মেধা তালিকায় নাম থেকেও চাকরি হয়নি আত্মহত্যা করলেন এস এস সি প্রার্থী  | পোস্টার লাগাতে গিয়ে হাওড়ায় আক্রান্ত পার্টিনেতা, কর্মীরা  | সুতাহাটায় শুভেন্দু-বাহিনীর হাতে আক্রান্ত ফুরফুরা শরিফের পীর  | মোদী চিন্তিত শুধু চেয়ার নিয়ে: সোনিয়া  | বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রের বামফ্রন্ট প্রার্থী পুলিনবিহারী বাস্কেকে নিয়ে মিছিল ধরমপুরে।  | রায়গঞ্জ শহরের জনবহুল এলাকাতেই মদ্যপ তৃণমূলীদের সন্ত্রাস, হুমকি, মারধর  |  মালদহে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ, ভোটের হার বাড়লো  | পুলিসের সামনেই আক্রান্ত বামফ্রন্টের প্রার্থী গোঘাটে  | তামিলনাডুতে ভোট পড়লো ৭০ শতাংশ  | বি জে পি-র জয় নিয়ে শঙ্কায় সঙ্ঘ, পালটাচ্ছে প্রচার কৌশলও  | কোন মোদী ঝড় নেই দেশে, দাবি মনমোহনের  | লোকপাল নিয়োগ নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নয়, আদালতকে জানালো কেন্দ্র  | পাড়ুইয়ে এক ধৃতের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণ করলো আরেক অভিযুক্ত

আজকের দিনে



 

ছবির খাতা

জনতার ব্রিগেড

আরো ছবি

ভিডিও গ্যালারি

Video

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কলকাতা

 

লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আপনার রায়

গরিবের পাশে থেকেছে বামফ্রন্টই

হ্যাঁ
না
জানি না
 

ই-পেপার

Back Previous Pageমতামত

শুভাপ্রসন্নের সংস্থাতেও টাকা লগ্নী প্রতারকের

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১৭ই মার্চ- সেবি ও আয়কর দপ্তরকে রীতিমতো ধাঁধায় ফেলে দিয়েছিলেন প্রতারক সুদীপ্ত সেন। সারদা গোষ্ঠীর একটি সংস্থা বিপুল পরিমাণ টাকার ঋণ দিচ্ছে সারদা গোষ্ঠীরই অন্য সংস্থাকে, যার কোন কার্যকরী অস্তিত্বই নেই। সেই টাকারও আবার কোন হদিশ নেই। কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের নতুন নতুন কৌশল রপ্ত করেছিলেন মমতা ব্যানার্জির সরকারের প্রতি প্রশ্নহীন আস্থা রাখা এই প্রতারক। এদিকে সারদা কাণ্ডে নেই নতুন কোন গ্রেপ্তার। অন্যদিকে গোটা তদন্তকে নখ-দন্তহীন করে দেওয়ার অভিযোগও উঠছে সিটের বিরুদ্ধে।

এই সূত্রেই রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ (আর ও সি)’র হাতে এসেছে এমন তথ্য যাতে সারদার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ফের চলে এসেছে মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ তৃণমূলী শুভাপ্রসন্নের নাম। ইতোমধ্যে সারদা গোষ্ঠীর চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গেছে শাসক দলের একাধিক দাপুটে নেতা, নেত্রীর নাম। সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী, চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নের রীতিমতো ব্যবসায়িক সম্পর্কের হদিশও মিলেছে পুলিসী জেরায়। এবার আর ও সি’র হাতে এসেছে সারদার কোটি কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির কৌশল।

