আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

হুমকি, হামলা উপেক্ষা করেই ধর্মঘট সর্বাত্মক

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি, ২০শে সেপ্টেম্বর — যাবতীয় হুমকি, হামলা, প্ররোচনাকে উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি-সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ধর্মঘট ছিল সর্বাত্মক। পুলিসকে দিয়ে দোকানপাট খোলানোর চেষ্টা হয়েছে কিছু জায়গায়। সকালের দিকে ট্রেন চলাচলও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আলিপুরদুয়ারে পুলিসকে দিয়ে জোর করে খালি বাস চালানোরও চেষ্টা হয়। কিন্তু সর্বত্রই মানুষের প্রতিরোধে পিছু হটতে হয়েছে তাদের।

শিলিগুড়িতে হাটবাজার, দোকানপাট সবই বন্ধ ছিলো। কোনো সরকারী বাস রাস্তায় নামেনি। ফাঁকা রাস্তায় পুলিসের গাড়ির দৌঁড়ঝাপই লক্ষ্য করা গেছে। সকাল ১১টার পরেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ছিল কার্যত ফাঁকা। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহনের শিলিগুড়ি ডিপোর সামনে এদিনও অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সদস্যরা। কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স ব্যবসা বন্‌ধের ডাক দেয় এদিন। এই সর্বভারতীয় কেন্দ্রীয় সংগঠন অনুমোদিত ফোসিনের ডাকে ব্যবসা বন্‌ধে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন সর্বস্তরের ব্যবসায়ীরা। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু হুমকি থাকলেও তা উপেক্ষা করেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। শিলিগুড়িতে সরকারী দপ্তরে কিছু কর্মী উপস্থিত থাকলেও বি এস এন এলে কর্মীদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিলো হাতে গোনা। তরাইয়ের চা-বলয়েও ধর্মঘট সর্বাত্মক হয়েছে। নকশালবাড়িতে ধর্মঘটের সমর্থনে একটি বড় মিছিল হয়। চা বাগানের কর্মীরাও সেই মিছিলে শামিল হন। বাগডোগরা শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রামাঞ্চলেও বিপুল সাড়া মিলেছে। মানুষের মেজাজ দেখে ধর্মঘট বিরোধীরা পথে নেমে বিরোধিতার সাহস দেখায়নি। ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করার জন্য হিলকার্ট রোড, সেবক রোড-সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় অন্যদিনের মতো ব্যস্ততা দেখা যায়নি। হিলকার্ট রোডে তেনজিঙ নোরগে বাস টার্মিনাল ও সেবক রোডে পি সি মিত্তাল বাস টার্মিনাল কার্যত ফাঁকা ছিলো। দার্জিলিঙ জেলায় সর্বাত্মক ধর্মঘট সফল করার জন্য অভিনন্দন জানান জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক ভট্টাচার্য।

