অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার কমছে
রিপোর্ট বিশ্বব্যাঙ্কের

সংবাদসংস্থা

ওয়াশিংটন, ১১ই জানুয়ারি— নোট বাতিলের ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির (জি ডি পি)হার কমে গেছে বলে জানালো বিশ্বব্যাঙ্ক। গত বছর যা ছিল ৭.৬শতাংশ, তা ২০১৬-১৭ সালে কমে হয়েছে ৭শতাংশ। নোট বাতিলের পর এই প্রথম বিশ্বব্যাঙ্ক তাদের রিপোর্টে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হারে এই অধোগতির কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিল।

গত ৮ই নভেম্বর ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নতুন নোট ছাড়া হয়। এদিকে যে পরিমাণ টাকা বাতিল তার থেকে অনেক কম নতুন টাকা বাজারে ছাড়া হয়। টাকার জোগান না থাকায় দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসে। শিল্প কৃষিতে উৎপাদন কমে গেছে। শ্রমিকেরা কাজ হারিয়েছেন। তাদের মজুরিও কমে গেছে। ফলে বাজার হাটে কেনাকাটা কমে গেছে। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি দেশের এই আর্থিক বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করেননি। কিন্তু বিশ্বব্যাঙ্ক তাদের রিপোর্টে দেশে নোটে বাতিলের ফলেই এই অধোগতি তা পরিষ্কারই জানিয়ে দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘নোট বাতিল ও নতুন টাকা ছাড়ার পরই ভারতের আর্থিক পরিস্থিতির এই অবনতি হয়।’

বিশ্বব্যাঙ্ক রিপোর্টে জানিয়েছে, ‘ভারতের জি ডি পি-র হার (৩১শে মার্চ, ২০১৭)যা কমে ৭% দাঁড়াচ্ছে তা একমাত্র ফের ঘুরে বৃদ্ধির হার বাড়তে পারে যদি কৃষির উৎপাদনে ভালো বৃদ্ধি ঘটে ও জ্বালানি তেলের দাম কম থাকে। নোট বাতিলের ফলে আর্থিক অধোগতির যে চ্যালেঞ্জ এসেছে ভারতের সামনে তার মোকাবিলা এই পথে সম্ভব হতে পারে।’ যদিও কৃষির সংকট এ সময়ে আরো তীব্র হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম কেন্দ্র বরাবরই বাড়িয়ে চলেছে। অধোগতির পথ থেকে রেহাই পেতে দাওয়াই হিসাবে কেন্দ্র ফের আর্থিক সংস্কারের পথে চলবে বলে আশা করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ভারত সরকার ২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে ৭.৬% এবং ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে ৭.৮% জি ডি পি হারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে উৎপাদনের হার বাড়াতে বেশ কিছু আর্থিক সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।’ ভারত শিল্প পরিকাঠামো উন্নত করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত সরকার আগামী দিনে পরিকাঠামো উন্নত করতে ৩০০কোটি ডলারের জাতীয় লগ্নি এবং পরিকাঠামো তহবিল গঠন করতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

এদিকে নোট বাতিলের পর তা ব্যাঙ্কে জমা পড়ায় ব্যাঙ্কের পুঁজির জোগান বেড়েছে, এটা নোট বাতিলের একটা সুবিধা বলে মনে করছে বিশ্বব্যাঙ্ক। এতে বর্তমানে ব্যাঙ্ক ঋণের সুদের হার কমে যাওয়ায় শিল্পে ও পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সংস্থান হয়েছে। যা আর্থিক বৃদ্ধির সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে বিশ্বব্যাঙ্ক আরও বলেছে, ভারতে যেখানে ৮০% নগদে লেনদেন হয় সেক্ষেত্রে এই নোট বাতিলের মতো পদক্ষেপে স্বল্প মেয়াদি ক্ষেত্রে অর্থনীতিতে বিপর্যয় দেখা দেয়। যা ব্যবসা শিল্পে ক্ষতি করে। এতে আর্থিক বৃদ্ধির হারও শ্লথ হয়ে যায়।তবে এই আর্থিক সংকট সরকারের সামনে আর্থিক সংস্কারের মতো জরুরি কাজগুলোকে ব‌্যাহত করে। যেমন ভারতে জমি অধিগ্রহণ বিল, পণ্য পরিষেবা বিল, শ্রম বিল প্রভৃতি। যার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

ভারতে শিল্পে বিনিয়োগ বেসরকারি ক্ষেত্রে ২০১১ সাল থেকে কমছে বলে জানায় বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০১১ সাল থেকে দেখা গেছে শিল্পে বেসরকারি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হার কমছে ও তুলনায় সরকারি ক্ষেত্রে বেড়েছে । যেমন ২০১৬ সালে সরকারি বিনিয়োগ হার বেড়ে হয় ১১%তা বেসরকারি ক্ষেত্র কমে হয় ১.৪%। মোট বিনিয়োগ হার শিল্পক্ষেত্র কমে হয় মাত্র ৪%।এদিকে নোট বাতিলের ফলে বিপর্যয় এই বিনিয়োগ চিত্রে কার্যত মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে গেছে। বিশ্বব্যাঙ্ক জানিয়েছে, পরিস্থিতি যা হয়েছে ২০১৭ সাল পুরো সময়ই জি ডি পি-র বৃদ্ধির হার ৭% থাকবে তা আর বাড়বে না।বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বে দেশের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে, শিল্পের সহায়ক উন্নত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। এতে দেশের বেসরকারি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ কমে গেছে। এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র, জমির ছাড়পত্র পেতে রাজ্য কেন্দ্রে যেসব জটিলতা রয়েছে তাতে শিল্পের বিকাশ ব‌্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, ইস্পাত, সিমেন্ট প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কমেছে। ফলে এই শিল্পে বৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যে কর্পোরেট সংস্কার চলেছে তা বেসরকারি শিল্পে বিনিয়োগের হার কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement