কৃতজ্ঞ খাবরা, বীতশ্রদ্ধ সৌমিক
মুখ ফিরিয়েছেন লাল হলুদ থেকে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই জানুয়ারি — ইস্টবেঙ্গল জার্সি গায়ে খেলেছেন টানা ১১টা বছর। কলকাতা ময়দানের এই পেশাদারি ফুটবলের যুগেও ‘ঘরের ছেলে’ তকমাটা ভীষণভাবে জড়িয়ে গেছে তাঁর নামের সঙ্গে। লাল হলুদের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী সৌমিক দে। শেষ কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম ধারাবাহিক ফুটবলার তিনি। হিন্দমোটরের এই লেফট ব্যাককে এবার আর দলে রাখেননি লাল হলুদ কর্তারা। সৌমিকের সম্মানে কোনো ম্যাচ আয়োজনের ন্যূনতম সৌজন্যও দেখাননি তাঁরা। রাগে, দুঃখে, অভিমানে ফুটবল থেকেই অবসর নিয়ে নিয়েছেন সৌমিক। ইস্টবেঙ্গল যখন আই লিগ খেলছে, তখন দলের শেষ এক যুগের বিশ্বস্ত সেনানীর প্রিয় দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গলা বুজে আসছে চাপা কান্নায়। ‘আমি মন থেকে পারছি ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করতে।

কান্নাভেজা গলাতে কোনোমতে বললেন, গত কয়েকবছরের লাল হলুদ ডিফেন্সের অতন্দ্র প্রহরী। ফুটবল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ী সৌমিক। উত্তরপাড়া স্টেশন রোডে রকমারি দ্রব্যের দোকান খুলেছেন ইস্টবেঙ্গলের এই সদ্য প্রাক্তন। ফুটবল থেকে সরে যেতে চাইলেও তাঁর সব কথাতেই ইস্টবেঙ্গল। ‘ঠিক করেই রেখেছিলাম ইস্টবেঙ্গলে খেলেই অবসর নেবো। কিন্তু এতো তাড়াতাড়ি নিতে হবে ভাবিনি। তবু অন্য দলের প্রস্তাব পেয়েও যেতে পারলাম না। তবে আমি কিন্তু আরও দু-তিন বছর খেলতেই পারতাম।’ ভিতরের চাপা কষ্টটাই যেনো ঠিকরে বেরোচ্ছিলো সৌমিক কথায়। ক্লাবের কোনও অনুষ্ঠানেও আসতে চান না তিনি।

‘ভাই মেরা সাত নাম্বার জার্সি কিসকো মিলা’? কথার মাঝেই প্রশ্নটা ছুড়ে দিলেন হরমনজ্যোৎ সিং খাবরা। সৌমিকের মতোই বহুবছর পর ইস্টবেঙ্গল এবার খাবরাহীন। টানা ৭ বছর ইস্টবেঙ্গলে খেলা খাবরা এবার যোগ দিয়েছেন বেঙ্গালুরু এফ সি-তে। ইস্টবেঙ্গল ছেড়েও খাবরা যেনো ইস্টবেঙ্গলেরই। ৭ নম্বর জার্সির বর্তমান মালিক কে, ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচে কেনো ড্র করলো, বিদেশিরা কেমন খেলছে। ইস্টবেঙ্গলের প্রতিটা খুঁটিনাটি তথ্য সম্বন্ধেই কৌতুহলী খাবরা। ‘পেশাদারি ফুটবলার হিসাবেই আমি এখন বেঙ্গালুরুতে। তবে ইস্টবেঙ্গল আমার হৃদয়ে। এতোদিন কলকাতাই ছিলো আমার ঘর। হরমনজ্যোৎ খাবরাকে আজ সবাই চেনে ইস্টবেঙ্গলের জন্যই। কর্তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য।’ বলছেন কৃতজ্ঞ খাবরা। সেরা মুহূর্ত হিসাবে বেছে নিলেন সেই বিতর্কিত ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান ম্যাচে তাঁর গোল। খাবরা কৃতজ্ঞ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছেও। ‘সমর্থকদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। প্রতিটা মুহূর্তে ওঁরা আমার পাশে ছিলো। ওঁদের ছেড়ে আসতে আমার সত্যিই খুব কষ্ট হয়েছে।’

Featured Posts

Advertisement