শহরে পড়ে থাকছে জঞ্জাল
কর্পোরেশন তৎপর সরকারি
হাসপাতাল সাফাই করতে

নিজস্ব প্রতিনিধি

কলকাতা, ১১ই জুলাই— মজদুরের অভাবে কলকাতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জঞ্জাল অপসারণ পরিষেবা। শহর পরিষ্কার রাখতে মজদুর নিয়োগ করবে না কর্পোরেশন, সিদ্ধান্ত এমনই। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সরকারি হাসপাতাল পরিষ্কার করার যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারজন্য কর্মী নিয়োগ করবে কলকাতা কর্পোরেশন। নিয়োগ হতে পারে ঠিকাদার মারফত বা রাজ্য সরকারের শহুরে রোজগার যোজনার মাধ্যমে। আগামী ১২ তারিখের অধিবেশনে এমনই প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে বলে কর্পোরেশন সূত্রে খবর।

শহরজুড়ে বহু বেলা পর্যন্ত জঞ্জাল পড়ে থাকাটা এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু তাতে বেশি চিন্তিত নয় কর্তৃপক্ষ। এখন মূল চিন্তার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে হবে। তারজন্য মেয়র নিজেই জানিয়েছিলেন, এবার থেকে কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় থাকা সমস্ত সরকারি হাসপাতাল পরিষ্কারের দায়িত্ব নেবে কর্পোরেশনের জঞ্জাল অপসারণ বিভাগ। অথচ তা করার কথা স্বাস্থ্য দপ্তরের। সেই কাজের জন্য মজদুর নিয়োগ করতে চলেছে কর্পোরেশন। ২৭২ জন মজদুর ও ২৮ জন সুপারভাইজার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী অধিবেশনেই তার প্রস্তাব আসতে চলেছে।

কর্পোরেশন সূত্রে খবর, হাসপাতালগুলিতে ১০০ দিনের কর্মী দিয়েই কাজ করাতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। তাই ঠিকাকর্মী নিয়োগ ও ১০০ দিনের কর্মী নিয়োগ, দুই ক্ষেত্রে খরচের হিসাবও ভেঙে স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বলা হচ্ছে, এস এস কে এম এবং বাঙ্গুর হাসপাতালে ৩৫ জন মজদুর এবং ৪ জন সুপারভাইজার ঠিকাকর্মী হিসাবে সাফাইয়ের কাজে যুক্ত থাকবেন, যারজন্য বছরে খরচ হবে ৫৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৯ টাকা। এন আর এস এবং ডাঃ আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ সাফাইয়ে ৪২ জন মজদুর ও ৪ জন সুপারভাইজারকে ঠিকাকর্মী হিসাবে রাখলে বার্ষিক খরচ হবে ৬৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৭৩৯টাকা। চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতাল ও শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে সাফাই কাজের জন্য ঠিকায় ২৫ জন মজদুর ও ৩ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করলে বছরে খরচ হবে ৩৯ লক্ষ ২৭ হাজার ২৮৮ টাকা। একই পদ্ধতিতে এম আর বাঙ্গুর, বিজয়গড় হাসপাতাল, বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, সরশুনা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, নাদিয়াল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের জন্য ৪৬ জন মজদুর ও ৫ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করলে বছরে খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭১ লক্ষ ৪৫ হাজার ১৫৭ টাকা। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ সাফাইয়ের কাজে যুক্ত করা হবে ২২ জন মজদুর ও ২ জন সুপারভাইজার, খরচ হবে ৩৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫৭ টাকা প্রতি বছর। আর জি কর হাসপাতালে ২০ জন মজদুর ও ২ জন সুপারভাইজার রাখা হলে বছরে খরচ হবে ৩০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৪৮২ টাকা। বি সি রায় শিশু হাসপাতালে ৩৪ জন মজদুর ও ৩ জন সুপারভাইজারের জন্য বছরে খরচ হবে ৫১ লক্ষ ৭২ হাজার ৭৭৩ টাকা। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ঠিকাকর্মী হিসাবে সাফাইয়ের কাজে ৪৮ জন মজদুর ও ৫ জন সুপারভাইজারকে নিলে বছরে খরচ হবে ৭৪ লক্ষ ২১ হাজার ৯৩২ টাকা। মোট হিসাবে ঠিকাকর্মী নিয়োগে খরচ দাঁড়াচ্ছে বছরে ৪ কোটি ২০ লক্ষ ৫ হাজার ৬৫৯ টাকা। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ১০০ দিনের কাজের কর্মী নিয়োগ করলে বছরে সেই খরচ দাঁড়াবে ১ কোটি ১১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা। স্বাভাবিকভাবে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে নিয়োগের পথে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

সূত্রের খবর, ইতোমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে ২৫০ জন মজদুরকে নিয়োগ করে ফেলা হয়েছে। কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলির জন্য এঁদের কয়েকজনকে ঠিকাদার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, তবে সিংহভাগ ১০০ দিনের কর্মী। এই মর্মে একটি চিঠি কর্পোরেশনের তরফে পাঠানোও হয়েছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিবের কাছে। প্রশ্ন উঠছে, মহানগরের জঞ্জাল সাফাই কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে কর্পোরেশন। কর্মীর অভাবই পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার মূল কারণ। তাহলে নাগরিক স্বার্থে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ না নিয়ে কেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে হাসপাতাল পরিষ্কারের কাজ নিজের কাঁধে নিল কর্পোরেশন? শুধুই কি মমতা ব্যানার্জিকে খুশি করার জন্য! কর্পোরেশের কর্তারা বলছেন, এমন ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও এমন কাজ করেছে এই পৌরবোর্ড। আসানসোলে খাদান এলাকায় পুনর্বাসনের কাজে আবাসন তৈরি করা, কর্মীদের দিয়ে বাজারে আলু বিক্রি করা, সিঙ্গুরে টাটার কারখানার শেড ভাঙা।

Featured Posts

Advertisement