আলিপুরদুয়ার : এদিন সকাল থেকেই বামফ্রন্টের কর্মীরা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন দপ্তরের সামনে জড়ো হন। তৃণমূল কংগ্রেস পুলিসের মদতে সেখানে প্ররোচনার চেষ্টা করে। জোর করে ফাঁকা বাস চালানোর চেষ্টা করে। বিভিন্ন স্কুলও পুলিসকে দিয়ে জোর করে খোলানোর অভিযোগ উঠেছে। কলেজ হল্টে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া মুখ্য দপ্তরের সামনে থেকে পুলিস ৫জন ধর্মঘটীকে গ্রেপ্তার করে। আলিপুরদুয়ার জংশন এলাকার বিবেকানন্দ ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের সামনে হামলা চালায় তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। ওদের হামলায় জরিমা খাতুন নামে এক শ্রমজীবী মহিলা জখম হন। তাঁকে আলিপুরদুয়ার মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও আলিপুরদুয়ার মহকুমার কুমারগ্রাম, বারোভিষা, কামাখ্যাগুড়ি, শামুকতলা, ভাটিবাড়ি, সোনাপুর সর্বত্রই ধর্মঘট সর্বাত্মক হয়েছে। এদিন মালবাজারেও ধর্মঘট সর্বাত্মক হয়েছে। মেটেলি, চালসা, ওদলাবাড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘটকে সমর্থন জানান। বিভিন্ন জায়গায় স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার ছিলো নগন্য। কুমলাই চা বাগান থেকে এদিন চা শ্রমিকদের একটি বড় মিছিল বের হয়। মিছিলটি গুডহোপ চা বাগান, বেতবাড়ি চা বাগান, ডামডিম চা বাগানের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে ডামডিম মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে সহস্রাধিক চা শ্রমিক যোগ দেন। মহিলা চা শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষণীয়।। মিছিলে ছিলেন মনোজ দাস, আগস্তুষ কেরকেট্টা, কুমার লিম্বু প্রমুখ। ধূপগুড়ি, বানারহাটেও এদিন ধর্মঘটে ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বানারহাট তরুণ সঙ্ঘ ময়দান থেকে মিছিল বেরিয়ে চামুর্চি মোড় হয়ে বিভিন্ন পথ ঘোরে। মিছিলে ছিলেন তিলক ছত্রী, দীপক কুন্ডু, কেদার ছেত্রী, প্রদীপ সরকার প্রমুখ।

উত্তর ধর্মঘট-২



উত্তর দিনাজপুর : ধর্মঘটে বিপুল সাড়া মিললো উত্তর দিনাজপুর জেলায়। চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর এলাকার চা বাগানে হাতে‍‌ গোনা কয়েকজন শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। ৯৭ শতাংশ শ্রমিক সকাল থেকে ধর্মঘটের সমর্থনে বাগানের গেটের সামনে জড়ো হন। জেলার ৯টা ব্লকে বাস, লরি, ট্যাক্সি অমিল থাকায় পথঘাট শুনশান। খোলেনি দোকানপাট। বসেনি বাজার। জেলার চুঙ্গি দিঘি, বিলাসপুর, সোনাপুর হাট বসেনি। কার্যত স্বতঃস্ফূর্ত ধর্মঘট পালিত হলো উত্তর দিনাজপুর জেলায়।

সকালে তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের বেপরোয়া মোটর সাইকেলের দাপটে শহরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কালিয়াগঞ্জ থেকে ছেড়ে একটা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বাস শিলিগুড়ি যাচ্ছিল। রায়গঞ্জ শহরের ঘড়িমোড়ে ইটের আঘাত লাগে বাসটাতে। অল্প আহত হন বাস চালক অপূর্ব চ্যাটার্জি।

এছাড়া ধর্মঘট ছিল স্বাভাবিক। জেলা প্রশাসন চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের তাণ্ডব, হুমকি সত্ত্বেও ধর্মঘট স্বতঃস্ফূর্ত হওয়ায় জেলার মানুষকে অভিনন্দন জানালেন জেলা বামফ্রন্ট নেতা বীরেশ্বর লাহিড়ী।

দক্ষিণ দিনাজপুর : এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৮টা ব্লকে সাধারণ ধর্মঘট সর্বাত্মক হয়েছে। ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মুখরিত হয়েছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ। জেলার তাঁত কারখানা, চালকল, বিড়ি কারখানায় কোন শ্রমিক কাজে অংশগ্রহণ করেননি।

জেলা সদর বালুরঘাটসহ ৮টা ব্লকে সরকারী দপ্তরে কর্মচারীদের হাজিরা খুবই কম ছিল। ব্যাঙ্ক, বীমা, পোস্ট অফিস সবই বন্ধ ছিল। জেলা পরিষদ অফিস, পৌরসভা ২টিতে কর্মচারীর হাজিরা ছিল হাতে গোনা। সরকারী বাস কিছু চলেছে। বেসরকারী বাস, অটো, মিনিবাস চলেনি কোথাও।

