আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

সম্পাদকীয়

শাসকের সন্ত্রাস

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

রাস্তায় বাস অমিল,
ভ্রুক্ষেপ নেই রাজ্যের

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৭ই সেপ্টেম্বর— সোমবার অনির্দিষ্টকালীন বাসের চাকা বন্ধের পয়লা দিন ছিল। আর এই প্রথম দিনটাই ছিল বিশ্বকর্মা পুজোর দিন, অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা হাল্কা। তাহলেও সাধারণ মানুষের নিত্য চলাচলের অন্যতম পরিবহন বেসরকারী বাস রাস্তা থেকে উবে যাওয়ায় সোমবার প্রায় বনধের চেহারা নিলো কলকাতা মহানগর সহ গোটা রাজ্যই। রবিবার রাজ্য সরকার বলেছিল, রাস্তায় সরকারী বাস থাকবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেলো, তাও খুব একটা নেই।

কলকাতাকে বাদ দিয়ে জেলায় প্রায় ২৪হাজার বেসরকারী বাস চলে নিত্যদিন, যা এদিন রাস্তায় কার্যত বিশেষ কিছু মাত্রায় চোখে পড়েনি। আর কলকাতাতেও এদিন বেসরকারী বাস নামমাত্র চোখে পড়েছে, অন্যান্য দিনে যার সংখ্যা থাকে প্রায় ৬ হাজার। এই পরিস্থিতিতেই পথ পরিবহনের অন্যান্য বেসরকারী যানবাহন চলাচলের নিশ্চয়তাও কমে আসছে দ্রুত। কেননা এদিন ধর্মঘটে অংশ না নেওয়া বেসরকারী বাস মালিকদের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং মিনিবাস অপারেটর্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত সরকারের মনোভাব দেখা হবে। আর তারপরই টানা ধর্মঘটে নামার সিদ্ধান্ত নেবে ইউনিয়নগুলি।

তবে বেসরকারী বাসের চাকা একটা দিন বন্ধ হওয়াতেই সরকারী পরিবহনের খোঁড়া চিত্র ফুটে উঠলো। সোমবার দিনভর শহর জুড়ে চলাচল করেছে সাকুল্যে ৩৭০টির মতো সরকারী বাস। আর এই সরকারী বাসগুলি চালালেন নিয়মিত বেতন না পাওয়া, গত জানুয়ারি মাস থেকে মহার্ঘ ভাতার অংশ না পাওয়া, এমনকি ইনক্রিমেন্ট না পাওয়া সরকারী পরিবহন কর্মীরা। এদিন রাজ্য সরকারের এই সামান্য কিছু বাস কলকাতায় চললেও গ্যারেজে পড়ে ছিল আরও ৪০০ বাস। মেরামতির অভাবেই এই বাসগুলি অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। আর গত দেড় বছরে একটিও বাস কেনেনি রাজ্য পরিবহন দপ্তর। বোঝাই যাচ্ছে রাজ্য সরকার এই মুহূর্তে রাজ্যের গোটা পরিবহন বিভাগটিকেই বারোটা বাজানোর রাস্তায় নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে বেসরকারী বাস মালিকদের ডাকা হরতাল প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছে এদিনই। আর সেই হুঁশিয়ারি-হুমকির জবাবে বাস মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, হুমকির কথা তো শুনছি। শোনা যাচ্ছে বাসের পারমিট নাকি কেড়ে নেওয়া হবে। কিন্তু যাঁরা হুমকি দিচ্ছেন, তাঁরা নিশ্চিত জানেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু আছে। তাই এভাবে হুমকি দিয়ে পারমিট কেড়ে নেওয়া যায় না। এদিকে সোমবার মহাকরণে মন্ত্রীগোষ্ঠীর বৈঠকের কথা থাকলেও শিল্পমন্ত্রী না থাকায় এই বৈঠক এদিন হয়নি। ফলে ভাড়া বা ধর্মঘট নিয়ে রাজ্য সরকার কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারলো না এদিন। অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে কলকাতা সহ গোটা রাজ্যেই আরো বড় ভোগান্তির মুখে পড়তে চলেছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার বাস মালিকদের উদ্দেশে ঠিক কী কী কথা শুনিয়েছেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী মদন মিত্র? বলেছেন, অনির্দিষ্টকাল বাস না চালালে সরকার আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে। তিনি বাস মালিকদের উদ্দেশে এই বলে হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, বাস চালাতে না পারলে পারমিট ফেরত দিন, আমি ৭২ঘন্টার মধ্যে নতুন ছেলেদের দিয়ে বাস চালাবো। সঙ্গে এই মন্তব্যও জুড়েছেন, এতদিন বাস মালিকরা বসে বসে কামিয়েছেন। এখন রাজ্যের সাধারণ মানুষের কথা ভাববেন না? হুমকি ছুঁড়ে দিয়েছেন বেসরকারী বাসের পার্কিং নিয়েও। বলেছেন, সরকারী রাস্তায় বাস পার্কিং করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবহন মন্ত্রী দাবি করেছেন, ধর্মঘট চললে সরকারী বাস বেশি বেশি করে চলবে। সোমবার না কি অনেক সরকারী বাস রাস্তায় চলেছে! আর এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, কলকাতার রাস্তায় সরকারী বাস চলেছে সাকুল্যে ৩৬২টি। আবার এদিনই মহাকরণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরিবহন মন্ত্রী নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ‘‘আমি বাস ভাড়া বাড়ানোর কে? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যা বলবেন, সেটাই প্রথম এবং শেষ কথা।’’

সোমবার থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালীন বেসরকারী বাস ধর্মঘট। বেসরকারী বাস মালিকদের সঙ্গে সঙ্গে লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্যাক্সি মালিকরাও। আগামী বৃহস্পতিবার থেকেই সেই লাগাতার ধর্মঘটে নামছেন ট্যাক্সি মালিকরা। পথ পরিবহনে যুক্ত মিনিবাসও ডিজেলের দরবৃদ্ধির কারণেই ভাড়াবৃদ্ধির দাবি তুলেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যে সাধারণ মানুষের পরিবহনের বিপর্যস্ত চেহারা ফুটে উঠতে আর যে বেশি দেরি নেই, তার ইঙ্গিত মিলেছে বেসরকারী বাস ধর্মঘটের প্রথম দিনেই। তবে সাধারণ মানুষের এমন চরম দুর্গতি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই রাজ্য সরকারের।

সোমবার জেলাগুলিতেও সরকারী বাস চলাচল চোখে পড়ার মতো ছিল না। উত্তর ২৪পরগনার জেলা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, যশোর রোড, কল্যাণী হাইওয়ে, টাকি রোডে সরকারী বাস প্রায় চলেনি বললেই চলে। রাস্তায় সামান্য সংখ্যায় ছিল অটো রিকশা ও ট্যাক্সি। এদিন বারাসত, বারাকপুর, বসিরহাট, বনগাঁ, সল্টলেক সহ বিভিন্ন এলাকাতেই রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ নিত্যযাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিমানবন্দরের পথেও এদিন কোনো যানবাহন কার্যত ছিল না। ট্যাক্সি নিতে গিয়ে মিটারের বাইরেও বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে যাত্রীদের। ডিজেলের দর বাড়ার কারণে মাঝিরা এদিন যাত্রীবাহী নৌকাও বের করেননি। গ্রামের রাস্তায় পরিবহন বলতে ছিল শুধু ভ্যান রিকশা। সীমান্ত এলাকাতেও এর প্রভাব পড়েছে লক্ষ্যণীয়ভাবেই। এদিন পুরুলিয়া জেলা থেকেও খবর এসেছে যে, জেলায় ৩০০-র মতো বেসরকারী বাস না চলার কারণে চরম অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। সাকুল্যে হাতে গোনা কয়েকটি সরকারী বাস চলেছে রাস্তায়।

মানুষের অসুবিধা করে কেন লাগাতার ধর্মঘট, এই প্রশ্ন তুলতেই সোমবার বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক সাধন দাস পালটা বলেছেন, ‘‘আমরা রাস্তায় বাস চালাতেই চাই। কিন্তু গাড়ি চালানোর এই বর্ধিত খরচ কতদিন আমরা ঘর থেকে দেব বলতে পারেন?’’ বললেন, এর আগে সাত দফায় ১১ টাকা দাম বেড়েছে ডিজেলের। এবারও একলাফে ৫ টাকা বাড়লো। সব মিলিয়ে এই ১৭-১৮টাকা অতিরিক্ত খরচ কীভাবে জোগাবেন তাঁরা? বললেন, প্রতিদিন কলকাতায় প্রতিটি বাস চালাতে ৬০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল খরচ হয়। জেলায় বাস পিছু দিনে গড়ে ১০০ থেকে ১৪০ লিটার তেল লাগে। এর সঙ্গেই যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে ব্যাপক। তাই বাসভাড়া না বাড়িয়ে এত বাড়তি খরচ মেটানো যাবে না।

এদিকে হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট বাস মিনিবাস সিন্ডিকেট-এর তরফে বাবু ঘোষ এদিন বলেছেন, ১৯ তারিখ সময় দিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী। তাই ওই দিন সরকারের ভূমিকা দেখে তবেই তাঁরা ধর্মঘটে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিন থেকেই ধর্মঘটে না নামলেও তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাসভাড়া বাড়ানো ছাড়া বাস চালানো সম্ভব নয়। তবে ধর্মঘট করতে হবে একযোগেই। এদিন মিনিবাস অপারেটর্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অবশেষ দাঁ বলেছেন, সরকারকে এর আগেই চিঠি দিয়ে তাঁরা প্রতি স্টেজে ৩টাকা ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রশ্নে অনমনীয় মনোভাব নিয়েই চলেছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষা করবেন। তারপরও সরকার অনড় থাকলে বৃহস্পতিবার থেকে তাঁরাও টানা ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হবেন।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below