জি এস টি, কার্ডে লেনদেনে
বাড়বে রাজস্ব, দাবি জেটলির

সংবাদসংস্থা

গান্ধীনগর, ১১ই জানুয়ারি— কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধে সিদ্ধান্ত হচ্ছে না জি এস টি পরিষদের পরপর বৈঠকে। তবু, ১লা এপ্রিল থেকেই নতুন পরোক্ষ কর ব্যবস্থা চালুতে আশাবাদী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। অরুণ জেটলির ব্যাখ্যা, ঝুলে থাকা কয়েকটি বিষয় মিটে যাবে দ্রুত।

বুধবার গান্ধীনগরে গুজরাটের শিল্প সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন জেটলি। পণ্য পরিষেবা কর প্রসঙ্গে তিনি বললেন, বেশিরভাগ বিতর্কই মিটে গিয়েছে। কয়েকটি জটিল বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে তা মেটানোর জন্য কাজ করা হচ্ছে। জেটলির দাবি, জি এস টি এবং অর্থনীতিতে নগদবিহীন লেনদেন বৃদ্ধি একসঙ্গে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তাঁর বক্তব্য, দেশে করের ভিত্তি সংকুচিত। বেনামি এবং হিসেবের বাইরে থাকা অর্থ নগদে ঘুরছে। এই টাকা ব্যাঙ্কে ফিরে এলে এবং তার সঙ্গে কার্ডে লেনদেন যুক্ত হলে অসংগঠিত অর্থনীতি মূল ব্যবস্থায় সংযুক্ত হবে। তাঁর মন্তব্য, অসংগঠিত অর্থনীতিই, বিভিন্ন সময়, গোপন অর্থনৈতিক কারবারে পরিণত হয়েছে।

উল্লেখ্য, নোট বাতিলের ৫০দিনের সময়সীমা মিটলেও ঠিক কত কালো টাকা উদ্ধার হলো তার হিসেব দিতে পারেননি জেটলি। হাজার ও পাঁচশোর নোটে যত টাকা বাজারে ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ জমা পড়বে না বলে অনুমান ছিল কেন্দ্রের। সেই অনুমান কতটা ঠিক, জানাননি তাও। কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির কারণ হওয়া সত্ত্বেও নগদনির্ভর অসংগঠিত অর্থনীতির ঘাড়ে কালো টাকার দায় চাপিয়েছেন জেটলি।

জি এস টি পরিষদের পরের বৈঠকটি হবে ১৬ই জানুয়ারি। পণ্য পরিষেবা করের নিয়ম স্থির করার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পরিষদেরই। কেন্দ্র এবং রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন পরিষদে। কোন করদাতার এক্তিয়ার কার হাতে থাকবে তা নিয়েই কেন্দ্রের বক্তব্যে বিরোধিতা জানাচ্ছে বিভিন্ন রাজ্য। করের এক্তিয়ার এবং কর প্রশাসন সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। জি এস টি চালু হলে রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন পরোক্ষ কর বাতিল হবে। রাজ্যগুলির রাজস্ব কমলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। জেটলি বলেছেন, জি এস টি চালুর জন্য সংবিধান সংশোধন হয়ে রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ১৬ই সেপ্টেম্বরের আগে এই নতুন করব্যবস্থা চালু করা দরকার।

জেটলি বলেছেন, জি এস টি এবং নোট বাতিলের প্রভাবে রাজস্ব আদায় বাড়বে। অর্থনীতি স্বচ্ছ হবে। নোট বাতিলের ফলে নগদবিহীন লেনদেন বাড়বে। তার সঙ্গে জি এস টি চালুর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে। কর ফাঁকি কমবে। জি এস টি পরিষদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক্ষেত্রেই প্রথম কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যগুলির মত বিনিময়ের মাধ্যমে কর ঠিক করা হচ্ছে।

নোট বাতিলের সমর্থনে জেটলি বলেন, দামি নোট বাতিল করা হয়েছে গোপন অর্থনীতি ভাঙার জন্য। এই লক্ষ্যেই মরিশাস, সিঙ্গাপুর এবং সাইপ্রাসের সঙ্গে কু চুক্তি বদলানো হচ্ছে। যদিও সরকারের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, ১হাজার টাকার নোট বাতিল করে আরো দামি ২হাজার টাকার নোট ছাড়া হয়েছে বাজারে। কেন্দ্রের কালো টাকা ধরার দাবিও প্রশ্নের মুখে। বিদেশে পাঠানো বিপুল অঙ্কের কালো টাকা উদ্ধার কতদূর, সেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।