বাবুলের গ্রেপ্তারি
পরোয়ানা পিছলো

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ২০শে মার্চ —কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আরো ছয় সপ্তাহ কার্যকরী করা যাবে না। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক মহুয়া মৈত্র। তিনি আদালতে হাজিরা দেননি। আদালত অমান্যের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

জানুয়ারি মাসে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহুয়া মৈত্র কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়-র বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, মন্ত্রীর একটি মন্তব্যে তাঁর সম্মানহানি ঘটেছে। তিনি এর আইনি প্রতিকার চান। বৈদ্যুতিন চ্যানেলে এক আলোচনায় বাবুল সুপ্রিয়-র তৃণমূল বিধায়ক সম্পর্কে একটি উক্তিকে ঘিরেই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এজলাসে এসে তাঁর বক্তব্য পেশ করার নির্দেশও দিয়েছিল। বাবুল সুপ্রিয় অবশ্য সেই আবেদনে সাড়া দেননি। এরপরেও নগর দায়রা আদালত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে একাধিকবার নির্দেশ মেনে হাজিরা দেওয়ার কথা বলে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাতেও কর্ণপাত না করায় আদালত তখন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এদিন হাইকোর্টে ওই পরোয়ানা যাতে কার্যকরী না হয় তার আবেদন জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আইনজীবী প্রবীর ঘোষ। তিনি আদালতকে জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ব্যস্ততার কারণেই আদালতে হাজির থাকতে পারছেন না। আর মন্ত্রী কোনোভাবেই ওই মহিলা বিধায়ককে অসম্মান করতে চাননি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই বক্তব্য শুনে মন্তব্য করেন, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আইনি ব্যবস্থার প্রতি এই বিমুখ মনোভাব ঘোরতর অন্যায়। তাঁরা যদি আদালত ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি এই ধরনের আচরণ করেন তাহলে তা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। বিচারপতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আদালত অমান্যের সমালোচনা করলেও ছয় সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তাই বিষয়টি এখন কিছুটা হলেও স্বস্তির। যদিও তাঁকে পরবর্তী সময়ে নগর দায়রা আদালতে হাজিরা দিতে হবে। হাইকোর্ট এখনই তাঁকে অব্যাহতি দেয়নি।

Current Affairs

Featured Posts

Advertisement