আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম
কংগ্রেসের সঙ্গে গড়াপেটা খেলছে তৃণমূল: কারাত

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই সেপ্টেম্বর— ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে গড়াপেটা খেলছে তৃণমূল। ওরা দিল্লিতে একরকম আচরণ করছে, পশ্চিমবঙ্গে অন্যরকম বলছে। শুক্রবার এই মন্তব্য করেছেন সি পি আই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত।

এদিন প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে কমরেড পি সুন্দরাইয়ার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ কারাত বলেন, ইউ পি এ সরকার জনসাধারণের ওপর আরো আক্রমণ নামিয়ে এনেছে। ইতোমধ্যেই ডিজেলের দাম ৫টাকা বাড়িয়ে দেশের মানুষের জন্য তারা উপহার ঘোষণা করেছে। জনসাধারণকে আরো সম্মান জানিয়েছে রান্নার গ‌্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়ে! এমনকি, বহু ব্র্যান্ডের খুচরো বাণিজ্যের ক্ষেত্রও বহুজাতিক সংস্থাগুলির কাছে খুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের আর্থিক ক্ষেত্রকে ওরা বিদেশী বহুজাতিকদের কাছে আরো উন্মুক্ত করছে। বহুজাতিক ফাটকাবাজ সংস্থাগুলিকে ঢালাও প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা খুবই বিপজ্জনক।

প্রকাশ কারাত এদিন বলেন, কেন্দ্রে ইউ পি এ সরকার যখন এরকম একটার পর একটা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তখন এই জোটের শরিক তৃণমূল অদ্ভুত আচরণ করছে। দিল্লিতে ওরা কিছুই বলছে না, আর এরাজ্যে বলছে, আমরা কিছু জানি না, আমাদের সঙ্গে কোনরকম আলোচনা হয়নি। কারাত বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি (সি সি পি এ) ডিজেল ও রান্নার গ‌্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে কমিটির সদস্য কেন্দ্রে তৃণমূলের ক‌্যাবিনেট মন্ত্রী মুকুল রায়ও। তিনদিন আগে এই কমিটির বৈঠক হয়েছে, এজেন্ডা দিয়ে। তৃণমূলের ক‌্যাবিনেট মন্ত্রী সেই বৈঠকে যাননি। অথচ এখানে এসে ওরা বলছে, আমরা এই দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে! কারাত বলেন, যদি সত্যিই তৃণমূল এর বিরুদ্ধে থাকতো তবে ওদের ক‌্যাবিনেট মন্ত্রী এই বৈঠকে গিয়েই তো এর প্রতিবাদ করতে পারতেন! যেহেতু ইউ পি এ সরকার তার শরিকদের সমর্থনের ওপরে নির্ভরশীল, তাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করলে তা ওখানেই আটকে থাকতো। কিন্তু তৃণমূল সেটা না করে রাজ্যে অন্য কথা বলছে। আসলে ওরা কংগ্রেসের সঙ্গে গড়াপেটা খেলছে, যা হলো তোমরা তোমাদের মতো করে যাও, আমরা বলবো আমরা কিছু জানি না। এটা এখন মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

খুচরো ব‌্যবসায় মাল্টি-ব্র্যান্ড সংস্থাগুলিকে অনুমতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত এদিন কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছে তার তীব্র বিরোধিতা করে প্রকাশ কারাত বলেন, এরফলে লক্ষ লক্ষ ছোটো দোকানদারের জীবনে সর্বনাশ নেমে আসবে। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে প্রথম ইউ পি এ সরকার গঠনের সময় থেকেই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এই চেষ্টা করে আসছেন। কিন্তু আমাদের বিরোধিতায় তা করতে পারেননি। উনি তখন আমায় একদিন জানান, ওয়াল মার্টের প্রধানকে উনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তখনই ওয়াল মার্টের প্রধানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন খুচরো ব‌্যবসায় কোনো বহুজাতিক সংস্থাকে আমরা ঢুকতে দেবো না। প্রকাশ কারাত বলেন, দেশের অধিকাংশ রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। আমরা চাইছি, এর বিরুদ্ধে যতটা ব‌্যাপকতম সম্ভব ঐক্য গড়ে তুলে আন্দোলনে নামতে। সেই চেষ্টা আমরা করছি।

প্রকাশ কারাত বেসরকারী সংস্থাকে কয়লার ব্লক বণ্টন নিয়ে ব‌্যাপক দুর্নীতির প্রসঙ্গে এদিন বলেন, এবিষয়ে সি এ জি রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত ভেস্তে গেছে। কোনো আলোচনাই হতে পারেনি। একদিকে, কংগ্রেস বলছে, কোনো দুর্নীতিই হয়নি, সব ঠিকঠাক হয়েছে। আর অন্যদিকে, বি জে পি বলছে, আগে প্রধানমন্ত্রী পদত‌্যাগ করুন, তারপর আলোচনা হবে। কারাত বলেন, এবিষয়ে আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। কয়লা আমাদের দেশের জাতীয় সম্পদ। একে বেসরকারী হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমরা।

বি জে পি আমলেই যে এই দুর্নীতির শুরু, তার উল্লেখ করে এদিন কারাত বলেন, আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের যে নীতির ফলে এই ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, তা বি জে পি-র নেতৃত্বে এন ডি এ সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে সংসদে বিল এনে কয়লা ক্ষেত্রকে জাতীয়করণ করা হয়। ২০০০ সালে এন ডি এ সরকার এই ক্ষেত্রকে বেসরকারীকরণ করার লক্ষ্যে বিল আনলে কয়লা শিল্পের ট্রেড ইউনিয়নগুলি সর্বাত্মক ধর্মঘট করে। যার ফলে বিলটি আর অনুমোদিত হয়নি। কিন্তু পিছনের দরজা দিয়ে এই শিল্পে বেসরকারী মালিকদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে বি জে পি জোট সরকার। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ও তার সাবসিডিয়ারি সংস্থাগুলি উত্তোলন কম করছে এই অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থাকে নিজস্ব কারখানায় ব্যবহারের জন্য কয়লার ব্লক বণ্টন করা শুরু হয়। কারাত বলেন, এখন সি এ জি রিপোর্ট থেকে দেখা যাচ্ছে, কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, ইস্পাত বা বিদ্যুৎ শিল্পের কোনো সংস্থা নয়, এমন সংস্থাকেও কয়লা ব্লক দেওয়া হয়েছে। এরফলে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে এসে পড়েছে।

কারাত এই প্রশ্নে সি পি আই (এম)-র অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম কয়লার সঞ্চয় আমাদের দেশের মাটির তলায় রয়েছে। এই জাতীয় সম্পদকে বেসরকারী সংস্থার হাতে লুট হতে দিতে আমরা পারি না। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, আরো বেশি কয়লা উত্তোলনের জন্য কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড ও তার সাবসিডিয়ারি সংস্থাগুলিকে আরো শক্তিশালী করে তোলা প্রয়োজন। কয়লা ক্ষেত্রের প্রায় ১০শতাংশ ইতোমধ্যেই বেসরকারী হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্য, কোল ইন্ডিয়া বা তার সাবসিডিয়ারি সংস্থাগুলি যদি না পারে, তবে প্রতিটি রাজ্যে স্টেট মাইনিং কর্পোরেশন আছে। তাদের হাতে এই অতিরিক্ত উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে, বেসরকারী হাতে আর নয়। প্রকাশ কারাত বলেন, আমরা চাই সংসদে এনিয়ে আলোচনা হোক। সংসদের ভেতরে ও বাইরে আমরা এনিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below