পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষদের
বঞ্চিত করছে রাজ্য সরকার

শিলিগুড়িতে সামাজিক ন্যায়বিচার মঞ্চের কনভেনশন

নিজস্ব সংবাদদাতা

শিলিগুড়ি, ১৬ই জুলাই — তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অনগ্রসরদের সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষেত্রে প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দেবার দাবি জানালো পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায়বিচার মঞ্চ দার্জিলিঙ জেলা কমিটি। রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে এক সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অধ্যাপক বাসুদেব বর্মণ ও রাজ্য সম্পাদক অলকেশ দাস বলেন, দেশ ও রাজ্যে তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অনগ্রসরদের পড়াশুনা ও সরকারি চাকরি পাওয়া ও পদোন্নতির বিষয়ে সংবিধানগত অধিকার রয়েছে। দলিত মুক্তি শোষণ মঞ্চের অধীন পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায়বিচার মঞ্চের পক্ষ থেকে সমাজের সমস্ত মানুষকে একসাথে নিয়ে এগতে চাই। আমাদের সংগঠন তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অনগ্রসরদের প্রতিনিধিত্ব করে। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তথা পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় বিচার মঞ্চের দার্জিলিঙ জেলা আহ্বায়ক তাপস সরকার।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানে সমাজের এই অংশের মানুষদের উপর সামাজিক ও আর্থিক দিক থেকে যে অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে তাকে প্রতিহত করতে ও এই সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষদের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় বিচার মঞ্চ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রাজ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব দিক থেকেই তফসিলিরা পেছনের সারিতে রয়েছে। সমাজের নিচু স্তরের সমস্ত কাজও করে থাকে এই সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরাই। কিন্তু এদের ওপরেই বর্তমান সময়ে নানাভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। তাদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা ঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে না। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে ভূমিসংস্কার করা হয়েছিল। ফলে তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষেরা জমির অধিকার পেয়েছিলেন। কিছুটা হলেও তাঁরা উপকৃত হয়েছিলেন। এছাড়াও বাম আমলে তফসিলি সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ঘটেছিলো নানা দিক থেকে। বর্তমান সময়ে তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত থাকছে না। বলেন, খেতমজুরদের অধিকাংশই তফসিলি সম্প্রদায়ের। কিন্তু এদের মজুরি বৃদ্ধি হচ্ছে না। ১০০দিনের কাজের সাথেও যুক্ত এঁরাই। কিন্তু কাজের পরেও তারা মজুরি পাচ্ছেন না। এইভাবে বঞ্চনা করা হচ্ছে।

তাপস সরকার বলেন, শিলিগুড়ি মহকুমায় তফসিলি ছাত্রছাত্রীরা আবেদন করা সত্ত্বেও স্টাইপেন্ড পাচ্ছে না। ২০১৬—১৭শিক্ষাবর্ষে মহকুমায় ১৫,৭৯৭জন স্টাইপেন্ডের আবেদন জানালেও পেয়েছে মাত্র ৬,১৩০জন। ২০১৫—১৬শিক্ষাবর্ষেও মহকুমার প্রায় পাঁচ হাজার তফসিলি জাতি ও আদিবাসী ছাত্রছাত্রী স্টাইপেন্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে বঞ্চনা করছে। এবিষয়ে জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠাবেন বলেও তিনি জানান।

এদিন দুপুরে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সভাকক্ষ বাবাসাহেব আম্বেদকার মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ সামাজিক ন্যায় বিচার মঞ্চের দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কনভেনশন হয়। উদ্বোধন করেন বাসুদেব বর্মণ। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন তাপস সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বর্ণবৈষম্য ও নয়া উদারনীতি দ্বারা আর্থ সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধির কারণে তফসিলি ও সমাজের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের জীবন যন্ত্রণা দূর করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা, সংবিধানে লিপিবদ্ধ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রসারিত করা, তফসিলি জাতির মানুষের উন্নয়নের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রকল্পে বরাদ্দ ছাঁটাই ও টাকা নয়ছয়ের বিরুদ্ধে, খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা, তফসিলি জাতি ও অন্যান্য অংশের মহিলাদের শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে, এই সম্প্রদায়ভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের ভরনপোষণ ভাতা, বুক গ্রান্ট, হস্টেলভাতা বন্ধ করার বিরুদ্ধে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের ক্ষেত্রে ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রেসহ শংসাপত্র দেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কনভেনশনে আলোচনা হয়। আলোচনা করেন সংগঠনের অলকেশ দাস, শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, জীবেশ সরকার, তাপস সরকার, মহেন্দ্র রায় প্রমুখ। কনভেনশনে ১২৫জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। নীরদ সিংহ, দীপায়ন রায়, পার্বতী সিংহ, চিত্তরঞ্জন মণ্ডলকে নিয়ে গঠিত সভাপতিমণ্ডলী কনভেনশনের কাজ পরিচালনা করেন। কনভেনশন থেকে সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে তাপস সরকার ও বাদলচন্দ্র সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে গোবিন্দ বর্মণকে নির্বাচিত করে ৩৯জনের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে।