আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

সম্পাদকীয়

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

মূল্যবৃদ্ধির সাফাই গেয়ে কেন্দ্রের
বিজ্ঞাপনে ছত্রে ছত্রে অসত্য

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ১৭ই সেপ্টেম্বর- ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার যৌক্তিকতা প্রমাণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার শুরু করলো কেন্দ্রীয় সরকার। আর, সোমবার এই বিজ্ঞাপনে একগুচ্ছ অসত্য তথ্য পেশ করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকার দাবি করেছে, মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, সমালোচকদের কটাক্ষ করা হয়েছে বিকল্পের সন্ধান দিতে বলে। অথচ দিনের পর দিন স্পষ্ট বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও ইউ পি এ সরকার তা তাকে তুলে রেখেছে বলে এদিনই অভিযোগ করেছেন বামপন্থীরা।

পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দেওয়া ওই বিজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা বেঁধে দেবার ‘সর্বসম্মত সুপারিশ’ করেছে সংসদের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি। ওই কমিটি সর্বদলীয়। এই তথ্যটি শুধু ভ্রান্তই নয়, রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীদের সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার লক্ষ্যেই তা করা হয়েছে। সি পি আই (এম) সাংসদ তপন সেন ওই সংসদীয় কমিটির সদস্য। এই সংসদীয় কমিটির অষ্টম রিপোর্টে সিলিন্ডার সংক্রান্ত সুপারিশ আদৌ ‘সর্বসম্মত’ ছিলো না, তপন সেন এতে আপত্তি জানিয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দেন। তাঁর সেই আপত্তি-সহই সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট ২০১১-র ৩রা আগস্ট সংসদে পেশ করা হয়েছিল। বস্তুত ক্ষুব্ধ তপন সেন সোমবারই এই তথ্যবিকৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডিকে চিঠি দিয়েছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সদস্য রত্না দে নাগ ওই সুপারিশে সম্মতি দিয়ে সই করেছিলেন। একমাত্র আপত্তির নোট ছিলো তপন সেনেরই।

প্রসঙ্গত, সংসদীয় কমিটির ওই সুপারিশের সঙ্গে একটি শর্তও জুড়তে বলা হয়েছিল। ৬লক্ষ টাকার ওপরে যাদের বার্ষিক আয় তাদের ভরতুকিপ্রাপ্ত সিলিণ্ডার পাওয়া থেকে বাদ রাখতে বলা হয়েছিল। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়কদেরও ভরতুকির দামে সিলিন্ডার না দেবার কথা সুপারিশ করা হয়েছিল। আয়ের মাপকাঠির ব্যাপারেও আপত্তি জানিয়ে তপন সেন লিখিত ভাবেই বলেছিলেন, আয়ের ওই মাপকাঠি মধ্যবিত্তের ক্ষতি করবে।

অঙ্কের গোঁজামিল

পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ওই বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য দ্রুত বেড়েছে এবং ভারতীয় টাকার দাম কমে গেছে। সুতরাং তেল বিপণন কোম্পানিগুলিকে ২০১১-১২বর্ষে কম আদায়ের অঙ্ক বাবদ (আন্ডার রিকভারি) ১,৩৮,৫৪১কোটি টাকার ক্ষতি স্বীকার করতে হয়। ২০১২-১৩-তে এই পরিমাণ ১,৮৭,১২৭কোটিতে দাঁড়াবে। আন্ডার রিকভারির এই হিসেবে গোঁজামিল এমনকি কারচুপি আছে বলে এই সংসদীয় কমিটিই সমালোচনা করেছিল। যে সংসদীয় কমিটির একটি সুপারিশকে সরকার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তাদেরই অভিযোগ, এই অঙ্ক ধারণাগত। বাস্তবের কেনাবেচায় কোনো ক্ষতি হয়নি। বিজ্ঞাপনে স্বীকার করা হয়েছে তেল কোম্পানিগুলি ৬১৭৭কোটি লাভ করেছে। বাস্তবে ও এন জি সি ২০১১-১২-তে লাভ করেছে ২৫,১২৩কোটি টাকা। ২০১২-র জুনে লাভ বেড়েছে আরো ৪৮%। ইন্ডিয়ান অয়েল ২০১১-১২-তে লাভ করেছে ৪২৬৫কোটি টাকা। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম লাভ করেছে ৯১১কোটি টাকা। ভারত পেট্রোলিয়াম লাভ করেছে ১৫৪৬কোটি টাকা।

