জিনিসপত্রের দাম বাড়লে দায়ী
করা যাবে না, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই জানুয়ারি—জিনিসের দাম বাড়লে তাঁকে কোনও প্রশ্ন করা যাবে না। রাজ্যবাসীকে বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আর রাইটার্স বিল্ডিংয়ের মাঝের রাস্তায় তৃণমূল কংগ্রেস তিনদিন ধরে সভা করেছে। সেজন্য ১৪৪ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার ছিল সেই অবস্থানের শেষদিন। এদিন বিকাল ৫টা নাগাদ হাজির শ’ তিনেক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর সামনে ভাষণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বি জে পি সরকারের নোট বাতিল এবং তাঁর দলের দুই সাংসদ চিট ফান্ডের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেন তিনি। সভায় বলেন, ‘‘মোদীবাবুর নোট বাতিলের কারণে দশ মাস পরে যদি জিনিসের দাম বাড়ে, তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না কেন দাম বাড়লো? চাষ করতে পারছে না কৃষক। আলু কোথায় পাবেন? খাবেন কী করে? দাম তো বাড়তেই পারে। ধান চাষ হচ্ছে না। খাদ্যসাথি চলবে কী করে? যদি রেশনে চালই না যায়?’’

তাঁর এই মন্তব্যে মজুতদার, কালোবাজারিরা উৎসাহিত হবে বলেই মনে করছেন অনেকে। এখনই অনেক ফড়ে, মজুতদার কমদামে কিনে ফসল যতদিন সম্ভব ধরে রাখার কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি সন্দেহ গোড়া থেকেই উঠছিল, নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে রাজ্যে বিরোধীদের শায়েস্তা করার অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার একটি কৌশল নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে তাঁদের আরও সংকটে ঠেলে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক ফায়দার একটি পথ করতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর এদিনের হুঁশিয়ারি সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরদার করেছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যস্তরে ব্যাঙ্কগুলির কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে দেখা গিয়েছে, ক্ষুদ্রশিল্প, কে সি সি করার কাজে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। সরকারই যুবদের ঋণের আবেদনপত্র সুপারিশ করছে না। যেমন রেগার প্রায় হাজার কোটি টাকা গত এপ্রিল-মে থেকেই রাজ্যে বকেয়া। মমতা ব্যানার্জির সরকারের ব্যর্থতা, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের রেগার টাকা লুটের কারণে অনেক শ্রমিক তাঁদের অনেক দিনের মজুরি পাননি। এখন, প্রায় দশ মাসে পরে মমতা ব্যানার্জি সেই রেগার টাকা না পাওয়ার দায় থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাইছেন। যেমন এদিন তিনি বলেছেন,‘‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি গ্রামের গরিব লোক টাকা তুলতে পাচ্ছেন না। ব্যাঙ্কে তো টাকাই নেই। দেবে কোত্থেকে?’’

একইভাবে চিট ফান্ডের সঙ্গে নিজের দলের নেতাদের যোগসাজশ আড়াল করতে মমতা ব্যানার্জি সি পি আই (এম)-কে আক্রমণ করেছেন। জেলাগুলিতে বি জে পি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের তানাশাহীর বিরুদ্ধে ডাকা সি পি আই (এম) তথা বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের জনসভায়, মিছিলে অনেক মানুষ যোগ দিচ্ছেন। সেই তুলনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বি বা দী বাগ থেকে ভুবনেশ্বর — কোনও সভাতেই মানুষের বলার মতো অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে না। তা মুখ্যমন্ত্রীর চোখে পড়েছে বলেই তিনি এদিন সি পি আই (এম)-কে বি জে পি-র সহায়ক হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন। বলেছেন, ‘‘সি পি এম হার্মাদ ছিল। বি জে পি জল্লাদ।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘চিট ফান্ড আমাদের আমলে হয়নি। সব জ্যোতিবাবু, বুদ্ধবাবুর আমলে হয়েছে। সারদা উদ্যান কী করে হলো? সুজনবাবুকে জবাব দিতে হবে। এম পি এস-র বন্ধু কারা? বিমানবাবুকে বলতে হবে। সব ছবি আছে। আপনাদের পার্টি হিসাব জমা দিলো। প্যান কার্ড ছাড়া ১৬ কোটি জমা পড়লো কী করে? কোনও তদন্ত হয়েছে? আমার প্রশ্ন বাংলায় চিট ফান্ড কেন চলতে দিলো আর বি আই, সেবি?’’ প্রসঙ্গত, সি পি আই (এম) হিসাব সংক্রান্ত জবাব অনেক দিন আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কোনও চিট ফান্ডের টাকা পার্টির, নিজের কাজে ব্যবহার কোনও দৃষ্টান্ত কোনও সি পি আই (এম) নেতার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ তুলতে পারেনি। কোনও চিট ফান্ডকে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে এমনও কোনও উদাহরণ নেই। বরং চিট ফান্ডের বিরুদ্ধে আইন বামফ্রন্ট সরকারই করেছিল। উলটে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে সারদা, রোজভ্যালির মালিকের সঙ্গে মধ্যরাতে ডেলো বাংলোয় বৈঠক, তাদের দিয়ে নিজের ছবি কেনানো, তাদের ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ ক্রমাগত জোরদার হয়েছে।

এদিনের সভায় অনেকেই আশা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি দলের কিছু আগামী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। পরপর কর্মসূচি ফ্লপ করায় তিনি এবার কিছুদিন অপেক্ষা করেই কৌশল ঠিক করবেন বলে দলের সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে তাঁর অজুহাত, ‘‘সাগর মেলার পর আগামী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’’

Featured Posts

Advertisement