কৃষকদের দাবি আদায়ে একযোগে
রাস্তায় নামবে শতাধিক সংগঠন

সংবাদসংস্থা

নয়াদিল্লি, ১৭ই জুন— কৃষকদের ক্রোধের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কৃষকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। ‘প্রতিবাদ দিবস’-এ শুক্রবার রাজ্যে রাজ্যে বিক্ষোভ-আন্দোলন ব্যাপক বিস্তৃতি পেয়েছে। দেড় হাজার আন্দোলনকারী, কৃষকনেতাদের গ্রেপ্তার করেও বিক্ষোভ দমাতে পারেনি প্রশাসন। এবার একযোগে প্রচারের কথা ভাবছে শতাধিক সংগঠন। কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কৃষক বিরোধী বি জে পি সরকারের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধভাবে প্রচারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, শনিবার জানিয়েছে সারা ভারত কৃষকসভা। শুক্রবার দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিল এই সংগঠনগুলি।

বিক্ষোভ-আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ মধ্য প্রদেশে গত ন’দিনে ১২জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। শনিবারও একজন কৃষকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু সরকার নিশ্চুপ। অন্যান্য আত্মহত্যার ঘটনাগুলির মতোই এবারও প্রশাসন ব্যস্ত মোড় ঘোরাতে। পারিবারিক বিবাদের জেরেই বছর চল্লিশের জগদীশ মোরি আত্মঘাতী হয়েছেন, দাবি পুলিশের। অথচ ধর জেলার রামপুরা গ্রামের বাসিন্দা জগদীশের ছিল কয়েক লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা। ওই কৃষকের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, চাষের কাজের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মেটাতে পারেননি তিনি। কিন্তু পুলিশ পালটা দাবি করেছে, ওই কৃষক প্রতিদিন মদ্যপান করতেন। শুক্রবার বাড়ির লোকের সঙ্গে অশান্তি হওয়ায় চরম পথ বেছে নিয়েছেন জগদীশ। শিবরাজ সিং চৌহানের নিজের জেলা সিহরের পাশাপাশি হোশাঙ্গাবাদ, রাইসেন, বিদিশাসহ বিভিন্ন জেলায় কৃষকরা ঋণের দায়ে নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। কেন্দ্র এবং রাজ্যের বি জে পি নেতৃত্বাধীন সরকারের কৃষক বিরোধী মনোভাব বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুলিশ গুলি চালিয়ে কৃষকদের খুন করেছে, ক্ষতিপূরণ দিয়ে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়েছে।

এদিকে, উত্তরাখণ্ডেও ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া কৃষিঋণ শোধ করতে না পেরে কীটনাশক খেয়ে চরম পথ বেছে নিয়েছেন এক কৃষক। ঋণ মকুবের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ দেখিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের কৃষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাখণ্ডে কৃষক আত্মহত্যার খবর মেলেনি। সেখানেও দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের অবস্থা এতটাই শোচনীয়, তাঁরা ঋণ শোধ করতে পারছেন না। পিথোরাগড়ের বাসিন্দা সুরেন্দ্র সিং সম্প্রতি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঋণ মকুব বা কৃষকদের দাবি পূরণে একটি শব্দও খরচ করা হয়নি।

‘গো-মাতা’র সুরক্ষায় ব্যস্ত গেরুয়া বাহিনী কৃষকদের দিকে নজর দেওয়ার সময় পাচ্ছে না। কৃষকদের একটি দাবিও যথার্থতা পায়নি। যদিও লাগাতার কৃষক আত্মহত্যার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মিথ্যা গুণগান গাইতে বাধেনি কেন্দ্রীয়মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকরের। ‘পাঁচ বছরে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন বি জে পি সরকার সাত দফা কৌশল নিয়েছে’, শনিবার বলেছেন তিনি। এর আগে বাজেটে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও একই কথা বলেছিলেন। বাস্তবে কিছুই হয়নি। আত্মহত্যার হার বরং দ্বিগুণ হয়েছে, অভিযোগ বিরোধীদের। কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট এদিন রাজস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, ‘বি জে পি সরকারের কাছে কৃষকরা ভোটব্যাঙ্ক মাত্র।’

আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিনন্দন জানিয়ে শনিবার সারা ভারত কৃষকসভার সভাপতি অমরা রাম এবং সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মধ্য প্রদেশ পুলিশের কৃষক হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শুক্রবার দেশজুড়ে ‘প্রতিবাদ দিবস’-র পর সোমবার সেই বিষয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের কথা রয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হবে সেই বৈঠকেই। এছাড়াও রবিবার বৈঠকে বসছে ভূমি অধিকার আন্দোলন নেতৃবৃন্দ। জানা গিয়েছে, ৬ই জুলাই থেকে শুরু কিষান যাত্রার প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬ই জুলাই পর্যন্ত মধ্য প্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, ওডিশায় প্রচার চলবে। পরের ধাপে অন্যান্য জায়গায় প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হবে।