কেন্দ্র-রাজ্যের প্রকল্পে শৌচাগার
তৈরি না করেই সব টাকা
চুরি করেছে তৃণমূলীরা

তদন্তে কেন্দ্রীয় টিম

নিজস্ব সংবাদদাতা

মেদিনীপুর, ১৭ই জুন—মেদিনীপুর সদর ব্লকের ৮নং পাথরা অঞ্চলে ১৩০টি শৌচাগার না করে সেই টাকা চুরি করা হয়েছে এ পর্যন্ত এটা জানা গেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ৬০০০ টাকা এবং রাজ্যের ৪০০০ মোট ১০,০০০ হাজার টাকা প্রতিটি শৌচাগারের জন্য বরাদ্দ ছিলো। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় টিম তদন্তে নেমেছে।

এখনো পর্যন্ত ওই ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৩ লক্ষ টাকা এভাবে আত্মসাৎ করেছে তৃণমূলীরা, প্রাথমিকভাবে এটা ধরা পড়েছে। তদন্ত করলে চুরির পরিমাণ আরো বাড়বে বলেই মানুষের ধারণা। অভিযোগ, তৃণমূলী বিধায়ক দীনেন রায়ের বিধানসভা ক্ষেত্র জুড়ে এমন চুরির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। লুটের পদ্ধতি দেখে কেন্দ্রের তদন্ত টিম অবাক। এই যৌথ প্রকল্পে প্রতি উপভোক্তাকে দরখাস্তের সঙ্গে ৯০০ টাকা জমা দিতে হয়। তৃণমূলী নেতারা এখানে নিজেদের মনোমত নাম দিয়ে ৯০০ টাকা করে জমা দিয়ে দেয়। আর সেই নামে বরাদ্দ অর্থ নেতারা নিজের নামে এবং নিজেদের পরিবারের ও আত্মীয়দের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলে।

পাথরা অঞ্চলের মহাতাপনগর বুথে এগারোটি, ৯টি সাঁকরাইল বুথে এবং বেনাডিহি বুথে ২২টি এই প্রকল্পের টাকা স্থানীয় তৃণমূলী পান্ডা মমতাজ মল্লিক ও তার পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়। একইভাবে বাজপাড়া বুথের ১৪ জনের নামে বরাদ্দ এই প্রকল্পের টাকা সরিয়ে নেয় তৃণমূলী নেতা সেরাজুল হক। এলাকার সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৪৩টি বুথে এমন ঘটনা ঘটেছে। ৮১নং বুথের বেনাডিহিতে শেখ জইনুদ্দিন, শেখ পিয়ার আলি, ঝাড়ু খানদের বাড়িতে কেন্দ্রীয় টিম তদন্ত করতে গেলে তাঁরা বলেন, তাঁদের জন্য এই প্রকল্পে কোনো টাকা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাই কোনও শৌচাগার হয়নি। বাজপাড়া বুথে শেখ জামালউদ্দিন, শেখ আসকার আলিসহ এমন ১৪ জনেরও একইভাবে বরাদ্দ অর্থ সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ সেরাজুল।

এমন লুটের ঘটনায় মানুষের ক্ষোভ দেখে তৃণমূলীরা তাঁদের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে, এমন কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে দুর্নীতি চাপা দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই বিধানসভা কেন্দ্রে গৃহনির্মাণে বরাদ্দ অর্থ খরচ হলেও সাড়ে তিনশোরও বেশি গৃহ ও তার মালিকদের এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করা যাচ্ছে না, অর্থাৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

Featured Posts

Advertisement