পরি পুতুল নিয়ে ব্যস্ত মির্জাবাজার

নিজস্ব সংবাদদাতা   ২৮শে অক্টোবর , ২০১৬

তমলুক, ২৭শে অক্টোবর — দেওয়ালি এলেই কেবল দেখা যায় এই পুতুলকে। তাই নাম হয়েছে দেওয়ালি পুতুল। অনেকে অবশ্য ‘পরি পুতুল’-ও বলে। পুতুলগুলির মাথায় অসংখ্য প্রদীপের ঝাঁকা থাকে অথবা হাতে লম্ফ বা কুপো বা কুপী থাকে। মেদিনীপুর শহরের মির্জাবাজারের কুমোরপাড়ায় এখন দেওয়ালি পুতুল তৈরির ধুম। হচ্ছে বিক্রিও।

তবে সময়ের সাথে পরিবর্তন হচ্ছে পরি পুতুলের রূপ। আগে কেবল ঘোড়ায় বসা নারী মূর্তির হাতে অথবা দণ্ডায়মান মহিলার হাতে লম্ফ বা প্রদীপ ধরানো থাকতো। এখন পুতুলের পরনের পোশাক থেকে পুতুলের ভঙ্গিমা সবেতেই পরিবর্তন ঘটছে। এমনকি নারী মূর্তির বদলে‍‌ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী মূর্তির হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে লম্ফ বা কুপি বা প্রদীপ।

১২৬৪ তথা ১৮৫৭ সালে মির্জাবাজারের এই কুমোরপাড়ার প্রতিষ্ঠা। ফলে তারপর থেকে এখানে এ ধরনের পুতুল তৈরির চল শুরু হয়েছে বলা যায়। এ ধরনের পুতুল ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন স্থানে দেদার তৈরি হয় এ সময়। ফলে এটি যে অবাঙালি সংস্কৃতি ছিল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বিহার থেকে এক শ্রেণির মানুষ প্রথমে আসেন পুরুলিয়ার ছাতাটাঁড়, কুক্কড়ু, বলরামপুর এলাকায়। সেখানে শুরু করেন দেওয়ালি পুতুল তৈরি। তারপর তা ক্রমশ বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন বাঙালি জাতির অন্দরমহলে ঢুকে পড়েছে।

বাজার ধরার প্রয়োজনে এখন কুম্ভকাররা নারী মূর্তির পাশাপাশি ছোটা ভীম, মোটু পাতলুদের হাতেও লম্ফ গুঁজে দিয়েছে। চিরাচরিত কাঁচুলি, শাড়ির পরিবর্তে আধুনিক কায়দায় রং বেরঙের শাড়ি পরানোর প্রথা এসেছে।

মির্জাবাজারে এখন শিল্পীদের চোখে ঘুম নেই। শেষ তুলির আঁচড়ের টান দিতে ব্যস্ত সাবিত্রী দাস, ঝুমা দাস, জয়ন্তী দাস, সুতপা পালরা। বিক্রি চলছে তিরিশ টাকা থেকে দেড়শো টাকায়