শুক্রবারও বাঘাযতীনে সেই তারক দাসের
নেতৃত্বে তৃণমূলী তাণ্ডব, জখম ২পার্টিকর্মী

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই সেপ্টেম্বর— বৃহস্পতিবার রাতভর তাণ্ডব চালানোর পর ফের শুক্রবার বাঘাযতীনে সি পি আই(এম) কর্মীদের উপর হামলা চালালো সশস্ত্র তৃণমূলী বাহিনী। পুলিস প্রশাসন নির্বিকার। সশস্ত্র হামলার নেতৃত্বে সেই কলকাতা পুলিসের মেটিয়াব্রুজ থানার কনস্টেবল, তৃণমূল কর্মী তারক দাস। পুলিস কর্মী তৃণমূলী তারক দাস প্রকাশ্যে রিভলবার হাতে হুমকি দিচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে! তারপরেও মমতা ব্যানার্জির ’নিরপেক্ষ’ পুলিস প্রশাসন দর্শকের ভূমিকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার তৃণমূল বিধায়ক এবং মন্ত্রী মণীশ গুপ্তের মদতেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলছে হামলা। গোটা এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষজন আতঙ্কিত, ত্রস্ত।

বৃহস্পতিবার রাতভর বাঘাযতীন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তারক দাসের নেতৃত্বে প্রায় ৫০জনের সশস্ত্র তৃণমূলী বাহিনী হামলা চালিয়ে দুটি সি আই টি ইউ অফিস ও একটি সি পি আই(এম)’র শাখা অফিস ভাঙচুর করে। বাঘাযতীন লেভেল ক্রসিং-এর সামনে সি আই টি ইউ’র অফিস কার্যত পুড়িয়ে দেওয়া হয়। মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে দপ্তরটি। ভাঙা হয়েছে ৪টি শহীদ বেদী। হামলা চালানো হয়েছে চারজন সি পি আই (এম) কর্মীর বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে প্রায় আড়াই-তিন ঘন্টা ধরে এলাকা অবরুদ্ধ করে এই হামলা চালানো হয়। ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পাটুলি থানা। পাঁচ মিনিটের পথ পেরিয়ে তবুও ঘটনাস্থলে আসতে পুলিসের সকাল হয়ে যায়। গায়ের জোরে হামলা চালিয়ে বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া সি আই টি ইউ অফিস দখল করে নেয় তৃণমূলীরা। তৃণমূলীদের দখল করা সেই অফিসের সামনেই পুলিস পিকেটিং ছিল শুক্রবার দিনভর।

আক্রান্ত পরিবার ও সি পি আই(এম)’র তরফে শুক্রবারই পাটুলি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল সশস্ত্র তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গত দুদিন ধরে লাগাতার হামলা, আক্রমণের সময় পার্টি কর্মীর স্ত্রী’র গলা থেকে হার চুরি সহ একাধিক ঘটনায় পৃথক ভাবে পাঁচটি এফ আই আর করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতেই অভিযুক্ত কলকাতা পুলিসের কনস্টেবল, তৃণমূল কর্মী তারক দাস। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও এদিন রাত পর্যন্ত এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সে এলাকাতে থাকলেও পুলিস নাকি তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। প্রশাসন এই হামলাকারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। উলটে আক্রমণকারী তৃণমূলীরাই সি পি আই(এম) নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

তৃণমূলীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে সম্প্রতি বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া সি আই টি ইউ অফিস দখল করে নেয়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারই বাঘাযতীন স্টেশনের সামনে সি আই টি ইউ বিশাল প্রতিবাদ সভা করে। স্থানীয় মানুষজন, মহিলারাও যোগ দেন এই সমাবেশে। বাসিন্দারাই উদ্যোগ নিয়ে ফের নতুন করে ঐ অফিস খোলে। সেখানে টাঙানো হয় লাল ঝাণ্ডা। এরপরেই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের হামলা চালানো শুরু করে তৃণমূলীরা। শুক্রবার সকালে বাঘাযতীন বীর নগর মোড়ে সি পি আই(এম) কর্মী সুজিত দে ও কমলেন্দু দাসের ওপর চড়াও হয় তৃণমূলীরা। লাঠি, লোহার রড, থান ইট এমনকি বেলচা দিয়েও নৃশংসভাবে মারা হয় তাঁদের। সুজিত দে’কে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কমলেন্দু দাসকে পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। উন্মত্ত তৃণমূলীরা সি পি আই(এম) কর্মী পলাশ নাগ, নির্মল পাল, তিমির বরণ দাস, পিন্টু দাসের বাড়িতে আক্রমণ চালায়। রাতে বাড়িতে ঢুকে শাবল দিয়ে ভাঙচুর, লুঠপাট চালানো হয়। গোটা এলাকা জুড়ে সন্ত্রস্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে এবং আক্রান্তদের বাড়িতে যান ১১০নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দনা ঘোষ দস্তিদার, পার্টি নেত্রী দীপা রায় সহ স্থানীয় নেতৃত্ব।