তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব
অপ্রত্যাশিত, বলছেন বিরাট

সংবাদসংস্থা

পুনে, ১১ই জানুয়ারি—অধিনায়ক ধোনি অধ্যায় শেষ। পুরোপুরি নয়। নেতৃত্বের কথা বললে অনেকের মনে সবার আগে ধোনির নামই আসে। স্বাভাবিকভাবেই ধোনির সঙ্গে তুলনায় চলে আসে বিরাটের নামও। এই মূহূর্তে তিন ফরম্যাটেই ভারতীয় দলের অধিনায়ক কোহলি। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা হয়তো বলবেন, এটা প্রত্যাশিত। খোদ কোহলির কাছে কিন্তু নয়। এখনই তিন ফরম্যাটের দায়িত্ব আসবে সেটা হয়তো ভাবেননি বিরাট। তিনি নিজেই এমনটা বলছেন। পুনেতে একটি শপিংমলের উদ্বোধনের পর টক শো-তে অংশ নেন বিরাট। অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে বলছেন, ‘ব্যপারটা আমার কাছে এখনো অবাস্তব। কখনোই ভাবিনি আমার জীবনে এই দিনটা আসবে। দলে ঢোকার পর সবসমই শুধু ম্যাচ জেতা, ভালো পারফরম্যান্স, কিভাবে বেশি সুযোগ পাওয়া যায়, ধারাবাহিকতা, এসবের কথাই ভাবতাম।’

সীমিত ওভারে এবারই প্রথম অধিনায়কত্ব করছেন তা নয়। স্টপ গ্যাপ অধিনায়ক হিসেবে মোট ১৭টি ম্যাচে দায়িত্ব সামলেছেন বিরাট। যার মধ্যে ১৪টিতেই জয়। জুনিয়র স্তরেও অধিনায়কত্ব করেছেন বিরাট। ২০০৮সালে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলো ভারত। সিনিয়র স্তরে সব ফরম্যাটে নেতৃত্ব সহজ কাজ নয় বলেই মত। বিরাট জানালেন, ‘ভারতীয় দলের অধিনায়কত্বের বিষয় সবকিছুর থেকে আলাদা। অনেকেই হট সিট হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকে। আকর্ষণ, প্রশংসা, সমালোচনা সবকিছুই রয়েছে এতে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, এই দায়িত্ব ক্রিকেটার হিসেবে আরও উন্নতিতে সাহায্য করে।’

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে নামছে ভারত। রবিবার পুনেতে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। বিরাট, অশ্বিনরা পুনেতে পৌঁছে গিয়েছেনই শুধু নয়, অনুশীলনও শুরু করে দলো এদিন। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচের পর বাকিরাও যোগ দেবেন। সদ্য প্রাক্তন এবং বর্তমান অধিনায়ক প্রসঙ্গও উঠে আসছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অশ্বিন বলেন, ‘সংযোগস্থাপনে পার্থক্য রয়েছে দু-জনের। বিরাট সবসময় আক্রমণাত্মক। রানের পরিবর্তে হলেও উইকেট চায়। নেতৃত্ব এবং জনসংযোগের দিক দিয়ে এখনো সেরা ধোনিই। উইকেটকিপার হিসেবে ওর প্রচুর অভিজ্ঞতা। সে কারণেই, সকলকে বেশি করে পরামর্শ দিতে পারে।’ অশ্বিন আরও যোগ করেন, ‘বিরাট কখনো অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে যায়। সেই বিষয়টির সঙ্গে আমাকে আরও একটু মানিয়ে নিতে হবে। তবে উইকেট নেওয়ার জন্য যদি কিছু অতিরিক্ত রান যায়, সেটি খারাপ কিছু নয়।’

অশ্বিনের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ। শুধু নতুন অধিনায়কই নয়, ফরম্যাটও সমস্যার। সম্প্রতি টানা টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন অশ্বিন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ খেলেছে ভারত। যদিও বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল অশ্বিনদের মতো কয়েকজনকে। দীর্ঘদিন পর সীমিত ওভারের ক্রিকেট মানিয়ে নেওয়া সহজ নয়। অশ্বিন বলছেন, ‘মানসিক বদলটাই সবচেয়ে কঠিন। আমেরিকায় একটি টি-২০ ম্যাচ খেলেছিলাম। সেখান থেকে ফের সীমিত ওভারে নামছি। নিশ্চিতভাবেই সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী তিনদিনের অনুশীলন খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

আইপিএলে কখনো বোলিং ওপেন করতেও দেখা যায় অশ্বিনকে। এই মুহূর্তে সেই সম্ভাবনা কম থাকলেও একেবারে নেই, মানছেন না। অশ্বিন বলেন, ‘এখন শীতকাল। স্পিনারদের দিয়ে বোলিং ওপেন করানোর কোনো মানেই হয় না। কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নতুন বলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না। সেকারণেই নেটে নতুন বলে বোলিং করেছি।’

ধোনিকে নিয়ে আবেগপ্রবণ রোহিত শর্মাও। ধোনির পরামর্শেই ওপেন করা শুরু করেন তিনি। চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে রোহিত। অধিনায়ক ধোনি প্রসঙ্গে রোহিত বলছেন, ‘একদিন হঠাৎ এসে জানালো, আমাকে ওপেনার হিসেবে চায়। আমি ওপেন করতে পারবো, এই বিষয়ে ধোনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলো।’ কোনো ক্রিকেটারকে দ্রুত বুঝে নিতে পারতেন ধোনি, এমনটাই মত রোহিতের।