আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

‘যথেষ্ট বন্ধু আছে’ বলে দাবি করেও
বন্‌ধের পরে ঘোর চিন্তায় কংগ্রেস

নিজস্ব প্রতিনিধি

নয়াদিল্লি, ২০শে সেপ্টেম্বর- তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাহারের সম্ভাবনার সঙ্গেই কংগ্রেস নেতাদের গুরুতর আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে বৃহস্পতিবারের দেশব্যাপী প্রতিবাদের কর্মসূচী। প্রায় সব রাজ্যে, এমনকি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যেও বন্‌ধ এবং বিক্ষোভ খুবই সফল চেহারা নিয়েছে। এই বিক্ষোভের চাপ রাজনৈতিক শক্তিগুলির বিন্যাস এবং অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা। কংগ্রেস সভানেত্রীর বাসভবনে তাঁরা এদিন একদফা আলোচনাতেও বসেছিলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এখনই তিক্ত আক্রমণ না করার রণকৌশল নিয়েও কংগ্রেস বৃহস্পতিবার তাদের একটি কড়া বার্তা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, আমাদের যথেষ্ট বন্ধু রয়েছে। নতুন বন্ধুও সঙ্গে পাব। ঠিক একই ভাষায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী সলমন খুরশিদ বলেছেন, সংসদের ভেতরে অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পিছনে আছে। সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে আমরা আদৌ উদ্বিগ্ন নই। শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলের ৬কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের ইস্তফার চিঠি দেবেন বলে দলের পক্ষ থেকে আজও জানানো হয়েছে। কলকাতায় তৃণমূল নেত্রী যেমন ইউ পি এ সরকারকে ‘জনবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন দলের অবস্থান বদলাচ্ছে না, তেমনই রেলমন্ত্রী মুকুল রায় জানিয়েছেন শুক্রবার বিকেল তিনটেয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তাঁরা সময় চেয়েছেন। কিন্তু একই সঙ্গে মমতা তাঁর এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সমর্থন প্রত্যাহারের চিঠি দেবার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সাতদিনের মধ্যে সময় চেয়েছেন বলে জানানোয় একটি নতুন কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেন তৃণমূল নেত্রী কালক্ষেপ করছেন, তা নিয়ে প্রশ্নও আছে রাজনৈতিক মহলে।

প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের মন্ত্রীদের ‘বোঝানোর শেষ চেষ্টা’ করবেন বলে কংগ্রেস সূত্রে জানানো হলেও তা যে নেহাতই আনুষ্ঠানিক হবে, তা-ও বলছেন কংগ্রেস নেতারা। কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, তৃণমূলে মমতা ব্যানার্জিই এক এবং একমাত্র, মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলার বিশেষ কোনো অর্থ হয় না। তবে তাঁদের মাধ্যমে মমতাকে কোনো বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। রফার আশা যে ক্ষীণ, তা রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট। যে ভাষায় কংগ্রেসকে কলকাতায় বসে আক্রমণ করছেন মমতা, তার পরে সমঝোতার রাস্তা খোলা খুবই কঠিন বলে কংগ্রেস নেতাদেরও অভিমত।

কিন্তু কংগ্রেস এখনই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবে না বলে দলের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেইমতো গত দু’দিন তৃণমূল নেত্রীর উপর্যুপরি আক্রমণের কোনো জবাবও দেয়নি কংগ্রেস। পরিস্থিতি তাঁদের অনুকূলে নয়, উপলব্ধি করছেন কংগ্রেস নেতারা। সংসদে শক্তির ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদী হিসেব মাথায় রেখে তৃণমূলকে স্থায়ী শত্রু না বানানোর রণকৌশলই নিয়েছে কংগ্রেস। এরই মধ্যে চিদাম্বরম আজ ইঙ্গিত দেন তৃণমূলকে বাদ দিয়েই চলার জন্য কংগ্রেস প্রস্তুত হচ্ছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গতকালও আমাদের যথেষ্ট বন্ধু ছিল, আজও আমাদের যথেষ্ট বন্ধু রয়েছে। সুতরাং আমাদের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহের কোনো কারণ নেই।’ এর পরেই প্রশ্নের উত্তরে চিদাম্বরম বলেন, ‘যদি নতুন বন্ধু যোগাড় করতে পারি, তাহলে কেন করব না?’ এই ‘নতুন বন্ধু’ যোগাড় তত সহজ হবে না, এ কথাও বিলক্ষণ বুঝছেন কংগ্রেস নেতারা। বিশেষত বৃহস্পতিবার যেভাবে গোটা দেশে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে তা উদ্বেগে রেখেছে কংগ্রেসকে। অন্তত তথাকথিত সংস্কারের এই নতুন উদ্যোগে অন্য রাজনৈতিক দলের সাড়া পাওয়া কঠিন। এমনকি ইউ পি এ-র রয়ে যাওয়া শরিকরাও প্রশ্ন তুলতে শুরু করবে বলে আশঙ্কা করছেন কংগ্রেস নেতারা। সলমন খুরশিদ আজ বলেছেন, এই সংস্কার ধনীদের কথা ভেবে করছি না। সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই করছি। কেন্দ্রের নীতির মানবিক মুখ রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা ভেবেই কংগ্রেস এগোচ্ছে। কেন্দ্রের তথ্য মন্ত্রী অম্বিকা সোনি দাবি করেছেন, সরকার গরিষ্ঠতা হারায়নি। লোকসভায় ৩০০-র বেশি সদস্য সরকারের কঠিন সিদ্ধান্তের পাশেই আছে বলে তিনি জানিয়েছেন। যদিও কোনো হিসেব এই দাবির সমর্থনে তিনি দিতে পারেননি। তৃণমূল যদি শেষ পর্যন্ত সমর্থন প্রত্যাহার করে তাহলে ইউ পি এ নিজের শরিকদের জোরে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে না। বাইরের সমর্থনের ওপরে মনমোহন সরকারকে নির্ভর করতেই হবে।

কংগ্রেসের নেতাদের মূল ভরসা এখনই কেউ লোকসভা নির্বাচন চাইবে না বলে তাঁদের গণনা। সুতরাং এখনই সরকারকে ফেলে দেবার চেষ্টা হবে না। অন্তর্বর্তী সময়ে নতুন মিত্র সন্ধানের কাজে নেমে মোটামুটি গরিষ্ঠতা যোগাড়ের চেষ্টা করবেন কংগ্রেস নেতারা। একই সঙ্গে আমজনতাকে বার্তা দিতে কিছু সামাজিক প্রকল্প ও বরাদ্দের কর্মসূচী নেওয়া হতে পারে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below