কেন্দ্রের দাবি, এই লাভ সম্ভব হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের ভরতুকি দেওয়ায়। ২০১১-১২বর্ষে কেন্দ্র তেল ক্ষেত্র থেকে কর সংগ্রহ করেছে ৮৩,৭০০কোটি টাকা। অথচ তেল কোম্পানিগুলিকে সরকার দিয়েছে ১,৩৮,৫০০কোটি টাকা। সুতরাং সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৫৪,৮০০কোটি টাকার। এই তথ্যও বিভ্রান্তিকর। সরকারের নিজেরই হিসেবে সরকার নিজে তেল কোম্পানিগুলিকে দিয়েছে ৮৩,৫০০কোটি টাকা। বাকি টাকা আপস্ট্রিম তেল কোম্পানিগুলি কম দামে তেল বিক্রি করে ভরতুকির আকারে দিয়েছে তেল বিপণন কোম্পানিগুলিকে। সেই পরিমাণ প্রায় ৫৫হাজার কোটি টাকা। ও এন জি সি, গেইল, অয়েল ইন্ডিয়া এই টাকা দিয়েছে। অর্থাৎ সরকারের ‘ক্ষতি’ অন্তত ১৬হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। উপরন্তু সরকারের নিজেরই হিসেবে প্রমাণিত কর রাজস্ব বাবদ সরকার যে টাকা সংগ্রহ করেছে শুধু সেটিই তারা ভরতুকি হিসেবে দিয়েছে। সরকারের আসলে এক টাকাও ‘ক্ষতি’ হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে তেল ক্ষেত্র। বছরের পর বছর এই ক্ষেত্রে সরকারের কর আদায় দারুণ ভাবে বেড়েছে। বস্তুত, পেট্রোপণ্যের দামের প্রায় ৪৮শতাংশই করের ভাগ। বিজ্ঞাপনে এই মারাত্মক তথ্যই গোপন করা হয়েছে।

ছাড়ের পরামর্শ শুধু রাজ্যকেই

বিজ্ঞাপনে সরকার দাবি করেছে, ২০১১-১২- তে রাজ্য সরকারগুলি ১,১২,৯০০কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। ডিজেলের এবারের মূল্যবৃদ্ধিতে রাজ্যগুলির মোট ৮২০০কোটি টাকা অতিরিক্ত কর লাভ হবে। এই কর ছাড় দিতে কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দিয়েছে। অথচ ডিজেলের এবারের বর্ধিত দামের ১.৫০টাকা অন্তঃশুল্ক। কেন্দ্র নিজেই জানিয়েছে গ্যাসে অতিরিক্ত আয় হবে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ডিজেলে হবে ১৫হাজার কোটি টাকা। মোট ২০,৩০০ কোটি টাকা। রাজ্য সরকারগুলি অতিরিক্ত আয়ে ছাড় দিয়ে রাজ্যবাসীকে আংশিক স্বস্তি দিতে পারে এ যেমন সত্য, তেমন কেন্দ্র কর বসিয়ে রাজস্ব আদায় করবে কিন্তু রাজ্যগুলিকে বারণ করবে তা নীতিগতভাবেই অন্যায় বলে এদিন সংশ্লিষ্ট মহল অভিমত দিয়েছে।

সেসের টাকা কোথায় গেল?

মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প নেই বলে কেন্দ্রের দাবিও অসার। বামপন্থীদের মতো এই সিদ্ধান্তের সমালোচকদের কটাক্ষ করা হয়েছে বিকল্পের সন্ধান চেয়ে। বামপন্থীরা তো বটেই এমনকি সংসদীয় কমিটি একাধিকবার নির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে: (১) অপরিশোধিত তেলের আমদানি শুল্ক তুলে দেওয়া হোক; (২) পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপরে করের কাঠামো পরিবর্তন করলেই দামের অস্থিরতা কমে যাবে;(৩) তেলের ওপরে সেস থেকে প্রাপ্ত টাকা নিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখার তহবিল তৈরি হোক। তৃতীয় প্রস্তাবটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ও এন জি সি এবং অয়েল ইন্ডিয়ার তেল বিক্রির ওপরে টন প্রতি প্রায় ২৫০০টাকার সেস আছে। এই সেস থেকে প্রাপ্ত টাকা ‘অয়েল পুল’ তহবিলেই থাকার কথা। দেখা যাচ্ছে, বহুদিন ধরেই বিশেষ করে উদারনীতি চালু হবার পর থেকে এই টাকা কেন্দ্রের কোষাগারীয় ঘাটতি মেটাতে ব্যয় হচ্ছে। তেলের তহবিলে থাকছে না। অর্থনীতিবিদরা হিসেব করে দেখিয়েছেন সেই টাকা তহবিলে থাকলে ডিজেলের দাম এক পয়সাও বাড়াতে হতো না। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামাকে এই তহবিল থেকেই সামলানো যায়।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below