পুলিস-তৃণমূল যৌথভাবে ধর্মঘট ভাঙার জন্য বালুরঘাট, কুশমণ্ডিতে, গঙ্গারামপুর, বংশীহারির বুনিয়াদপুরে জোর করে সরকারী অফিস খোলার চেষ্টা করে। জেলায় ধর্মঘটে সর্বত্র শুনশান ছিল।

এদিন পুলিস বালুরঘাটে ধর্মঘট সমর্থনকারী ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কুশমণ্ডিতে সি পি আই (এম) নেতা শ্যামল ঘোষ, সামসুদ্দিন আহমেদ, আলতাপ আলিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বামফ্রন্টের মিছিল হয়েছে বালুরঘাটে, গঙ্গারামপুর, কুশমণ্ডি সহ বিভিন্ন ব্লকে। বালুরঘাটে মিছিলে ছিলেন জেলার আহ্বায়ক মানবেশ চৌধুরী। বামফ্রন্ট নেতা‍‌ বিশ্বনাথ চৌধুরী, প্রশান্ত মজুমদার ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মালদহ : এদিন রাস্তায় মানুষজন ছিল অনেক কম। হাটবাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই ছিল বন্ধ। বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ, ব্যাঙ্ক বীমাসহ প্রায় সব কেন্দ্রীয় সরকারী অফিস। বন্ধ ছিল বেসরকারী যানবাহন। আর সরকারী পরিবহনও ছিল হাতে গোনা। সাধারণত দিনে ২৬টি রুটে বাস চলে। এদিন চলে ১৬টি। এর মধ্যে ৬টি মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছে। ১০টি পথেই আটকে গেছে। এদিকে টিকিট বিক্রির আয় থেকেই বোঝা যাবে কতটা স্বাভাবিক ছিল সরকারী পরিবহন। ৫টি ট্রেন আটকে পড়ে আদিনা স্টেশনে। ট্রেনগুলি হলো শতাব্দী এক্সপ্রেস, বালুরঘাট এক্সপ্রেস, পুরী এক্সপ্রেস, কাটিহার ডি এম ইউ ও আদিনা প্যাসেঞ্জার।

রাজ্য সরকারী অফিসগুলিতে উপস্থিতির সময় স্বাক্ষর করতে মরিয়া ছিল জেলা প্রশাসন। অনেককেই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে নিয়ে এসে হাজিরা খাতায় সই করানো হয়। স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কার্যত শূন্য। কিছু স্কুলে হাজিরা খাতায় সই করেই চলে যায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রশাসন স্বাভাবিক নয়, উপস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। বিভিন্ন সরকারী অফিসে তৃণমূলী ভৈরববাহিনী হামলা করে। সন্ত্রস্ত করে অফিস খোলার চেষ্টা করে। স্টেট ব্যাঙ্ক, ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক, জীবন বীমা অফিস ও পোস্ট অফিসকে রেহাই দেয়নি ওরা। ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক ও জীবন বীমা অফিসের দরজা ভেঙে দেয় দুষ্কৃতীরা। মালদহ টাউন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা বিশ্ববিকাশ দত্তকে কলার চেপে ধরে হুমকি দেয় তৃণমূলবাহিনী। মালদহের শিল্পতালুক নারায়ণপুর এবং গাজোলে সব কারখানা বন্ধ ছিল এদিন। কর্মীরা কেউই কাজে যোগ দেননি।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিকেটিং করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন এস এফ আই কর্মীরা। এস এফ আই-র জেলা সম্পাদক অভিজিৎ দে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছে। এছাড়া তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত এস এফ আই কর্মীদের পক্ষে জাকির হোসেন ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বলেছে তৃণমূল কর্মীরা এস এফ আই-র ধর্মঘটের সমর্থনে পিকেটিংরত কর্মীদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে এবং এতে আহত হন জাকির হোসেনসহ অরূপ পোদ্দার, শেখ সামিউল রহমান, অতনু পোদ্দার। তৃণমূলের বাইকবাহিনী যখন পিস্তল, রড, চাকু নিয়ে এস এফ আই কর্মী অতনু চৌধুরী ও অরূপ পোদ্দারকে আক্রমণ করতে যায় তখন অন্যান্য এস এফ আই কর্মীরা বাধা দিতে এলে তাঁরাও আক্রান্ত হন। ওদের হাতে অতনু ও অরূপ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। জাকির হোসেন ও শেখ সামিউল রহমানও চিকিৎসাধীন। এছাড়াও এস এফ আই কর্মী শুভম মজুমদারকে তার মোবাইলে একটি অজানা ফোন (৮৯০৬৫৪৩৪০৮) ‍থেকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। শুভম গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ সেমিস্টারের ছাত্র।