তদন্তকারী আধিকারিকরা জেরায় জানতে পেরেছেন সারদা গোষ্ঠীর একাধিক কোম্পানির মধ্যেই ‘ক্রস লোনের’ মধ্য দিয়ে ব্যাপক জালিয়াতি ঘটেছে। আর এই সূত্রেই আর ও সি’র পশ্চিমবঙ্গ শাখার তরফে গত ২৩শে এপ্রিল কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতেই উল্লেখ করা হয়েছে সারদা চিট ফান্ড সংস্থা ‘সারদা রিয়েলিটি ইন্ডিয়া’র আর্থিক অবস্থা যখন ক্রমেই দুর্বল হতে শুরু করে সেই সময়েই এই কোম্পানি সারদা গোষ্ঠীর অন্য একটি সংস্থা ‘সারদা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’-কে প্রায় ১০কোটি টাকা ঋণ দেয়। আর্থিক পরিস্থিতি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও কেন তড়িঘড়ি ১০কোটি টাকা ঋণ দিয়ে দেওয়া হলো? তাহলে তো সারদার রিয়েলিটির অ্যাকাউন্টসে এটি ‘অ্যাসেট’ হিসাবেই ধরা হবে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় খরচ হলো, কোন স্পষ্ট উত্তর নেই।

এই আর্থিক জালিয়াতির সূত্র ধরেই আর ও সি’র হাতে এসেছে ‘দেবকৃপা ব্যাপার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে সংস্থাটির নাম। যে সারদা কনস্ট্রাকশান কোম্পানি নিজেই সারদার চিট ফান্ড সংস্থার কাছ থেকে ১০কোটি টাকা লোন নিয়েছিল সেই সংস্থাই আবার হঠাৎ করে সারদার অনুসারী সংস্থা দেবকৃপা ব্যাপার প্রাইভেট লিমিটেড’কে ২০১২ সালে ৬কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দেয়। এর মধ্যে ২কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ঋণ হিসাবে এবং বাকি ৩কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দেবকৃপার শেয়ারে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে পাঠানো চিঠিতে আর ও সি’ রীতিমতো বিস্ময়ের সঙ্গেই উল্লেখ করেছে, ‘ দেবকৃপা নামে সংস্থাটির কোন প্রকাশ্য ব্যবসায়িক অস্তিত্বই নেই’।

কেন্দ্রের কর্পোরেট বিষয়ক দপ্তরের আর ও সি(রেজিস্টার্ড অব কোম্পানিজ) তালিকায় নাম রয়েছে এই ‘দেবকৃপা ব্যাপার প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থাটির। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক দপ্তরের সর্বশেষ রিপোর্টে দেখা গেছে ,এই সংস্থার ডিরেক্টর বোর্ডে চার জন রয়েছেন। একজন ডিরেক্টর শুভাপ্রসন্ন। আরেকজন ডিরেক্টর তাঁর কন্যা জোনাকি ভট্টাচার্য। কিন্তু বাকি দুই ডিরেক্টরের একজন আপাতত পুলিস হেফাজতে থাকা চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির মাস্টারমাইন্ড সুদীপ্ত সেন। আরেকজন, চিটফান্ড কাণ্ডে সুদীপ্ত সেনের সহযোগী দেবযানী মুখার্জি। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট বিষয়ক দপ্তরের সর্বশেষ ঐ রিপোর্টে এই ‘দেবকৃপা ব্যাপার লিমিটেড’ নামে সংস্থাটির যে স্ট্যাটাস রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিটি তৈরি হয়েছে সাত বছর আগে ২০০৬ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি। কোম্পানি নম্বর- ইউ ৯২৪০০ ডব্লিউ বি ২০০৬ পি টি সি ১০৭৯২৯।

