আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

সম্পাদকীয়

বড় গলা

অর্ধেক আকাশ

 

শতবর্ষে শ্রদ্ধা

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

১লা কলকাতায় আছড়ে পড়বে
প্রতিবাদী মানুষের ঢেউ

নিজস্ব সংবাদদাতা

তৈরি হচ্ছে উত্তর ২৪পরগনা



বারাসত, ২২শে সেপ্টেম্বর— হাতে আর মাত্র ৮দিন। তারপরেই কলকাতার বুকে আছড়ে পড়বে প্রতিবাদী মানুষের ঢেউ। তার জন্য প্রস্তুত তামাম উত্তর ২৪পরগনা।

গঙ্গার কূল সাক্ষী। সাক্ষী ইছামতীর চর। বীজপুর থেকে বিধাননগরও তৈরি। আগামী ১লা অক্টোবর সি পি আই (এম) উত্তর ২৪পরগনা জেলা কমিটির ডাকে মহানগরের বুকে হতে চলেছে এক নজির গড়া সমাবেশ।

‘চাই গণতন্ত্র। হিংসা থামাও, রাজ্য চালাও’— রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে এই হুঁশিয়ারি দিতেই কলকাতায় আসছেন পাশের জেলা, উত্তর ২৪পরগনার মানুষ। জেলা বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে ডেপুটেশনও দেওয়া হবে। এই সমাবেশ শহীদ পরিবারগুলির দিকেও বাড়িয়ে দেবে সাহায্যের হাত। ৫০শহীদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে ১লক্ষ টাকা।

এই ৫০জন শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলার ৩০লক্ষ মানুষ। তাঁরাই দিয়েছেন সাহায্যের এই টাকা। অর্থ সংগ্রহ অভিযানের মধ্যে দিয়ে আরো পোক্ত হয়েছে মানুষের সঙ্গে পার্টিকর্মীদের সম্পর্ক, পার্টির সম্পর্ক।

কত মানুষ আসবেন কলকাতার এই সমাবেশে? ৩লক্ষের কম নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা বামফ্রন্টকে ভোট দিয়েছেন শুধু তারাই নন, ঐ নির্বাচনে যাঁরা নানা কারণে তৃণমূল জোটকে ভোট দিয়েছিলেন এমন অনেকেই আসবেন কলকাতার সমাবেশে। ‘কিছু কারণে তাঁরা পরিবর্তন চেয়েছিলেন, একথা ঠিক। কিন্তু যে পরিবর্তন হয়েছে তাতে তাঁদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। এই পরিবর্তন তাঁরা চাননি’— যাঁরা সেদিন সমাবেশে আসবেন, তাঁরা জানিয়ে দেবেন এই কথাই।

৩লক্ষের মধ্যে ৫০হাজার মানুষ সমাবেশে আসবেন মিছিল করে। মিছিল হবে সুসজ্জিত। হাতে লালঝাণ্ডা। গায়ে থাকবে রঙিন অ্যাপ্রন। বুকে লেখা থাকবে সমাবেশের দাবি। থাকবে প্ল্যাকার্ড। মিছিল শুরু হবে শিয়ালদহ থেকে। দুপুর ২টোর মধ্যেই সমাবেশস্থলে পৌঁছাবেন সবাই।

‘দুষ্কৃতীরা ভাবছে রাজ্যের তাঁদেরই সরকার’— বলেছেন সি পি আই (এম)-র পলিট ব্যুরোর সদস্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ‘গত এক বছরের কিছু বেশি সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়ে জাতীয় গড়ের দ্বিগুণ হয়েছে’— জানিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তাতে কোনো হেলদোল নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধেই উঠছে ধর্ষণের অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর সরকারের মনোভাব বুঝে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে পুলিসও উদাসীন। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে, পরিবর্তনের নয়া জমানায় আইনের রক্ষকই হয়ে উঠেছে ধর্ষক। কোচবিহারে বক্সিরহাট থানার ও সি এক মহিলাকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া তো দূরের কথা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই এইসব ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাকে বলছেন ‘সাজানো’। কখনও বা তিনি বলছেন, ‘একেবারেই ছোট ঘটনা। রাজ্য সরকারের বদনাম করতে এতো হইচই করা হচ্ছে’। রাজ্যে তৃণমূল জোট সরকারের আমলে শতাধিক মহিলা ধর্ষিতা হওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একবারের জন্যও কোনো ধর্ষিতা মহিলার পাশে দাঁড়াননি। নিজে একজন মহিলা হয়েও এইসব ধর্ষিতার দিকে তিনি বাড়িয়ে দেননি সাহায্য ও সহানুভুতির হাত। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকায় উৎসাহিত হয়ে দুর্বৃত্ত এবং ধর্ষণকারীরা আজ চূড়ান্ত বেপরোয়া। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ভবানীপুর থানায় গিয়ে দাগী দুষ্কৃতীদের ছাড়িয়ে আনায় অপরাধীরা আরো লাগামছাড়া। রাজ্যজুড়ে ভেঙে পড়েছে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা। ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঘটনায় বারে বারে খবরের শিরোনামে আসছে উত্তর ২৪পরগনার বারাসতের নাম। সেখানে দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গিয়ে এলাকার জনপ্রিয় চিকিৎসককেও খুন হতে হচ্ছে। এই ঘটনা চরম লজ্জার— জানিয়ে দেবে এই সমাবেশ। পরিবর্তনের জমানায় যে ‘দুর্বৃত্তরাজ’ কায়েম হয়েছে, সমাবেশ তারও অবসান চাইবে।