এদিন মালদহ শহরে পুলিস ৩৩ জনকে ও পুরাতন মালদহে ৪ জন বামপন্থী কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া পুরাতন মালদহে বি জে পি-র ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া বামপন্থী কর্মীদের মধ্যে রয়েছে সি পি আই (এম) নেতা প্রবীর লাহিড়ী, রুনু কুণ্ডু, খুশিমোহন সাহারায়, শুভদীপ সান্যাল, গৌতম দাস। গাজোলের ময়না ও দেওতলায় প্রচুর গাড়ি আটকে আছে।

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি জেলায় ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল হয়েছে। জেলার চা বাগানগুলিতে মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ চা বাগানে কমবে‍‌শি ধর্মঘটে চা শ্রমিকেরা অংশগ্রহণ করেছেন। ধর্মঘটে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল ইতিবাচক। পুলিস-প্রশাসনের সাহায্যে জোর করে ধর্মঘটীদের সরিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার বাস পথে নামানো হলেও বাসে যাত্রীদের উপস্থিতি না থাকায় ফের বাসগুলি ডিপোতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পুলিস দিয়ে জোর করে ধর্মঘট ভাঙার চেষ্টা চালানো হলেও জেলার ১৩টি ব্লকেই এদিন ধর্মঘট সর্বাত্মক সফল করতে বামফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা দিনভর পথেই ছিলেন। হাট-বাজার, দোকান-পসার, স্কুল-কলেজ, ব্যাঙ্ক, বীমা, হিমঘরগুলিতে ধর্মঘটের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। জোর করে পুলিস দিয়ে ধর্মঘটীদের সরিয়ে সরকারী অফিস, আদালত খোলানো হলেও অফিসের নির্দিষ্ট সময়ে সরকারী কর্মচারীদের উপস্থিতির হার ছিল নগণ্য। তবে হাজিরাখাতা অনুপস্থিত কর্মচারীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট সরকারী আধিকারিকরা। সরকারী কর্মচারীরা প্রশাসনের এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দেন।

ধর্মঘটকে ঘিরে জেলায় ছোটখাটো দু’একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ নেই বলে জেলা পুলিস সুপার অমিত পি জাভালানি জানান। তিনি জানান, জেলায় মোট পাঁচজন ধর্মঘটীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। আলিপুরদুয়ারের একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে ধর্মঘট করতে যাওয়া এক মহিলা কর্মচারীর ওপর তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা চড়াও হন। তৃণমূলীরা এই মহিলার শ্লীলতাহানি করারও চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। পুলিস সুপার এ প্রসঙ্গে জানান, এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।

ধর্মঘটকে সর্বাত্মক করার জন্য সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদক কৃষ্ণ ব্যানার্জি জেলাবাসীকে অভিনন্দন জানান।



কোচবিহার : ধর্মঘট ব্যর্থ করতে দিনভর কোচবিহার জেলার বিভিন্ন মহকুমায় তৃণমূলীরা গুণ্ডামি করে নিজেরাই ব্যর্থ হলেন। এদিনের ১২ ঘণ্টার ধর্মঘট ছিল সর্বাত্মক। সকালে মাথাভাঙায় তৃণমূলী হামলা চালায় ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে।

ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক শ্যামল নাহার অভিযোগ, কনফেডারেশন ট্রেডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এফ ডি আইয়ের বিরুদ্ধে সারা দেশেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবসা বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল। এদিন মহকুমার সর্বত্র ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রাখায় ক্ষিপ্ত দলীয় কর্মীরা সমিতির অফিসে হামলা চালায়। দুই ব্যবসায়ীকে মারধর করে। বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন মন্দিরের এক পুরোহিতও। তিনি অভিযোগ করেন, সিতাই মোড়, ময়নাতলী মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, কালোয়ারপট্টি এলাকায় বন্ধ দোকানে হামলা চালানো হয়। ঘটনার নিন্দা করেছেন ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস ও রানা গোস্বামী।

ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সম্পাদক দেবাশিস দে বলেন, ধর্মঘটী ব্যবসায়ীদের অফিসে হামলা ও ব্যবসায়ী নিগ্রহের ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। শুক্রবার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির একটি প্রতিনিধিদল মাথাভাঙায় যাবেন এবং মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করে প্রতিকার ও নিরাপত্তা চাইবেন। এদিকে ব্যবসা বন্‌ধে অংশ নেবার অপরাধে বেশ কিছু দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেবার অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে কোচবিহারে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা এস ইউ সি আই-র মহিলা কর্মী ও সদস্যদের পুলিসের সামনেই রাস্তার ওপর ফেলে মারধর করে। এর ফলে উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহার শহরে।

তুফানগঞ্জ মহকুমায় তৃণমূলীরা ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে দোকান খোলার চেষ্টা করে। দিনহাটা মহকুমায় পুলিসকর্মীরাই ধর্মঘট ভাঙতে সক্রিয় হন। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, অফিস থেকে ধর্মঘটীদের সরিয়ে ঝাণ্ডা খুলে ফেলে দেয়। তবুও দিনহাটার ধর্মঘট ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। দিনহাটাতে পুলিস ধর্মঘটকারীদের মিছিল করতেও বাধা দেয়। মেখলিগঞ্জে মানুষের দারুণ সাড়া মেলে।

এদিকে কোচবিহারের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাগলবের গ্রামে ধর্মঘটের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে হামলা চালায় তৃণমূলীরা। হামলায় ঐ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং সি পি আই (এম) নেতা ধনমন্ত দাস গুরুতর জখম হয়েছেন। তাকে কোচবিহার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সি পি আই (এম) জেলা সম্পাদক তারিণী রায় অভিযোগ করেন, ধর্মঘট মোকাবিলায় পুলিস তৃণমূলী ক্যাডারের ভূমিকা পালন করেছে। বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দকে মিছিল করতে বাধা দেওয়া হয় অথচ ধর্মঘট ভাঙতে তৃণমূলীরা জেলাজুড়ে মিছিলের নামে গুণ্ডামি করেছে। পুলিসের সামনেই আক্রান্ত হয়েছেন এস ইউ সি-র মহিলা কর্মীরাও। সন্ত্রাস উপেক্ষা করে ধর্মঘট সফল করবার জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানান।

এদিকে এদিন জেলার সর্বত্র বেসরকারী বাস রাস্তায় নামেনি। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম সকালবেলা বিভিন্ন রুটে ২/৪টি বাস নামালেও বেলা বাড়তেই রাস্তায় বাস নামেনি। দূরপাল্লার বাসও বাতিল করা হয়।

জেলার একমাত্র শিল্পতালুক চকচকায় এদিন ছোট ও বড় চা বাগানগুলিতেও ধর্মঘটের জেরে বন্ধ ছিল। সকালবেলাই চা বাগানগুলিতে ধর্মঘটের সমর্থনে লালঝাণ্ডা হাতে মিছিল বের করেন বাগানের শ্রমিকরা।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below