এই সংস্থার ডিরেক্টরস অব বোর্ডে চিট ফান্ড কেলেঙ্কারির নায়ক সুদীপ্ত সেন ও সারদা গোষ্ঠীর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর দেবযানী মুখার্জি ২০১২ সালের ৯ই জুলাই যুক্ত হন। এখানে সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে মানে এরাজ্যে ক্ষমতায় চলে এসেছে মমতা ব্যানার্জির সরকার। চিট ফান্ড ব্যবসায় ততদিনে রীতিমতো দানবে পরিণত হয়ে গেছে সুদীপ্ত সেন। ২০০৬ সালে শুভাপ্রসন্ন যে সংস্থাটি তৈরি করেছিলেন সেই সংস্থাতেই অর্থ লগ্নি করেছেন সুদীপ্ত সেন, কিনে নিয়েছিলেন শেয়ারও। সংস্থাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১০৭৯২৯। আর ও সি নথিপত্র ঘেঁটে দেবকৃপাকে দেওয়া সরাসরি সেই ২কোটি ৯০ লক্ষ টাকারও কোন হদিশ পায়নি। জেরা থেকে পুলিসের হাতে এ তথ্য এলেও সুদীপ্ত সেনের বিশ্বাস অর্জন করা বিধাননগর কমিশনারেট এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত শুভাপ্রসন্নকে জেরা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারেনি। গোটা বিষয় নিয়ে তৃণমূল কর্মী এই চিত্রশিল্পীর সঙ্গে বারে বারে চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি।

এদিকে সারদা কাণ্ডে নামেই বিধাননগর কমিশনারেট তদন্ত করছে। কিন্তু মূল রাশ এখন মমতা ব্যানার্জির তৈরি করে দেওয়া স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)র হাতে। সিটের অন্যতম আধিকারিক সি ‌আই ডি’র অতিরিক্ত ডিজি শিবাজী ঘোষই কার্যত তদন্তের রূপরেখা তৈরির মূল কাজটি করে চলেছেন। শনিবার আবারও সুদীপ্ত সেনকে আদালতে তোলার কথা।

এদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কোন সদিচ্ছা না দেখানোর জন্যই বিধাননগর কমিশনারেটকে নানা তথ্য পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সুদীপ্ত সেনের নিজের নামের স্থাবর সম্পত্তি ছাড়া যেসব বেনামে সম্পত্তি রয়েছে তার ওপর কিছুতেই থাবা বসাতে পারছে না পুলিস। অন্যদিকে, সারদা গোষ্ঠীর মালিকানার সম্পত্তির হদিশ জানাতে সিটের তরফে জেলার পুলিস সুপারদের যে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিলো। ২২টি সংস্থার অসংখ্য ডিরেক্টরের সন্ধান ও জেরার পরেও এখনো পর্যন্ত নতুন গ্রেপ্তারির পথে নামতে চাইছেন না বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা। সিটের তরফেও নতুন করে গ্রেপ্তার করে তদন্তকে না ছড়ানোর নির্দেশ মিলেছে। আবার আইনী ফাঁক দিয়ে যাতে কোনভাবে কোন কেন্দ্রীয় সংস্থা ঢুকতে না পারে তার জন্য আদালতের নির্দেশ হাতে নিয়েই কমিশনারেটে আসতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার নিজেদের এলাকায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিধানননগর কমিশনারেটে আসেন হুগলী এবং দক্ষিণ ২৪পরগনার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (ইবি) আধিকারিকরা। ঘন্টা দুয়েক তাঁরা সুদীপ্ত সেন ও দেবযানীকে জেরা করেন। জানা গেছে, হুগলীর আরামবাগ, শ্রীরামপুর, চন্দননগর তিনটি থানায় আলাদা করে তিনটি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। দক্ষিণ ২৪পরগনার কাকদ্বীপে প্রচুর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সারদা কাণ্ডে সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখার্জি, অরবিন্দ চৌহানকে ইবি নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় বলেও এদিন জানিয়েছেন মূল তদন্তকারী আধিকারিক অশোক কামরী।

মতামত
এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত
 

আমাদের এই খবরটি সম্পর্কে আপনার মতামত পেলে বাধিত থাকব। তবে যথাযথ যাচাই না করে ২৪ঘন্টার আগে আপনার মতামত ওয়েবসাইটে দেখা যাবে না।

Top
 
Name
Email
Comment
For verification please enter the security code below