একদিকে দুষ্কৃতী তাণ্ডব, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অন্যদিকে, বিরোধী দলের উপর আক্রমণ। এই আক্রমণের মুখে উত্তর ২৪পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়া, ভাটপাড়া-জগদ্দল, হাড়োয়া, বারাসত লাগোয়া শাসন কিংবা খড়িবাড়িতে শত শত সি পি আই (এম) কর্মী ঘরছাড়া। পার্টির সহস্রাধিক কর্মী, সমর্থক ও নেতাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রেও গণতন্ত্র আক্রান্ত। অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীরাও আক্রমণের মুখে পড়ছেন। সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উত্তর ২৪পরগনা এবং নদীয়া জেলা পরিষদকে কার্যত পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। দেদার লুট হচ্ছে ১০০দিনের কাজের টাকা। উন্নয়নের গতি স্তব্ধ। জাতীয় সড়ক উন্নয়নের টাকা ফেরত যাচ্ছে। শিল্প ও উদ্যোগপতিরা রাজ্য থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন। রাজারহাট-নিউটাইনে উইপ্রো, ইনফোসিসের মতো সংস্থাও আজ উৎসাহ হারিয়েছে।

১লা অক্টোবরের সমাবেশ এর বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাবে।

আজ শুধু সি পি আই (এম) বা বামফ্রন্টের অন্যান্য শরিক দলের কর্মীরাই আক্রান্ত নয়, আক্রান্ত সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষও। এমনকি কংগ্রেস বা তৃণমূলের ক্ষমতাসীন অংশের সঙ্গে ঐ দলেরই যে কর্মীরা ভিন্নমত, তাঁরাও রেহাই পাচ্ছেন না। এই ধ্বংসের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে গরিব মানুষের নিবিড় ঐক্য প্রতিষ্ঠার কথাই বলবে ১লা অক্টোবরের সমাবেশ।

এই সমাবেশকে সফল করার জন্য উত্তর ২৪পরগনা জেলাজুড়েই প্রচার চলছে। প্রচার চলছে জেলার ১৯টি ব্লকেই। প্রায় প্রতিদিন সমাবেশ হচ্ছে। মিছিল, কর্মীসভা, পথসভার সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে হাটসভা, শ্রমিক বস্তিতে খাটিয়া সভাও চলছে। দেওয়াল লিখন, পোস্টার, লিফলেট, হোর্ডিংয়ের মাধ্যমে চলছে প্রচার।

‘আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রী হিংসার অবসান ঘটিয়ে সুষ্ঠুভাবে রাজ্য চালানোয় মন দিন— বলেছেন সি পি আই (এম) উত্তর ২৪পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক গৌতম দেব। তিনি বলেছেন, ‘রাজ্য পরিচালনার প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেও বামপন্থীরা প্রস্তুত। বিরোধীদের মর্যাদা দিতে হবে সরকারকে। জনস্বার্থে সরকারকে প্রকল্প নিতে হবে। রাজ্যের উন্নয়নে, শিল্পায়নেও পদক্ষেপ নিতে হবে। রক্ষা করতে হবে শ্রমিক, কৃষক, কর্মচারী, মেহনতী মানুষ, ছাত্র, যুব ও মহিলাদের স্বার্থ। রাজ্যের মানুষের ভালোর জন্য এটুকুই আমাদের চাহিদা’।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below