সামনেই পৌষপার্বণ
অন্য ব্যস্ততা বাঁকুড়ার গ্রামে

মধুসূদন চ্যাটার্জি

বাঁকুড়া : ১১ই জানুয়ারি — গত বছর ব্লকে ব্লকে ধান কেনার মাইকপ্রচার করেছিল, নামকেওয়াস্তে দু একটা জায়গায় অল্প দামে হলেও ধান কেনা হয়েছিল। এবছর কোন মাইক প্রচারও নেই, ধান কেনার ধারে কাছে এখনও যায়নি সরকার। যন্ত্রণা, হতাশায় দিন কাটাছেন কৃষক, খেতমজুর। কিন্তু হতাশাই তো জীবন নয় তাই একটু অন্যরকম ভাবে জীবন কাটাতে চায় গ্রাম বাঁকুড়ার মানুষ। সেই জীবন কাটাবার সাহারা হল পৌষপার্বণ উৎসব বা মকর পরব। এই উৎসবের অন্যতম প্রধান বিষয়ই হল পিঠে।

শহরের মানুষজন যেখানে এই পিঠের জন্য আটা চাকির মেশিনে চাল ভাঙিয়ে আনছেন, সেখানে গ্রামগুলিতে এখনও ঢেঁকিতে চাল ভাঙা হচ্ছে। এই ঢেঁকিতে ভাঙানো চালের পিঠের স্বাদই আলাদা। মোলায়েম তুলতুলে পিঠে। শহরের মানুষজনও পরিচিত গ্রামের লোকজনের কাছে আসেন ঢেঁকিতে ভাঙা চালের গুড়ির জন্য। বছরে একদিনের একটু অন্য স্বাদের আশায়।

বড়জোড়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া খোলামুখ কোলিয়ারির পাশে চুনপোড়া, বকুলমথুরা ইত্যাদি গ্রামের গৃহবধূরা এখন দুপুরের পর থেকেই ঢেঁকিতে চাল ভেঙে চলেছেন। চুনপোড়ার পুরো গ্রামে এই ঢেঁকিতে ভাঙা চালেই পিঠে হয়। জানালেন গৃহবধূ নমিতা কাঁড়ার। এখানে কেউ আটাকলে চাল ভাঙে না। এবছর এখানেও ভাল ধান হয়েছে। কিন্তু বিক্রি নেই। কৃষক অভাবের তাড়নায় কম দরে ধান বিক্রি করছেন। কিন্তু হতাশা নিয়ে বসে থাকলে কতদিন বাঁচব? জানালেন সুশীল কাঁড়ার। বছরে পৌষ সংক্রান্তির দিন সবাই মিলে বড়জোড়া ব্যারেজের কাছে বাড়ি থেকে পিঠে নিয়ে গিয়ে এক সঙ্গে খাওয়ার আনন্দই আলাদা জানালেন গৃহবধূ আলপনা দাস। এরা সবাই জানালেন, পৌষ সংক্রান্তির দিন গ্রামের সবাই দামোদর যাই। শত যন্ত্রণার মাঝে দিনটা ভালই কাটে। তাই এখন চাল ভেঙে যাচ্ছি পিঠের জন্য। পিঠে হয় নারকেল, চাছি, তিল, রমা কলাইয়ের পুর দিয়ে। এই পিঠে পরবের জন্য দক্ষিণ বাঁকুড়ার গ্রামগুলিতেও ঢেঁকিতে চাল ভাঙার কাজ চলছে পুরোদমে। শনিবার এই পিঠে পরবের উৎসব। এখানে তিল পিঠে টাই বেশি হয়। একে বলা হয় ডুমু পিঠা। তাই এই পিঠেকে সেই চিরাচরিত স্বাদে পেতেই চলছে ঢেঁকিতে পা ধান দিয়ে চাল ভাঙা বা কুটার কাজ।

Featured Posts

Advertisement