখে দিচ্ছেন। অর্থাৎ মৃত্যু সার্টিফিকেটে ডেঙ্গু কথা লেখার ক্ষেত্রে ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি জারি করে দেওয়া হয়। একসময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ডাক্তারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে জানিয়ে দেন কোন্‌ পরীক্ষায় কী ফল পেলে তাকে ডেঙ্গু বলা হবে। এইসব কিছুর লক্ষ্য, ডাক্তাররা যাতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হলেও ডেঙ্গু না লেখেন তা নিশ্চিত করা। তাতে রাজ্যে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা কমানো যাবে এবং আড়াল করা যাবে। এতদসত্ত্বেও এপর্যন্ত ডেঙ্গুতেই মৃত্যু হয়েছে ৪২ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সঙ্কেত পেয়ে পৌরমন্ত্রী এক ধাপ এগিয়ে হাস্যকরভাবে ঘোষণা করেন ডেঙ্গুর প্রসার প্রকৃতির নিয়ম। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। ভারতের সেনাবাহিনী নামালেও ডেঙ্গু ঠেকানো যাবে না। মেয়র বৃষ্টির আশায় হাত তুলে কর্তব্য সারেন। শেষে কয়েক পশলা ভাল বৃষ্টির পর জানিয়ে দেন এবার ডেঙ্গু বিদায় নেবে। কিন্তু ডেঙ্গু বিদায় নেয়নি। একইভাবে শুধু রোগ ছড়াচ্ছে না, মরণ কামড়ও দিচ্ছে। অবশেষে পালাবার পথ না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করতে বাধ্য হলেও ডেঙ্গু মোকাবিলা ঠিক মতো হয়নি। মেয়র বললেন, আগামী বছর আগে থেকে কাজে নামবে কর্পোরেশন। কিন্তু এবছর কি হবে? বললেন না মুখ্যমন্ত্রী, বললেন না মেয়র। অতএব ডেঙ্গুর মহামারী চলবে। ডেঙ্গুতে মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। সরকার শুধু মজা দেখবে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below