আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

ডিজেল, গ‌্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে
রাজ্যের সর্বত্র বিক্ষোভ, মিছিলের ডাক

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৪ই সেপ্টেম্বর— ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভরতুকিতে রান্নার গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে রাজ্যের সর্বত্র বিক্ষোভ ও মিছিলের আহ্বান জানালো সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি। মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানুষকে সমবেত করে ব্যাপক ও ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচী নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে পার্টির পক্ষ থেকে।

সি পি আই (এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বৈঠক শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নিরুপম সেন। বৈঠকের পরে রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিমান বসু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৫-১৬ই সেপ্টেম্বর রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই অধিবেশনে পেশ করার জন্য একটি প্রতিবেদন এদিন আলোচনার পরে গৃহীত হয়েছে রাজ্য কমিটিতে।

এই বিবৃতিতেই রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে ডিজেলের লিটার প্রতি ৫টাকা হারে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজ্য কমিটি ডিজেলের অস্বাভাবিক চড়া হারে মূল্যবৃদ্ধি এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা ৬টিতে নিয়ন্ত্রিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেছে। ডিজেলের দামের এই নজিরবিহীন বৃদ্ধি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়সহ সমস্ত জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেবে। মূল্যবৃদ্ধির চাপে ভুগতে থাকা মানুষকে আরো দুর্দশার মধ্যে পড়তে হবে। কৃষিপণ্য উৎপাদনের খরচ পুনরায় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কৃষকরা। রান্নার গ্যাসের জন্য প্রকৃত ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। আক্রান্ত হবেন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত মানুষ। কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো শরিকই এই মূল্যবৃদ্ধির দায় অস্বীকার করতে পারে না। রাজ্য কমিটি মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। যতক্ষণ কেন্দ্রের ইউ পি এ সরকার মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার না করছে, ততক্ষণ পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের প্রাপ্য করে ছাড় দেওয়ার জন্য জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে রাজ্য সরকারের কাছে। কেননা এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারের রাজস্বও বাড়বে। এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে রাজ্যের সর্বত্র বিক্ষোভ, মিছিলের আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য কমিটি। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের বহু জায়গায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালিত হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবিতে জনগণকে সমবেত করে ব্যাপক ও ধারাবাহিকভাবে এই প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করতে হবে।

এদিনই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র সাংবাদিকদের কাছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের নিন্দা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে এই খাতে রাজস্ব বাবদ অতিরিক্ত আয় ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় কর হিসাবে রাজ্য সরকারের আয় বেড়ে যাবে। এই অতিরিক্ত আয় রাজ্য সরকারের বাজেটে ধরা ছিল না। তাই মানুষের সুবিধার জন্য এই অতিরিক্ত আয় ছেড়ে দিলেও রাজ্য সরকারের কোনো অসুবিধা হবে না। পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকার এভাবে অতিরিক্ত আয় ছেড়ে দিয়েছিল।

ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ বলেছেন, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির দ্বিমুখী আঘাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে ৮শতাংশ। জিনিসের দাম বাড়বে, চাষের কাজ ব্যাহত হবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন চলবে কলকাতা ও জেলাগুলির গ্রাম শহরে। তিনি আরো বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মূল্যবৃদ্ধির তথাকথিত বিরোধিতার নামে যে দ্বিচারিতা করছেন তা নিন্দনীয়। প্রতিবাদের কথা বললেও তারা কখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ত্যাগের কথা বলছে না। এটা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা।

সি পি আই (এম এল) লিবারেশনের রাজ্য কমিটির মুখপাত্র বাসুদেব বসু বলেছেন, শনিবার এরাজ্যের সব জেলায় সি পি আই (এম এল) প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। তৃণমূল কংগ্রেস যদি সত্যিই কেন্দ্রের এই জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা করতে চায় তবে তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসুক। পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক কৃষক সভা (বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট) সাধারণ সম্পাদক প্রবোধ পাণ্ডা জানিয়েছেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষকদের সঙ্কট আরো গভীর হবে। মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোর সঙ্গে আমরা রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, কৃষিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও সস্তায় ডিজেল সরবরাহ করতে হবে।

এদিকে, আসামের জনজাতি সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনাতেও সি পি আই (এম) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিন সি পি আই (এম)-র রাজ্য কমিটির বিবৃতিতে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আসামের মানুষকে নিরাপত্তা দিতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। সি পি আই (এম)-র দাবি, এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে শরণার্থী শিবিরে থাকা ও ঘরছাড়া সমস্ত মানুষকে পুনর্বাসন দিতে হবে। সব ঘরছাড়া মানুষকে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আসাম সরকারকে করতে হবে। সমস্ত অংশের মানুষের মধ্যে ঐক্য, সংহতি বজায় রাখার জন্য রাজ্য কমিটি আহ্বান জানিয়েছে। আসামে ঘরছাড়া মানুষকে সাহায্য করার জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পার্টির পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীদিনে সহমর্মিতার আরো কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে বলে রাজ্য কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below