আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

আন্তর্জাতিক

কলকাতা

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট

তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির হুমকিকে উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার রাজ্যে বামফ্রন্টের ডাকা ১২ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট সর্বাত্মকভাবে সফল হয়েছে। সাধারণ মানুষ ধর্মঘটের আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে রাজ্য বামফ্রন্ট। যানবাহন না চলায় রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিলো। দোকানপাট, হাটবাজার খোলেনি, অফিস-আদালত বন্ধ ছিলো। কল-কারখানার শ্রমিকেরাও এই সাধারণ ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। এই ধর্মঘটকে বানচাল করার জন্য রাজ্য সরকার বুধবার তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে বাস মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। অথচ ক’দিন আগে পরিবহনমন্ত্রী বাস মালিকদের কড়া হুমকিই দিয়ে গেছেন। বুধবার শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পড়ে বাস মালিকেরা আপাতত বাস ধর্মঘট তুলে নেন। সাধারণ ধর্মঘটকে রাজনৈতিক দিক থেকে ব্যর্থ করার তৃণমূলী চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। বাস শ্রমিকেরা বৃহস্পতিবারের সাধারণ ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন। তাঁরা বাস চালাননি। ফলে তৃণমূল সরকারের ফন্দিফিকির মাঠে মারা গেলো।

মানুষ লক্ষ্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জঘন্য দ্বিচারিতা। তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে জনবি‍‌রোধী পদক্ষেপগুলি প্রত্যাহার করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার হুমকি দিচ্ছে, অপর দিকে বামফ্রন্টের ডাকা ১২ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ভেস্তে দেওয়ার জন্য সমানে হুমকি দিয়ে গেছে, নানারকম কারসাজি করেছে। অথচ এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে সাধারণ মানুষের স্বার্থে। পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি খুচরো ব্যবসায়ে বিদেশী বিনিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিলগ্নীকরণ ইত্যাদি যে সব সর্বনাশা পদক্ষেপ ইউ পি এ সরকার নিয়েছে তার বিরুদ্ধে এই ১২ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলো রাজ্য বামফ্রন্ট। ইউ পি এ সরকার স্পর্ধার সঙ্গে জানাচ্ছে, মূল্যবৃদ্ধি কমানো হবে না। উলটে তারা আরও ‘সংস্কারমূলক’ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। মানুষ এই বেপরোয়া ঔদ্ধত্য ও স্পর্ধা সহ্য করতে নারাজ। তাদের জীবনে সর্বনাশ নামিয়ে আনার এই চক্রান্ত তাঁরা যে কোনো মূল্যে রুখতে বদ্ধপরিকর। মানুষের এই শাণিত প্রত্যয় মূর্ত হয়ে উ‍‌ঠেছে সাধারণ ধর্মঘটে মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। অথচ আশ্চ‍‌র্যের বিষয় হলো — মুখে প্রতিবাদের কথা বলেও মানুষের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টাই করলো তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্য সরকার। সত্যি, একই অঙ্গে কত রূপ!

৪টি বামপন্থী দল সহ মোট আটটি রাজনৈতিক দল বৃহস্পতিবার গোটা দেশে প্রতিবাদ দিবস পালনের যে ডাক দিয়েছিলো তা সফল হয়েছে। মানুষ কোথাও এইসব সর্বনাশা ব্যবস্থা বরদাস্ত করছেন না। রান্নাঘর থেকে সদর রাস্তা, সর্বত্রই মানুষের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউ পি এ সরকার। দেশী-বিদেশী বৃহৎ পুঁজিকে তোয়াজ করার জন্য কেন্দ্র উঠেপড়ে লেগেছে। খুচরো ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ মানে কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস হওয়া। কংগ্রেস এবং ইউ পি এ সরকারের শীর্ষ নেতা ও কর্তারা কি এসব বোঝেন না? তাঁরা সব জেনেবুঝেই গরিব ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মারাত্মক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। অথচ এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে আমজনতার নামে স্লোগান দিয়ে। দিনে দিনে এদের ভয়ঙ্কর কুৎসিত রূপ বেরিয়ে পড়ছে। ইউ পি এ সরকার আপাদমস্তক দুর্নীতিপরায়ণ, অবিশ্বাস্য মাত্রায় দুর্নীতি এদের আমলেই ঘটছে। খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এরা রুখতে পারেনি। কৃষি ও শিল্পে অধোগতি ক্রমশ বাড়ছে। বেকার সমস্যা তীব্র আকার নিয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এর উপরে আবার সংস্কারের নামে আরও দুর্গতির ব্যবস্থা করছে কংগ্রেস ও কেন্দ্রীয় সরকার। এই অবস্থায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধই একমাত্র পথ। যারা এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে তাদের ঠাঁই হবে ইতিহাসের ডাস্টবিনে।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below