অ্যাসিড আক্রান্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে রাজ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা

মাথাভাঙা, ২০শে মার্চ — সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানছে না রাজ্য সরকার। রাজ্যে অ্যাসিড আক্রান্ত মহিলাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না সরকার। সোমবার এমনই অভিযোগ করলেন সেভ ডেমোক্র্যাসি ফোরামের রাজ্য সম্পাদক চঞ্চল চক্রবর্তী।

তিনি এদিন অভিযোগ করেন, ২০১৪ থেকে তিন বছরে রাজ্যে মোট ১০১টি অ্যাসিডে আক্রান্ত হবার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার আক্রান্তের পাশে দাঁড়ায়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, অ্যাসিডে কোন মহিলা আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারকেই। কিন্তু দেখা যাচ্ছে গত ৩বছরে ১০ শতাংশ ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরোপুরি দায় এড়িয়ে গেছে সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকায় বলা রয়েছে, কোন মহিলা অ্যাসিডে আক্রান্ত হলে তাকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের মানবিক মুখ দেখা যায়নি। কাউকেই কোনরকম ক্ষতিপূরণ দেয়নি রাজ্য সরকার। এছাড়াও অ্যাসিড বিক্রেতার লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। রাজ্য প্রশাসন এবিষয়ে একেবারেই উদাসীন। সেই সুযোগেই সরাসরি দুষ্কৃতীদের হাতে অনায়াসেই পৌঁছে যাচ্ছে অ্যাসিড।

এদিন চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, অ্যাসিড হামলার ঘটনার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা ব্যবহার করছে নাইট্রিক অ্যাসিড। যা সাধারণত সোনার দোকানে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, অ্যাসিড আক্রান্তদের পাশে সেভ ডেমেক্র্যাসি ফোরামের সদস্যরা সবসময়ই আছেন।

২০১৫সালের ৪ঠা অক্টোবর খোলটা চেকপোস্ট এলাকায় আক্রান্ত কলেজ ছাত্রী পম্পা দাসের বাবা জীবন দাস ২০১৫সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ৩লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে কোচবিহার জেলা লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটির কাছে আবেদন করেছিলেন। এখনও কোনরকম ক্ষতিপূরণ পাননি।

পেশায় সামান্য একজন ফল বিক্রেতা জীবন দাস মেয়ের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব বিক্রি করে দিয়েছেন। অবশিষ্ট রয়েছে শুধুমাত্র ভিটে মাটিটুকু। ক্ষতিপূরণের আশায় তিনি একাধিকবার দ্বারস্থ হলেও জেলাশাসক কোনরকম পদক্ষেপ নেননি। সরকারি উদাসীনতা প্রসঙ্গে চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকারের উচিত ছিলো অ্যাসিড আক্রান্ত কলেজ ছাত্রী পম্পা দাসের পাশে দাঁড়ানো। এক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের মানবিক মুখ কেউই দেখতে পাননি।

এদিন চঞ্চল চক্রবর্তী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুসারে পম্পা দাসের পরিবার যাতে দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা পায় তার জন্য সেভ ডেমেক্র্যাসি ফোরামের পক্ষ থেকে রাজ্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে। আর তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে বড় ধরনের আন্দোলনে নামা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন জীবন দাসের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement