৫কোটিরও বেশি ব্যবসায়ী
ধর্মঘট করলেন দেশজুড়ে

সংবাদ সংস্থা

নয়াদিল্লি, ২০শে সেপ্টেম্বর — বৃহস্পতিবার সর্বাত্মক হলো ‘ভারত ব্যাপার বন্‌ধ’। খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফ ডি আই) অনুমোদন এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ধর্মঘট করলেন ৫কোটিরও বেশি ব্যবসায়ী। রাজ্যে রাজ্যে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে এবং প্রতিবাদী সভা-সমাবেশে শামিল হয়ে তাঁরা এই সর্বনাশা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে এসে এদিন তাঁদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে যান বামপন্থীরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

জীবিকা রক্ষার দাবিতে সারা দেশে ব্যবসায়ী ধর্মঘট নজিরবিহীনভাবে সফল হওয়ায় এদিন সন্তোষ প্রকাশ করেছে দ্য কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (সি এ আই টি)। দিল্লি থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সংগঠন বলেছে, দেশজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের জায়গাগুলি একেবারে শুনশান ছিলো, কোন কাজই হয়নি কোথাও। ব্যবসা বন্‌ধের ডাকে নজিরবিহীন সাড়া মিলেছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাডু, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, বিহারের মতো আরো কয়েকটি রাজ্যে।

সর্বভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনটির সভাপতি বি সি ভার্তিয়া এদিন বলেন, দেশের ২৫হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী সংস্থা এদিন কেন্দ্রের ভয়ঙ্কর পদক্ষেপের বিরোধিতায় ধর্মঘট করেছে। খুচরো ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের বিরুদ্ধে এদেশের ব্যবসায়ীদের প্রবল ক্ষোভ স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে সফল এই ধর্মঘটে। তিনি বলেন, শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, বহু ব্র্যান্ডের খুচরো বাজারে এফ ডি আই ঢুকলে পরিবহক, হকার, দিনমজুর, কৃষক এবং ব্যবসার সাথে যুক্ত অসংখ্য কর্মচারী কাজ হারাবেন। সর্বনাশ হবে ২২কোটিরও বেশি মানুষের।

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মতো দিল্লিতেও এদিন প্রতিবাদী সমাবেশে মুখর হন ব্যবসায়ীরা। দিল্লির যন্তর মন্তরে সমবেত হয়ে ধর্মঘটী ব্যবসায়ীরা স্লোগান দিতে থাকেন। ‘এফ ডি আই ইন রিটেল, ইন্ডিয়ান ট্রেড অন সেল’, ‘ক্ষুদ্র বাজার মে বিদেশী নিবেশ, গুলাম বনেগা আপনা দেশ’ ইত্যাদি ব্যানার তুলে ধরেন তাঁরা।

ধর্মঘটী ব্যবসায়ীদের দাবিগুলির প্রতি সংহতি জানাতে তাঁদের আমন্ত্রণে এদিন বিক্ষোভ সভায় এসেছিলেন সি পি আই (এম) নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, সি পি আই-র প্রবীণ নেতা এ বি বর্ধন। এফ ডি আই-বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তাঁরা বলেন, দেশের খুচরো ব্যবসায়ী, কৃষক ও অন্যান্যদের জীবন-জীবিকা বাঁচানোর স্বার্থেই এই জনবিরোধী পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। ডিজেলের বর্ধিত দাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিও জানান তাঁরা। এদিন ব্যবসায়ীদের সমাবেশে এসেছিলেন বি জে পি নেতা নীতীন গড়কড়ি ও মুরলিমনোহর যোশী, জে ডি (ইউ) নেতা শারদ যাদব প্রমুখও।