সান্তা ক্লারায় এসে চে-ফিদেলের
প্রতীকি পুনর্মিলন

সংবাদসংস্থা   ২রা ডিসেম্বর , ২০১৬

সান্তা ক্লারা, ১লা ডিসেম্বর— প্রতীকি পুনর্মিলন।

চে’র শহর সান্তা ক্লারায় এসে প্রথম থামল ফিদেলের চিতাভস্ম বয়ে নিয়ে চলা মুক্তির ক্যারাভান। বুধবার মধ্যরাতে। এই শহরেই রয়েছে কিউবা বিপ্লবের প্রবাদপ্রতিম নেতা চে গুয়েভারার দেহাবশেষ। সমাধিক্ষেত্র লাগোয়া বাইশ ফুট উঁচু চে’র ব্রোঞ্জের মূর্তি। ১৯৫৮’র ৩১শে ডিসেম্বর, এই শহরেই চে’র নেতৃত্বে বারো ঘণ্টার নির্ণায়ক লড়াই। ফিদেলের ‘সার্বিক জয়’ ঘোষণা। এই শহরেই ১৯৫৯’র ৬ই জানুয়ারির ভোরে প্রবেশ করে ফিদেলের ক্যারাভান। জনস্রোতের সামনে সেদিন ফিদেল বলেছিলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে কিছু বলতে আসিনি, আমরা এসেছি মানুষের কথা শুনতে।’

হাভানা থেকে বিদায় নিয়ে বুধবার মধ্যরাতে মুক্তির ক্যারাভান প্রথম থামে সান্তা ক্লারায়। চে’র দেহাবশেষ যেখানে রয়েছে, তার কয়েক মিটার দূরে রাখা হয় কিউবা বিপ্লবের নেতার চিতাভস্ম। তার আগে, সন্ধ্যায় থেকেই ক্যারাভান আসার অপেক্ষায় রাস্তায় সার দিয়ে দাঁড়িয়ে সান্তা ক্লারার মানুষ। মধ্যরাত কাটিয়ে সামরিক জিপ ঢুকতেই স্লোগান, ‘আমিই ফিদেল’, ‘ফিদেল দীর্ঘজীবী হোন, দীর্ঘজীবী হোন চে।’

‘আমরা রাতভর এখানে থাকব। বিপ্লবের প্রতি, সমাজতন্ত্রের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা নিয়েই আমরা থাকব ফিদেল, চে-র সঙ্গে।’ জানান কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির ভিলা ক্লারার প্রথম সম্পাদক জুলিও লিমা। সঙ্গে ছিলেন সান্তা ক্লারার শিল্পীরা। রাতভর সেখানেই স্মরণ অনুষ্ঠান।

রাত পোহাতে ভোর হতেই ক্যারাভান নিখুঁত সময় মেপে রওনা দেয় পূবের শহর সান্তিয়াগো দে কিউবার পথে। ১৯৫৯’র জানুয়ারির ২তারিখের ভোর সকালে সান্তিয়াগো থেকে যে পথে ক্যারাভান ছ’দিনে পৌছেছিল হাভানায়, ঠিক সেই পথেই ফিরছে মুক্তির ক্যারাভান।

সান্তিয়াগোতে সান্তা ইফিজেনিয়া সমাধিক্ষেত্রে তাঁর চিতাভস্ম কবরস্থ করা হবে। এই সমাধিক্ষেত্রেই রয়েছে কিউবার স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানি হোসে মার্তিসহ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দেহাবশেষ। তার আগে শনিবার সান্তিয়াগোর রেভেলিউশান প্লাজায় হবে স্মরণ সমাবেশ।— প্রেনসা লাতিনা

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement